শিরোনাম

বগুড়া, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : বগুড়া-৫ আসনে (শেরপুর ও ধুনট) বিএনপি প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ (জিএম সিরাজ) বলেছেন, রাজনীতি করি মানুষের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য।
উপজেলা দুটি নিয়ে বগুড়া-৫ নির্বাচনী আসনটিও বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত। পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৭৩ সাল থেকে ২০২৪ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ১২টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে ৫ বার বিএনপি প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।
এর মধ্যে ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত আসনটি টানা ৩ বার বিএনপির নেতা জিএম সিরাজের দখলে ছিল। এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে এই দাপুটে নেতাকে ফের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।
বিগত সময়ে জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ। এছাড়া বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য।
ভোটের মাঠে পুরোনো এই খেলোয়ারের সঙ্গে নির্বাচনির হালহকিকত নিয়ে আলাপ হয় বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) বগুড়া জেলা সংবাদদাতা কালাম আজাদের। একান্ত সাক্ষাতকারে তিনি আসন্ন নির্বাচন নিয়ে তার ভাবনা, ভোটারদের প্রতি তার প্রতিশ্রুতির কথা জানিয়েছেন।
বাসস : আপনার স্থানীয় ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী?
গোলাম মোহাম্মাদ সিরাজ: আমি রাজনীতি করি মানুষের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য। শেরপুর-ধুনটের মানুষদের প্রধান সমস্যা কর্মসংস্থান, কৃষির ন্যায্যমূল্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা এই খাতগুলোতেই অগ্রাধিকার দেব। দলমত নির্বিশেষে সকল নাগরিকের জন্য উন্নয়ন নিশ্চিত করাই আমার লক্ষ্য। জনগণের ভোটে আমরা যদি সরকার গঠন করতে পারি, এসব লক্ষ্য অর্জনে বিএনপির ৩১ দফা আমরা বাস্তবায়ন করবো।
বাসস : নির্বাচনী আচরণবিধি সম্পর্কে দলের নেতা-কর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?
গোলাম মোহাম্মাদ সিরাজ: বিএনপি সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক সংগঠন এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমরা বরাবরই শান্তিপূর্ণ রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। নির্বাচন কমিশনের সকল আইন ও আচরণবিধি মেনে প্রচারণা চালানোর জন্য নেতাকর্মীদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা আমরা সমর্থন করি না।
বাসস : জুলাই সনদসহ গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?
গোলাম মোহাম্মাদ সিরাজ: গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে জনগণের মতামত অত্যন্ত জরুরি। গণভোট হলে তা হতে হবে অবাধ ও নিরপেক্ষ, যেন মানুষ ভয়ভীতি ছাড়া নিজের মত প্রকাশ করতে পারে। আর আমাদের দলীয় প্রধান ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে মতামত দিয়েছেন। আমরা আমাদের নেতার মতামতের প্রতি আস্থাশীল।
বাসস : আসন্ন সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?
গোলাম মোহাম্মাদ সিরাজ: একটি নিরপেক্ষ, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রত্যাশা করি। জনগণের রায়ই চূড়ান্ত। সে রায় যাই হোক, গণতন্ত্রের স্বার্থে তা মেনে নেওয়াই রাজনৈতিক শিষ্টাচার।
বগুড়া-৫ আসনে এবার মোট ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন, বিএনপির গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর দবিবুর রহমান (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলনের মীর মো. মাহমুদুর রহমান (হাতপাখা), বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির শিপন কুমার রবিদাস (কাস্তে), এলডিপির খান কুদরত ই সাকলাইন (ছাতা)।
আসনটিতে ১৮৮টি ভোট কেন্দ্রে মোট কক্ষ আছে ১ হাজার ২৩টি। এর মধ্যে ৯৯৭ টি স্থায়ী ও ২৬ টি অস্থায়ী। শেরপুর উপজেলায় মোট ভোটার ৩ লাখ ৬ হাজার ৮৪১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮৬২ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৫৬ হাজার ৯৭৬ জন এবং হিজড়া ভোটার ৩ জন।
ধুনট উপজেলায় ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ২ লাখ ৬৫ হাজার ৪৯৯ জন। এ উপজেলায় পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৩১ হাজার ৪২৫ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৩৪ হাজার ৭১ জন এবং হিজড়া ভোটার ৩ জন।