বাসস
  ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪:১২

ঢাকা-১০ হবে সুশাসনের মডেল, জবাবদিহিতায় আসবে সেবা খাতগুলো : শেখ রবিউল আলম

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষ প্রার্থী শেখ রবিউল আলম। ছবি: বাসস

ঢাকা, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১০ আসনকে সুশাসনের একটি অনন্য মডেল হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষ প্রার্থী শেখ রবিউল আলম।

তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে এলাকার জনদুর্ভোগ লাঘবে ওয়াসা, তিতাস ও সিটি কর্পোরেশনের মতো সেবা সংস্থাগুলোকে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য করা হবে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার নির্বাচনী পরিকল্পনা, জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা ও প্রতিশ্রুতি এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন  নিয়ে সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন বাসস-এর রিপোর্টার নাজিউর রহমান সোহেল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক ছাত্র শেখ রবিউল আলম ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সাথে যুক্ত। ধানমন্ডি এলাকার ওয়ার্ড পর্যায় থেকে রাজনীতি শুরু করে এখন তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য।

দীর্ঘ ৩৩ বছরের রাজনৈতিক পথচলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি সবসময় তৃণমূলের মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে ছিলাম। দল আমার ওপর আস্থা রেখেছে এবং আমি বিশ্বাস করি জনগণও আমাকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে গ্রহণ করবে। আর আমি তাদের প্রতিশ্রুতির কাছে দায়বদ্ধ থাকব।’

নির্বাচিত হলে জনগণের জন্য ‘অগ্রাধিকারমূলক’ কাজ কী হবে— এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, তার লক্ষ্য দুটি। প্রথমত, বিএনপির মূল ইশতেহার বাস্তবায়নে একজন সহযোদ্ধা হিসেবে কাজ করা, যাতে দেশে একটি গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয়ত, এলাকার স্থানীয় সমস্যা সমাধান। তিনি বলেন, ‘ধানমন্ডি ও সংলগ্ন আশাপাশের এলাকার প্রধান সমস্যা হলো যানজট, ফুটপাত দখল এবং গ্যাস ও পানির সংকট। জনগণের ভোটে যদি আমি নির্বাচিত হই, তাহলে প্রতিটি সেবা সংস্থাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনব, যাতে মানুষ তাদের ন্যায্য সেবাটি পায়।’

নির্বাচনী পরিবেশ ও আচরণবিধি প্রসঙ্গে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ রবিউল বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিএনপি সব সময় নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ প্রচারণায় বিশ্বাসী। আমার নেতা-কর্মীরা কঠোরভাবে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলছেন এবং এর কোনো ব্যত্যয় ঘটবে না।’

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতা অবলম্বন করছে, প্রচার-প্রচারণায় বেশ কিছু বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে, সকল প্রার্থী এবং দল সেগুলো মানতে বাধ্য। আমি একজন বিএনপির প্রার্থী হিসেবে এই আচরণ বিধিমালার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তিনি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার প্রতিও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।’

জুলাই সনদ ও রাষ্ট্র সংস্কার প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘আমি নিজে জুলাই আন্দোলনের একজন যোদ্ধা ছিলাম। রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনার পরিবর্তনের জন্য যে জুলাই সনদ তৈরি হয়েছে, আমরা বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে তাতে একমত হয়েছি। নির্বাচনের দিন জুলাই সনদের ওপর যে গণভোট হবে, আমরা সেখানে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সংস্কার প্রক্রিয়ায় কিছু অসামঞ্জস্য থাকলেও গণতন্ত্রের স্বার্থে তা মেনে নিয়েছে বিএনপি। সবার আগে আমরা জনগণের অধিকারকে প্রাধান্য দিচ্ছি। সেজন্য সংস্কার প্রক্রিয়ায় কিছু ভুলত্রুটি মেনে নিয়েছি আমরা।’

ভোটারদের উদ্দেশে বিএনপির এই প্রার্থী বলেন, ‘এবারের নির্বাচন কেবল প্রতিনিধি বাছাইয়ের নির্বাচনের নয়, এটি আগামী দিনের রাষ্ট্র মেরামতের নির্বাচন। এই নির্বাচন নির্ধারণ করবে আগামী দিনে রাষ্ট্র আপনার চাওয়া অনুযায়ী চলবে কি না। সেই সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠিত করতেই এই নির্বাচন। সুতরাং যোগ্য দল এবং প্রার্থীদের নির্বাচিত করতে ভোটারদের প্রতি আবার আহ্বান থাকবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চাই, বাংলাদেশের গণতন্ত্র, জনগণের ক্ষমতায়ন এবং সরকারের নতুন যাত্রা শুরু করতে চাই। তাই ভোটারদের প্রতি আমার অনুরোধ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে এবারের নির্বাচন জাতীয় স্বার্থের নির্বাচন।’ তিনি জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে ভোটারদের কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে রাষ্ট্রের মালিকানা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান বিএনপির ধানের শীষ প্রার্থী রবিউল আলম।’

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের অপপ্রচারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ভিত্তিহীন অভিযোগের সংস্কৃতি থাকলেও তা বড় বাধা নয়। জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই সকল ষড়যন্ত্রের জবাব দেবে বলে তিনি দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্ত করেন।’

ধানমন্ডি, কলাবাগান, নিউমার্কেট ও হাজারীবাগ নিয়ে ঢাকা-১০ আসন গঠিত। নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, এ আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৬১৩জন।

বিএনপির এই প্রার্থী ছাড়াও আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন— জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. জসীম উদ্দীন সরকার, জাতীয় পার্টির বহ্নি বেপারী, এবি পার্টির নাসরীন সুলতানা, লেবার পার্টির আবুল কালাম আজাদ, মুক্তিজোটের মো. আনিছুর রহমান, জনতার দলের মো. জাকির হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আ. আউয়াল, আমজনতার দলের আব্দুল্লাহ আল হুসাইন।