বাসস
  ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৩১
আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৩৫

ভবদহের জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করবেন গোলাম রসুল 

যশোর-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. গোলাম রসুল। ছবি: বাসস

যশোর, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : যশোর-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. গোলাম রসুল নির্বাচিত হয়ে ভবদহের জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাসসকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। 

যশোরের বাঘারপাড়া ও অভয়নগর উপজেলা এবং সদর উপজেলার বসুন্দিয়া ইউনিয়ন নিয়ে যশোর-৪ আসন গঠিত। এ আসনের মধ্যে অভয়নগরে একটি নৌবন্দর রয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি বড় ব্যবসা কেন্দ্রও এটি।

আসনটিতে মোট ১৮টি ইউনিয়ন ও দুইটি পৌরসভা রয়েছে। মোট ভোটার সংখ্যা চার লাখ ৫৮ হাজার ৫শ’ ৩১ জন। যার মধ্যে পুরুষ দুই লাখ ২৮ হাজার ৪৩৩, নারী দুই লাখ ৩০ হাজার ৯৪ এবং তৃতীয় লিঙ্গের চারজন রয়েছেন। এ আসনে পোস্টাল ব্যালটে ভোট প্রদানের জন্য ৮ হাজার ৯০৪ রেজিস্ট্রেশন করেছেন। 

এই আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. গোলাম রসুল যশোর জেলা জামায়াতের আমির। 
২০২৪ সালের অক্টোবরে তিনি যশোর জেলা জামায়াতের আমির নির্বাচিত হন। এর আগে তিনি জেলা জামায়াতের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। পেশাগত জীবনে শিক্ষক গোলাম রসুল যশোর আলহেরা ডিগ্রি কলেজে শিক্ষকতা করেন।

বাসসের পক্ষে তার সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন বাসসের যশোর জেলা সংবাদদাতা মো. সাইফুল ইসলাম। 

বাসস: আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি কী? 

গোলাম রসুল: যশোর-৪ আসনের মধ্যে ভবদহ জলাবদ্ধ এলাকা। ৩৫ বছর ধরে এখানকার মানুষ এ সমস্যায় ভুগছেন। জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠন করতে পারলে এ সমস্যার একটা স্থায়ী সমাধান করবো বলে আমি এখানকার মানুষকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। অভয়নগরের নওয়াপাড়া একটি শিল্পশহর। দুর্নীতিসহ নানা কারণে এখানকার অনেক শিল্প ও কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। সেগুলো চালু করার চেষ্টা করবো। ভৈরব নদের তীরে নওয়াপাড়া নৌ বন্দর। ভৈরব নদ ভরাট হয়ে যাওয়ায় এখানে বড় জাহাজ আসতে পারে না। তাই ভৈরব নদ সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। নওয়াপাড়া শিল্পশহরকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজমুক্ত করবো। 

বাঘারপাড়া ও অভয়নগরে ৫০ শয্যার দুটি হাসপাতাল রয়েছে। আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, নির্বাচিত হতে পারলে এ দুটি হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করবো। দুই উপজেলায় দুটি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। যাতে বেকার জনগোষ্ঠী এখানে প্রশিক্ষণ নিয়ে স্বাবলম্বী হতে পারে। 

বাসস : নির্বাচনি আচরণবিধি প্রতিপালনে নেতা-কর্মীদের কীভাবে নির্দেশনা দিচ্ছেন?
গোলাম রসুল: আমরা আইন মেনে চলতে চাই। এজন্য আমার নেতা-কর্মী সবাইকে বলে দিয়েছি সবাই যেন নির্বাচনি আচরণবিধি একশ ভাগ মেনে চলে। 

বাসস : জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী ?

গোলাম রসুল : আমরা সভা, সমাবেশ এমনকি ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমেও সবাইকে বলে দিয়েছি হ্যাঁ-এর পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য। আমরা বলেছি, হ্যাঁ-এর পক্ষে ভোট দেওয়া মানে আজাদি, না-এর পক্ষে ভোট দেওয়া মানে গোলামি। 

বাসস : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী ? 

গোলাম রসুল : সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রথম প্রয়োজন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড। কিন্তু আমরা দেখছি যশোরের বিভিন্ন স্থানে আমাদের নারী কর্মীদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। হুমকি দেওয়া হচ্ছে। প্রচারণায় বাধা দেওয়া হচ্ছে। বাঘারপাড়া, অভয়নগর হুমকি ও বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। প্রশাসনের কাছে বারবার আবেদন করলেও অস্ত্রধারী ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না। তাই নির্বাচনের আগেই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা জরুরি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে মোট সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের অন্যান্যরা বিএনপির মতিয়ার রহমান ফারাজী, জামায়াতে ইসলামীর মো. গোলাম রসুল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বায়েজীদ হোসাইন, খেলাফত মজলিসের মাওলানা আশেক এলাহী, জাতীয় পার্টির মো. জহুরুল হক, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির সুকৃতি কুমার মণ্ডল ও স্বতন্ত্র এম. নাজিম উদ্দীন আল আজাদ।