শিরোনাম

ভোলা, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বাসস): আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুফতি মাওলানা মো. ফজলুল করিম বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণে কাজ করার কথা বলেছেন।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
জেলা জামায়াত সূত্র জানায়: মুফতি মাওলানা মো. ফজলুল করিম ১৯৫৭ সালে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কুতুবা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ল্ড লক্ষ্মীপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত আলেম পরিবারে জম্মগ্রহণ করেন। তিনি ওই গ্রামের বাসিন্দা মরহম মাওলানা মো. আব্দুল মান্নান এবং আয়শা বেগম দম্পতির ৭ ছেলে-মেয়ের মধ্যে বড় সন্তান। তিনি বোরহানউদ্দিন ফাজিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল শেষ করে বোরহানউদ্দিন কামিল মাদ্রাসা থেকে আলিম, ফাজিল ও হাদিস বিভাগ থেকে কামিল পাশ করেন। এরপর বরিশালের সাগরদী আলিয়া মাদ্রাসা থেকে ফিকাহ শাস্ত্রে কামিল ডিগ্রী অর্জন করেন। তিনি ভোলা দারুল হাদিস কামিল মাদ্রাসায় ৪৩ বছর শিক্ষকতা শেষে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি তার জীবনে ইসলামী রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯৪ সালে জামায়াতে ইসলামীর সুরা সদস্যের দায়িত্ব পান তিনি। ভোলা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর ছিলেন। বর্তমানে তিনি এ দলের কেন্দ্রীয় গবেষণা সেলের সদস্যের দায়িত্বে রয়েছেন।
জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত এ প্রার্থী আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হলে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে তার পরিকল্পনা কি হবে, তা নিয়ে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) এর মুখোমুখি হন জামায়াতে ইসলামীর এই প্রার্থী।
তার আগামীর মিশন ও ভিশন সম্পর্কিত সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন, বাসসের ভোলা জেলা সংবাদদাতা আল-আমিন শাহরিয়ার।
বাসস: আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি কী?
মো.ফজলুল করিম: ভোলা-২ আসনটি নদী ভাঙুলী একটি বিস্তীর্ণ অবহেলিত জনপদ। এখানকার দঃখ দুর্দশায় ভরা এ এলাকার মানুষের জীবন-মান খুবই হতাশাজনক। এখানকার প্রধান সমস্যা নদীর ভাঙন। আমি নির্বাচিত হলে সর্ব প্রথম কাজ হবে স্বল্প মেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে নদীর ভাঙন প্রতিরোধ করা। টেকসই বেড়ীবাঁধ নির্মাণ করতে পারলে এতদাঞ্চলের মানুষগুলোর মধ্যে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে আসবে বলে আমি মনে করছি।
বাসস: নির্বাচনী আচরনবিধি পালনে নেতাকর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?
মো. ফজলুল করিম: নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে আমাদের নেতাকর্মীরা খুবই সচেষ্ট। আমাদের দলের কেন্দ্রীয় আমীর ডা.সফিকুর রহমানের নির্দেশনানুযায়ী জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী ও সমর্থকরা যথাযথভাবে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলছেন। তাছাড়া স্থানীয়ভাবেও আচরণবিধি পালনে আমরা সবসময় মনিটরিং টিম রেখেছি।
বাসস: জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?
মো. ফজলুল করিম: জুলাই যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে আমরা একটি মুক্ত বাংলাদেশ পেয়েছি। একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার স্বপ্নে বিভোর হয়ে রাজপথে নেমে অধিকার আদায়ের সংগ্রামে অসংখ্য ছাত্রজনতা জীবন দিয়েছেন, পঙ্গু হয়েছেন লাখো নারী-পুরুষ। ছাত্রজনতার সেই আত্মদানকে জীবিত রাখতেই জুলাই সনদ। আমরা প্রথম থেকেই জুলাই সনদে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ছিলাম, আছি এবং থাকবো।
বাসস: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনার প্রত্যাশা কী?
মো.ফজলুল করিম: আমি যদি নির্বাচিত হই অথবা আল্লাহ চাইলে জনগণ যদি আমাকে নির্বাচিত করেন, তাহলে ইসলামের সোনালীযুগের শাসকরা যেভাবে ন্যায় এবং ইনসাফের শাসন চালিয়েছিলেন, তার কিঞ্চিৎ পরিমাণ হলেও আমি সেই সাধ নিবো ইনশাআল্লাহ। আমার জনপদের মানুষ যেনো বৈষম্যহীন ক্ষুধা আর দারিদ্র্যমুক্ত এক ইনসাফের রাষ্ট্র দেখতে পান এমন প্রত্যাশা-ই আমি ধারণ করছি।
দ্বীপজেলা ভোলার দৌলতখান-বোরহানউদ্দিন উপজেলা নিয়ে গঠিত ভোলা-২ আসন। সর্বশেষ জরিপের পরিসংখ্যান অনুযায়ী মোট ভোটার সংখ্যা (জানুয়ারি ২০২৬ইং সাল পর্যন্ত) ৩ লাখ ৯৫ হাজার ৫৪৬ জন। পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৬৪ হাজার ৩৩ জন। নারী ভোটার ১লাখ ৮৯ হাজার ১১২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ জন।
এই আসনে এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনদলের তিনজন। এরা হলেন -বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকে হাফিজ ইব্রাহিম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মুফতি মসওলানা মো.ফজলুল করিম দাঁড়িপাল্লা প্রতীক এবং বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক পার্টি এলডিপি ছাতা প্রতীকে মোফাক্কার চৌধুরী। তবে আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর সাথে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থীর হাড্ডা হাড্ডি লড়াই হবে বলে মনে করছেন সেখানকার রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ।