বাসস
  ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭:০৩

সদরকে আধুনিক শহর হিসেবে গড়তে চাই : টাঙ্গাইল-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ফরহাদ

স্বতন্ত্র প্রার্থী এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল। ছবি : বাসস

টাঙ্গাইল, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল বলেছেন, বিজয়ী হলে সদরকে একটি স্বপ্নের আধুনিক ও মানবিক মডেল শহর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।

বিএনপির বিদ্রোহী এ প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে তার নানা ভাবনা তুলে ধরেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) টাঙ্গাইল জেলা সংবাদদাতা মহিউদ্দিন সুমন।

বাসস : আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী?

এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল : সকলের দোয়া, ভালোবাসা ও জনগণের মূল্যবান ভোটে মহান সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে নির্বাচিত হলে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে টাঙ্গাইল সদরকে একটি স্বপ্নের আধুনিক ও মানবিক মডেল সদর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। 

প্রথমে একটি নিরাপদ নগরী গড়ে তোলা হবে। মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে। সেই সঙ্গে যমুনা নদী ভাঙ্গনে বেড়িবাঁধ নির্মাণ, সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত, মাহমুদনগরে ব্রিজ স্থাপন, আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার রাস্তাঘাট ব্রিজ কালভার্ট নির্মাণ, সাংস্কৃতিক ও খেলাধুলার উন্নয়নের শিশু ও যুববান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, গ্রাম ও শহর সমউন্নয়নের ভিত্তিতে গড়ে তোলা হবে। 

টাঙ্গাইলকে শিক্ষা ও সংস্কৃতি নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখা, বেকার যুবকদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরি করা, নাগরিক সেবা সহজীকরণে দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন নিশ্চিত করাসহ ২৪ দফা ইশতেহার ইতোমধ্যে সদরবাসীর কাছে পৌঁছে  দিয়েছি। ভোটাররা অবশ্যই আমাকে মূল্যায়ন করবে।

বাসস : নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে নেতা-কর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?

এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল : নির্বাচন কমিশন যেভাবে আচরণবিধি প্রণয়ন করেছে আমরা সেভাবেই নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। সেই সঙ্গে আমার নেতাকর্মীদের দিক নির্দেশনা দিয়েছি নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধির লঙ্ঘন না করে যেন নির্বাচন পরিচালনা করে।

বাসস : জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?

এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল : ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজত্ব শেষ হয়ে যায়। এ আন্দোলনে আমিও নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে অংশগ্রহণ করেছি। যেহেতু আমি কোনো দলের মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করছি না, তাই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আমার নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবো।

বাসস : আসন্ন সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?

এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল : দীর্ঘ সতেরো বছর মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ  করতে পারে নাই। পাঁচ আগস্টের পর আন্দোলন, সংগ্রাম ও অনেক রক্তের মধ্য দিয়ে আমরা একটা নির্বাচন পেয়েছি। আমি মনে করি, নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাচনের দায়িত্বে যারা আছে রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ পুলিশ প্রশাসন এমন একটা নির্বাচন বাস্তবায়ন করবে যেটা বিশ্বের কাছে রোল মডেল হয়ে থাকবে।

দীর্ঘ ৪০ বছর আমি একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। এখানকার মানুষের সঙ্গে আমার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। তাদের সাথে আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছি। টাঙ্গাইল শহরেও আমার একটা ভালো অবস্থান রয়েছে। নির্বাচনে সদর আসনে চরাঞ্চলে একটি বিশাল ভোট ব্যাংক রয়েছে। আমি সদরের সন্তান হিসেবে চরাঞ্চলের ভোটাররা ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে ইনশাল্লাহ।

টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনটি সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত। ১টি পৌরসভা এবং ১২টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। সদর উপজেলায় মোট ১৩০টি ভোট কেন্দ্র রয়েছে। আসনটিতে মোট ভোটারের সংখ্যা ৪ লাখ ৬২ হাজার ৪১২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩১ হাজার ৩০৩ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৩১ হাজার ১০৮ জন এবং ১ জন তৃতীয় লিঙ্গের।

নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন, বিএনপি প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও দলের জেলা কমিটির নায়েবে আমীর আহসান হাবীব মাসুদ, বিএনপির বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল, জাতীয় পার্টির মোজাম্মেল হক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের খন্দকার জাকির হোসেন, গণসংহতি আন্দোলনের ফাতেমা আক্তার বিথী, খেলাফত মজলিসের হাসানাত আল আমিন, গণঅধিকার পরিষদের মো. শরিফুল ইসলাম, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মো. হাসরত খান ভাসানী ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সৈয়দ খালিকুজ্জামান মোস্তফা।