শিরোনাম

ঢাকা, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ১১-দলীয় জোট মনোনীত ঢাকা-১ আসনের প্রার্থী ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম অঙ্গীকার করে বলেছেন, নির্বাচিত হলে অবকাঠামো উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের সম্প্রসারণ, প্রবাসী কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও জনগণকেন্দ্রিক সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সর্বাঙ্গীণ উন্নয়ন করা হবে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, রাজধানীর নিকটবর্তী হওয়া সত্ত্বেও দোহার ও নবাবগঞ্জ অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত, বিশেষ করে সড়ক যোগাযোগ ও মৌলিক অবকাঠামোর ক্ষেত্রে।
নজরুল ইসলাম বলেন, নবাবগঞ্জের সড়ক, সেতু ও কালভার্টগুলোর অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। অনেক এলাকায় এখনো কাঁচা রাস্তা রয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সেখানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় এবং প্রায় সব এলাকা থেকেই এই অভিযোগ আসে।
তিনি জানান, টেকসই ও কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে অবকাঠামো উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
এ আসনে প্রবাসীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে কর্মরত প্রবাসীদের জন্য একটি সমন্বিত কল্যাণ ব্যবস্থা চালু করা হবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত এই প্রার্থী আরও বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে প্রবাসী ও তাদের পরিবারের জন্য ২৪ ঘণ্টার সেবা নিশ্চিত করা হবে। ইউনিয়ন ভিত্তিক প্রবাসী কল্যাণ বুথ স্থাপন ও প্রবাসী সহায়তা সেল গঠন করা হবে, যাতে বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকদের স্বার্থ, সম্পদ ও পরিবার সুরক্ষিত থাকে।’
প্রবাসে যেতে আগ্রহী যুবকদের দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের অধিকাংশ তরুণ অদক্ষ, তারা কাজের জন্য বিদেশে যায়। চাহিদাভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা দিলে এই চিত্র বদলানো সম্ভব। বিদ্যমান প্রকল্পগুলো সক্রিয় করা, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন ও তারা যাতে মর্যাদার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পায়, সেই ব্যবস্থা করা হবে।’
শিক্ষা প্রসঙ্গে ঢাকা-১ এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নজরুল ইসলাম বলেন, ঢাকার কাছাকাছি হওয়া সত্ত্বেও এখানকার শিক্ষার্থীরা ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হিমশিম খায়। এই এলাকার শিক্ষাব্যবস্থা দুর্বল অবস্থায় রয়েছে।
১১-দলীয় জোট মনোনীত এই প্রার্থী বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও আধুনিক শ্রেণিকক্ষ গড়ে তোলা হবে। নিয়মিত ক্যারিয়ার প্রশিক্ষণ, ক্যারিয়ার সেশন ও উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি কার্যক্রম চালু করা হবে।
বিদেশে পড়তে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য কোচিং ও প্রশিক্ষণ সহায়তাও দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
স্বাস্থ্যখাতের সংকট তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, দোহার-নবাবগঞ্জ এলাকায় মানসম্মত হাসপাতালের অভাব একটি বড় সমস্যা।
ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এখানে দুটি সরকারি হাসপাতাল রয়েছে, কিন্তু শয্যা সংকট, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব, দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও ওষুধের ঘাটতি রয়েছে।’
তিনি একটি হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় এবং অন্যটিকে ৫০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার পাশাপাশি নামকরা বেসরকারি হাসপাতালের শাখা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান।
বেকারত্ব ও মাদকাসক্তিকে বড় সামাজিক সংকট হিসেবে উল্লেখ করে নজরুল ইসলাম বলেন, কর্মসংস্থানের অভাব ও সঠিক দিকনির্দেশনা না থাকায় অনেক তরুণ মাদকে জড়িয়ে পড়ছে। মাদকের সহজলভ্যতা এখানে উদ্বেগজনক।
এ বিষয়ে তিনি কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করার কথা জানান।
নির্বাচনী আচরণবিধি প্রসঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এই প্রার্থী বলেন, তার প্রচারণা বিধি মেনেই পরিচালিত হচ্ছে। তবে, প্রতিপক্ষের মধ্যে প্রচারণা বিধি লঙ্ঘনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
এ সময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা নিয়ম মেনে চলছি, কিন্তু অনেকেই তা করছে না। প্রশাসনের এমন ভূমিকা প্রত্যাশিত নয় এবং প্রয়োগ এক তরফা বলে মনে হচ্ছে।’
প্রচারণা প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনী প্রতীক ও গণভোট উভয়ের পক্ষে ভোট চাওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চাওয়ার পাশাপাশি একটি স্থায়ী ও স্থিতিশীল ভবিষ্যতের জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৪৫ হাজার ১৩৫ জন।
এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৭৬ হাজার ৫০ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৬৯ হাজার ৮৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৫ জন।
এছাড়া এই আসনে পোস্টাল ভোটার রয়েছেন ৮ হাজার ৫১৮ জন।
জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট মনোনীত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মাদ নজরুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা) ছাড়াও এই আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী খোন্দকার আবু আশফাক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নূরল ইসলাম (হাতপাখা), জাতীয় পার্টি’র মো. নাসির উদ্দিন মোল্লা (লাঙ্গল), বাংলাদেশ লেবার পার্টি’র শেখ মো. আলী (আনারস) ও স্বতন্ত্র প্রার্র্থী অন্তরা সেলিমা হুদা (হরিণ) রয়েছেন।