শিরোনাম

শেরপুর, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বাসস): আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর সদর ১ আসনে বিএনপি প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা বলেছেন, আমি নির্বাচিত হলে নারীদের কর্মসংস্থান ও কৃষির আধুনিকীকরণে কাজ করবো। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রতি বিশেষ নজর দিবেন বলে জানান।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বিএনপি প্রার্থী ডা. সানসিলা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি, আচরণবিধি পালন ও গণভোট নিয়ে বিভিন্ন প্রত্যাশার কথা জানান।
ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা শেরপুর জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সাধারণ সম্পাদক হযরত আলীর মেয়ে। তিনি একাদশ নির্বাচনে বিএনপির সর্বকনিষ্ঠ প্রার্থী। এছাড়া তিনি শেরপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ঢাকার ধানমন্ডির আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রভাষক।
তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) শেরপুর জেলা সংবাদদাতা মো. জাহিদুল খান সৌরভ।
বাসস: আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী?
ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা: বিগত স্বৈরাচারের আমলে শেরপুর ১ আসনে দৃশ্যমান কোন উন্নয়ন হয়নি। যদি আমি এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে পারি, তাহলে মেডিকেল কলেজ, রেল লাইন, পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় এবং একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের চেষ্টা করব। এছাড়া শেরপুর যেহেতু একটি কৃষি সমৃদ্ধ এলাকা। সেক্ষেত্রে আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার মাধ্যমে যেন এখানকার কৃষকরা উপকৃত হতে পারে সেই ব্যবস্থা করব।
বাসস: নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে নেতা-কর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?
ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা: দীর্ঘদিন পর একটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সত্যি কথা বলতে সারা বাংলাদেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা ছিল উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট প্রদান করার। সেই ইচ্ছা আগামী ১২ ফেব্রয়ারী তারিখে পূরণ হবে। নির্বাচনী আচরণবিধি সকল প্রার্থীদের মেনে চলা উচিত। বিশেষ করে আমার সকল নেতা কর্মী আচরণবিধি মেনে চলছে। যদিও দীর্ঘদিন পর সংসদ নির্বাচনে নিরপেক্ষ ভোট হবে। তাই অনেক নেতাকর্মী অতি উৎসাহী হয়ে মিছিল বড় করছে। আমি মনে করি এটা সব রাজনৈতিক দলের একটা বৈশিষ্ট্য। তবে আমার নেতা কর্মীদের আমি অনুরোধ করেছি আগামী দিনে তারা যেন সকল নির্বাচনী আইন কানুন যথাযথভাবে মেনে চলে।
বাসস: জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?
ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা: জুলাই সনদ অনুযায়ী গণভোট নিয়ে আমাদের দলের নির্দেশনা ‘হ্যাঁ ’ ভোটের পক্ষে কথা বলার। আমিও জুলাই পরবর্তী সময়ে একজন স্বাধীন নাগরিক হিসেবে বলব ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে শেরপুরের সকল ভোটার রায় দিবে। এছাড়া আমি বিশ্বাস করি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের দিন বাংলাদেশের সকল নাগরিক তথা বিএনপির নেতা কর্মীরা ‘হ্যাঁ’ ভোটে ভোট দেবে এবং “হ্যাঁ’ ভোট জয়যুক্ত হবে।
বাসস: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?
ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা: জাতীয় নর্বাচন নিয়ে আমার প্রত্যাশা একটাই যেন সকল প্রার্থীদের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ঠিক থাকে। একজন নারী প্রার্থী এবং নারী চিকিৎসক হিসেবে সেটা পাওয়ার অধিকার আমার আছে। বিগত ২০১৮ সালে সংসদ নির্বাচনে আমি যখন বিএনপির প্রার্থী ছিলাম। তখন আমার গাড়ি বহরে হামলা করে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। সেসময় আমার মা-ভাই রক্তাক্ত হয়। তাই এই নির্বাচনে আমার আশা আমি যথাযথ নিরাপত্তা পাব।
শেরপুর সদর উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়ন এবং ১ টি পৌরসভা নিয়ে সদর ১ আসন গঠিত। মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৫০ হাজার ৪৮৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২৪ হাজার ৪৭২ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ২৬ হাজার ৮ জন ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৮ জন। এ আসনটিতে মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১৪৪ টি এবং ভোট কক্ষ ৮৬৮ টি।
এ আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী অন্য প্রার্থীরা হলেন, জামায়াত প্রার্থী হাফেয রাশেদুল ইসলাম (দাড়িপাল্লা), এনসিপি প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মো. লিখন মিয়া (শাপলা কলি), জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. মাহমুদুল হক মনি (লাঙল) ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মাসুদ (মোটরসাইকেল)।