শিরোনাম

সুনামগঞ্জ, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বাসস) : জেলার ৪টি উপজেলা (ধর্মপাশা-মধ্যনগর-জামালগঞ্জ-তাহিরপুর) নিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জ-১ আসন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনকে নিয়ে দেশ-বিদেশের ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে।
আর সুনামগঞ্জ-১ আসনকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা তোফায়েল আহমদ খাঁন। তোফায়েল আহমদ খাঁন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসব) কে এসব পরিকল্পনার কথা জানান।
মাওলানা তোফায়েল আহমদ ছাত্রজীবনে সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্র শিবিরের সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে তিনি জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ও একটি মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত আছেন। তোফায়েল আহমদ সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার দক্ষিণবড়দল ইউনিয়নের বড়দল গ্রামের বাসিন্দা।
তোফায়েল আহমদ খাঁন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) কে নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাসসের সুনামগঞ্জ জেলা সংবাদদাতা মুহাম্মদ আমিনুল হক।
বাসস: আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী?
তোফায়েল আহমদ: সুনামগঞ্জ-৫টি আসনের মধ্যে এটি হচ্ছে সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ আসন। যেখানে রয়েছে ৩টি শুল্ক ষ্টেশন, পর্যটন স্পট, বালু-পাথর ও মৎস্য সম্পদের অভয়াশ্রম। এইসব প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার ও পরিকল্পনার মধ্য দিয়েই এ এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন সম্ভব। তাই মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ও দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য পরিকল্পনামাফিক কাজ করবো।
সরকারি সহায়তা ও যাকাতের টাকার সম্বন্বয়ে দারিদ্র বিমোচনের চেষ্টা করবো। শিল্পাঞ্চল খ্যাত এই এলাকায় লুটপাট হতে দেবো না। সুষম বন্টন আর ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠাই আমার লক্ষ্য।
মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে আমার। শ্রমিকদের দাবি নিশ্চিত করার পাশাপাশি দলমত নির্বশেষে সকল সম্প্রদায়ের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে এলাকায় উন্নয়ন কাজে সম্পৃক্ত করবো। এছাড়াও আধুনিক ও কর্মমুখী শিক্ষা চালুর মধ্য দিয়ে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলে সমাজের মূলধারায় জীবনমান উন্নয়ন করার পরিকল্পনার কথা ব্যক্ত করেন তিনি।
বাসস: আপনার এলাকার ভোরটারদের জন্য নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে নির্দেশনা কী?
তোফায়েল আহমদ: নির্বাচনী আচরণবিধির প্রতি আমরা শ্রদ্বাশীল। নিজেও আচরণবিধি মেনে চলছি। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আচরণবিধি সম্পর্কে নেতা কর্মীদের পাশাপাশি ভোটারদেরও অবগত করছি। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আচরণবিধি প্রতিপালনের বিকল্প নেই।
বাসস: জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?
তোফায়েল আহমদ: জুলাই সনদ ১৮ কোটি মানুষের প্রাণের দাবি। সুদীর্ঘ সময় দেশের মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলো। ইচ্ছে মতো ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। ফ্যাসিজমকে বিদায় করতে এই দেশের ছাত্র-জনতা জুলাই গণঅভ্যূত্থান করেছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের পরিবর্তন আসবে। তাই আমরা গণভোট ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে কাজ করছি।
বাসস: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?
তোফায়েল আহমদ: জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাররা নির্ভয়ে তাদের ভোট প্রয়োগ করবে। যেখানে থাকবেনা কোন প্রকার দখলবাজি, হুমকি-দামকি। ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিবে।
এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১ হাজার, ৫ শত ৫। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৬ হাজার, ১৮৫ জন, মহিলা ভোটার ২ লাখ ৪৫ হাজার ৩৬০ জন, তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১০ জন।
এই আসনে প্রতিন্ধন্ধিতা করছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুল, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা তোয়ায়েল আহমদ খান ও নেজামে ইসলাম পার্টির মাওলানা মোজ্জামিল হক।
হাওরবাওড়ের জেলা সুনামগঞ্জ। সুনামগঞ্জের মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে ঘেরা ১ আসন। এ আসনে রয়েছে খনিজ সম্পদ, যার মধ্যে বালু-পাথর মহাল, মৎস্য ভান্ডার খ্যাত টাঙ্গুয়ার হাওর। পর্যটনের জন্যও এই আসনের দেশে-বিদেশে খ্যাতি রয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গনভোটকে ঘিরে এই আসনে জমে উঠেছে নির্বাচনী হাওয়া। অবাল, বৃদ্ব, যুবক সবারই নজর ১ আসনের দিকে। কে হচ্ছেন এই আসনের কান্ডারী। প্রতিদিনই নির্বাচনী মিছিল, মিটিং হচ্ছে প্রতিটি উপজেলার হাটবাজারে গ্রামে গঞ্জে। কেউবা সুর তুলছেন পরিবর্তনের। কেউবা আবার উন্নয়নের। ভোটাররা নিরব ভূমিকায়। গুরুত্বপূর্ণ এই আসনটিতে কেউ কাউকে ছাড়দিতে রাজি নন।