শিরোনাম

যশোর, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বাসস): ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর ১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আজীজুর রহমান শার্শার জলাবদ্ধতা নিরসন করে কৃষি উৎপাদনের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির অঙ্গীকার করেছেন।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে বাসসকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
মুহাম্মদ আজীজুর রহমান দীর্ঘকাল জামায়াতের রাজনীতিতে সক্রিয় । তিনি পেশায় শিক্ষক। শিক্ষিত, নম্র, ভদ্র, মার্জিত হিসেবে এলাকায় তার সুনাম রয়েছে।
তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাসসের যশোর জেলা সংবাদদাতা মো. সাইফুল ইসলাম।
বাসস: আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি কী?
আজীজুর রহমান: শার্শায় জলাবদ্ধতার কারণে প্রতিবছর বহু কৃষিজমিতে চাষ করা সম্ভব হয় না। এসব স্থানে খাল খননের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন করে প্রতি বিঘা জমিকে চাষের আওতায় আনতে চাই। শার্শা এলাকার রাস্তাঘাটের অবস্থা খুবই খারাপ। এগুলোকে টেকসই রাস্তায় পরিণত করতে চাই। উপজেলার একমাত্র ৫০ শয্যার হাসপাতালটির অবস্থা খুবই জরাজীর্ণ। এর উন্নয়ন দরকার। পাশাপাশি বেনাপোলে একটি ৫০ শয্যার হাসপাতাল করতে চাই। দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর বেনাপোল, অথচ এখানকার আয়ের চারভাগের একভাগও সরকার পায় না। সুযোগ পেলে আমি এখানকার ঘুষ, দুর্নীতি, অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা বন্ধ করে এই আয়কে চারগুণ বাড়াতে চাই। যাতে দেশবাসী উপকৃত হয়। আল্লাহ সহায় হলে শার্শাকে মাদকমুক্ত এলাকায় পরিণত করতে চাই। ঘুষ, দুর্নীতি বন্ধ করতে চাই। শার্শার প্রতিটি নারী ঘরে, বাইরে, রাস্তাঘাটে, কর্মক্ষেত্রে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও সম্মান নিয়ে চলাফেরা করতে পারে সে ব্যবস্থা করতে চাই।
বাসস: নির্বাচনি আচরণবিধি পালনে নেতাকর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?
আজীজুর রহমান: আমি মনে করি নির্বাচনি আচরণবিধি সম্পূর্ণ যৌক্তিক। আমার নেতা-কর্মীদের এই আচরণবিধি সম্পূর্ণরূপে মেনে চলার জন্য উদ্বুদ্ধ করছি।
বাসস : জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী ?
আজীজুর রহমান: আমরা দেশকে গণতান্ত্রিক, মানবিক ও স্বৈরশাসনমুক্ত করতে চাই। এজন্য গণভোটে অংশ নিয়ে সকলকে ‘হ্যা’ জয়যুক্ত করা উচিত বলে আমরা মনে করি।
বাসস: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনার প্রত্যাশা কী?
আজীজুর রহমান: সরকার ও নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আমরা এই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন চাই। জনগণ যাতে নির্ভয়ে তার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে।
যশোরের সীমান্তবর্তী শার্শা উপজেলা নিয়ে যশোর-১ আসন গঠিত। দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর বেনাপোল এই আসনের অন্তর্ভুক্ত। ১১ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ১১ হাজার ৬৩৩ জন। যার মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৫৫ হাজার ৮০৭ জন, নারী ১ লাখ ৫৫ হাজার ৮২৩ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ৩ জন ভোটার রয়েছেন।
আসনটিতে এবার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছেন ৩ হাজার ২১৬ জন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-১ আসনে প্রার্থী হয়েছেন চারজন। অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন বিএনপির মো. নূরুজ্জামান লিটন, জাতীয় পার্টির মো. জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. বক্তিয়ার রহমান।