বাসস
  ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭:৪৬
আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮:১০

বোরহানউদ্দিন-দৌলতখানকে শিল্প নগরীতে রূপান্তর করবো: বিএনপি প্রার্থী হাফিজ ইব্রাহিম

বিএনপি প্রার্থী সাবেক এমপি হাফিজ ইব্রাহিম। ছবি : বাসস

ভোলা, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বাসস) : দ্বীপজেলা ভোলার দৌলতখান-বোরহানউদ্দিন উপজেলা নিয়ে গঠিত ভোলা-২ আসন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা ২ আসনের বিএনপি প্রার্থী সাবেক এমপি হাফিজ ইব্রাহিম বোরহানউদ্দিন-দৌলতখান শিল্প নগরীতে রুপান্তর করার অঙ্গীকার করেছেন। 

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি কার অঙ্গীকারের কথা জানান। 

হাফিজ ইব্রাহিম ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কুড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মো. জয়নাল আবেদীন এবং মা হালিমা খাতুন। হাফিজ ইব্রাহিম বিশিষ্ট ব্যবসায়ী গিয়াসউদ্দীন আল মামুনের বড়ভাই। হাফিজ ইব্রাহিম ও স্ত্রী মারফুজা ইব্রাহিম দম্পতির এক সন্তান ব্যারিস্টার মারুফ ইব্রাহিম আকাশ।

হাফিজ ইব্রাহিম বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। তিনি ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংকের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) হয়ে ২০০১ সালে (১১৬) ভোলা-২ (দৌলতখান-বোরহানউদ্দিন) থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। হাফিজ ইব্রাহিম জাতীয় দৈনিক খবরপত্র পত্রিকার প্রকাশক। তিনি একজন ব্যাবসায়ী। 

ভোলা-২ আসনের সাবেক এই সংসদ সদস্য হাফিজ ইব্রাহিম আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দলীয় মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হলে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে তার পরিকল্পনা কি হবে তা নিয়ে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) এর মুখোমুখি হন সাবেক সংসদ সদস্য হাফিজ ইব্রাহিম। 

তার আগামীর মিশন ও ভিশন সম্পর্কিত সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বাসস এর ভোলা জেলা সংবাদদাতা আল-আমিন শাহরিয়ার।

বাসস: আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি কী?

হাফিজ ইব্রাহিম: ধন্যবাদ বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)'কে। দ্বীপজেলা ভোলার খনিজ গ্যাস সমৃদ্ধ জনপদের নামটি-ই হচ্ছে বোরহানউদ্দিন-দৌলতখান উপজেলা। আমি যখন এই আসনের সাংসদ ছিলাম তখন এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। রাস্তা, কালভার্ট, নদী ভাঙনরোধে ব্লকবাঁধ নির্মাণ, স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির নির্মাণ, গণশিক্ষা কেন্দ্র স্থাপন, নারীর ক্ষমতায়নের ভারসাম্য রক্ষা, হাসপাতাল, কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ, জেলেদের পুনর্বাসন, আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান ও অন্ধকারাচ্ছন্ন জনপদকে বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত করাসহ প্রতিটি সেক্টরে ব্যাপক পরিবর্তন করেছি। ২০০৬ সালের পর ক্ষমতা দখলে নিয়ে এখানে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ আর কোনো প্রকার উন্নয়ন করেনি; বরং আমার করে যাওয়া উন্নয়ন কর্মকান্ডগুলোর ক্ষতি সাধন করেছে। তাই অতীতের মতো এবারও জনগণের রায় পেলে গ্যাস সমৃদ্ধ বোরহানউদ্দিন-দৌলতখানের ব্যাপক উন্নয়ন করবো। শিল্ল, কলকারখানা স্থাপনের মাধ্যমে এই জনপদকে শিল্প নগরীতে রুপান্তর করবো।

বাসস: নির্বাচনী আচরনবিধি পালনে নেতাকর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?

হাফিজ ইব্রাহিম: আমি সবসময় নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে বিশ্বাসী। তাই আমার প্রতিটি নেতাকর্মী ও সমর্থকদেরকে শতভাগ নির্বাচনী আচরণবিধি পালনের নির্দেশ দিয়েছি। তাই তারা আচরণবিধি পালনে সচেস্ট রয়েছেন।

বাসস: জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?

হাফিজ ইব্রাহিম: বিষয়টি একেবারে সুস্পষ্ট। জুলাই গণঅভ্যুত্থান না হলে আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ পেতামনা। মানুষ নিজের অধিকারের আশা ছেড়ে দিতো। জাতি একটি গোলামীর ফ্যাসিবাদের কাছে আজীবন জিম্মি থাকতো। ছাত্র-জনতা এবং বিএনপি নেতাকর্মীরা জালেম শোষকের বিরুদ্ধে যুদ্ধকরে জীবন দিয়ে যেভাবে বাংলাদেশকে রক্ষা করেছ, পৃথিবীর ইতিহাসে এটি একটি ঐতিহাসিক বিরল ঘটনা। তাই জুলাই সনদ বিষয়ে গণভোটে আমরা ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে রয়েছি। সকলকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে জুলাইকে ধারণ করতে নির্দেশ দিয়েছি।

বাসস: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনার প্রত্যাশা কী?

হাফিজ ইব্রাহিম: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমার প্রত্যাশা অন্য সকলের মতই। আমি অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ একটি ভোট চাই। দীর্ঘ ১৭বছর যে মানুষগুলো তাদের পবিত্র আমানতের ভোট দিতে পারেননি। মৌলিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। তাই এবার জনগণ যেনো উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে শঙ্কাহীনভাবে ভোট দিতে পারেন। প্রশাসনের কাছে আমার আকুল আবেদন, তারা যেনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড অক্ষুণ্ন রাখেন।

ভোলা-২ আসনে এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ধানের শীষ প্রতীকে হাফিজ ইব্রাহিম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মুফতি মো. ফজলুল করিম দাঁড়িপাল্লা প্রতীক এবং বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক পার্টি এলডিপি ছাতা প্রতীকে মোফাক্কার চৌধুরী। তবে এ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর সাথে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থীর হাড্ডা হাড্ডি লড়াই হবে বলে মনে করছেন সেখানকার রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ।

সর্বশেষ জরিপের পরিসংখ্যান অনুযায়ী মোট ভোটার সংখ্যা (জানুয়ারি ২০২৬ইং সাল পর্যন্ত) ৩ লাখ ৯৫ হাজার ৫৪৬ জন। পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৬৪ হাজার ৩৩ জন। নারী ভোটার ১লাখ ৮৯ হাজার ১১২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ জন।