শিরোনাম

শেরপুর, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বাসস): শেরপুর সদর-১ আসনের জামায়াত প্রার্থী হাফেয রাশেদুল ইসলাম বলেছেন, একটি ভঙ্গুর জনপদের জেলা শেরপুর। এই ভঙ্গুর জনপদের প্রধান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে এখানকার জনপ্রশাসনকে আমি ঢেলে সাজাতে চাই।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বচন নিয়ে সম্প্রতি বাসসকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
রাশেদুল ইসলাম শেরপুর-১ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত এমপি প্রার্থী। পাশাপাশি তিনি ধানমন্ডি থানা জামায়াতের আমীর, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মজলিশে শুরা সদস্য ও সাবেক ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি। হাফেয রাশেদুল একজন ইসলামী চিন্তাবিদ, সমাজসেবক, ব্যবসায়ী উদ্যোক্তা ও রাজনীতিবিদ।
রাশেদুল ইসলাম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি, গণভোট ও নানা প্রত্যাশার কথা বলেছেন।
তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) শেরপুর জেলা সংবাদদাতা মো. জাহিদুল খান সৌরভ।
বাসস : আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী?
হাফেয রাশেদুল ইসলাম: বিগত স্বৈরাচারের আমলে শেরপুর জেলায় দুর্নীতি, দুঃশাসন, বিশেষ করে ঘুষ বাণিজ্য আমাদের প্রশাসনকে শেষ করে দিয়েছে। এসকল সমস্যা থেকে প্রাশাসনকে মুক্ত করার ইচ্ছা আছে আমার। এছাড়া সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে পারলে এই আসনের সকল মানুষের প্রাণের দাবি মেডিকেল কলেজ, রেল লাইন, পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় এবং একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের চেষ্টা করব।
বাসস: নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে নেতা-কর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?
হাফেয রাশেদুল ইসলাম: নির্বাচন কমিশন কর্তৃক সকল বিধিমালা সম্পূর্ণরূপে মেনে চলার নির্দেশনা দিয়েছি আমাদের নেতাকর্মীর প্রতি। এছাড়া আমার অনুরোধ থাকবে অন্য যে সকল প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন তারাও যেন আচরণবিধি সঠিকভাবে পালন করেন। আর এ বিষয়টিতে যেন প্রশাসন সজাগ দৃষ্টি রাখে। এছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালত যেন নির্বাচনী আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এখন পর্যন্ত আমার সকল নেতা কর্মী নিয়ম-কানুন সর্বোচ্চ মানার চেষ্টা করছে। আশা করছি আগামী দিনেও তারা সকল নির্বাচনী আইন কানুন যথাযথভাবে মেনে চলবে।
বাসস: জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?
হাফেয রাশেদুল ইসলাম: আমরা এখন পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ক্যাম্পেইন চালিয়েছি। এখনো আমরা যখন বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছি তখন অর্ধেকের বেশি সময় কথা থাকে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে। বিষয়টা এরকম যে আমি নির্বাচন নিয়ে যখন কথা বলছি তখন সব কথা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে যাচ্ছে। সুতরাং আমরা যখন নির্বাচনী ক্যাম্পেইন করছি, তখন সেই কথা সাধারণ ভোটারদের ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রতি উদ্বুদ্ধ করছে। আমি আশা করছি আগামী ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে শেরপুর তথা দেশের সকল ভোটার ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে রায় দিবে।
বাসস: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?
হাফেয রাশেদুল ইসলাম: আমরা আশাবাদী যেহেতু ভোট কেন্দ্রে সিসিটিভির আয়োজন করা হচ্ছে। এতে ভোট কেন্দ্রে কোন অনিয়ম হলে আমরা জানতে পারবো এবং জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী।
শেরপুর সদর-১ আসন ১৪ টি ইউনিয়ন ও ১ টিপৌরসভা নিয়ে গঠিত। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৫০ হাজার ৪৮৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২৪ হাজার ৪৭২ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ২৬ হাজার ৮ জন, তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৮ জন। এছাড়া আসনটিতে মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১৪৪ টি এবং ভোট কক্ষ ৮৬৮ টি।
আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী অন্য প্রার্থীরা হলেন, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা (ধানের শীষ), এনসিপি মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মো. লিখন মিয়া (শাপলা কলি), জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী মো. মাহমুদুল হক মনি (লাঙল) ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মাসুদ (মোটরসাইকেল)।