বাসস
  ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:৫১

দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ে তুলবো : টাঙ্গাইল-৫ আসনে জামায়াত প্রার্থী মাসুদ

আহছান হাবিব মাসুদ। ছবি : ফেসবুক

টাঙ্গাইল, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আহছান হাবিব (মাসুদ) বলেছেন, নির্বাচিত হলে কৃষিকে শিল্পে রূপান্তরিত করতে চাই।

দলের জেলা কমিটির এ নায়েবে আমির নির্বাচন নিয়ে তার ভাবনা তুলে ধরেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) টাঙ্গাইল জেলা সংবাদদাতা মহিউদ্দিন সুমন।

বাসস : আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী?

আহছান হাবিব (মাসুদ) : টাঙ্গাইল সদরের পশ্চিমাঞ্চল মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ বিগত ১৭ বছরেও নির্মিত হয়নি। সেই সঙ্গে রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট যা করা হয়েছিল তা পরিকল্পিতভাবে করা হয়নি। বিভিন্ন প্রকল্পের নামে লুটপাট করে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। বর্তমানে রাস্তাঘাটের যে দশা তার চিত্র বলে দেয় কি পরিমাণ দুর্নীতি হয়েছে টাঙ্গাইল সদরে। শুধু টাঙ্গাইলে নয় একই চিত্র সারা দেশে। 

তাই আমরা মনে করি এভাবে বাংলাদেশ চলতে পারে না। আমাদের আমির বলেছেন আমরা ক্ষমতায় যেতে পারলে দুর্নীতিমুক্ত একটি দেশ গড়ে তুলবো। ইতোমধ্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা জিহাদ ঘোষণা করেছি। দুর্নীতি উঠে গেলে বেকারত্ব, চিকিৎসা, শিক্ষা ব্যবস্থা, খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণতা ও দারিদ্র মুক্ত করা সম্ভব হবে। সেটা আমরা করতে চাই। যেখানে প্রশাসন সুষ্ঠু ওু সুন্দরভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করবে। অনাহারে ও চিকিৎসার অভাবে কেউ মারা যাবে না। মোট কথা টাঙ্গাইল সদরে একটা ইনসাফের সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই। টাঙ্গাইল সদর উপজেলা মূলত কৃষি প্রধান অঞ্চল। এখানে তেমন কোনো শিল্প কারখানা গড়ে ওঠেনি। তাই আমি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে কৃষিকে শিল্পে রুপান্তরিত করতে চাই। 

বাসস : নির্বাচনী আচরণ বিধি পালনে নেতা-কর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?

আহছান হাবিব (মাসুদ) : জাতীয় নির্বাচনে তফসিল ঘোষণার পরপরই আমরা এলাকার পুরোনো নির্বাচনী প্রচারণার সামগ্রী ব্যানার, পোস্টার অপসারণ করেছি। প্রশাসন আচরণ বিধি নিয়ন্ত্রণ না করতে পারলে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাকবে না। এ ব্যাপারে শক্ত হাতে প্রশাসনকে হস্তক্ষেপ করতে হবে।

বাসস : জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?

আহছান হাবিব (মাসুদ) : ছাত্র জনতার আন্দোলনের মুখে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের ১৭ বছরের রাজত্ব শেষ হয়ে যায়। পরিবর্তনের জন্য দল মত নির্বিশেষে সে আন্দোলনে আমরাও শরিক হয়ে ছিলাম। কাজেই আমরা পরিবর্তন চাই। আমরা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে আছি। হ্যাঁ ভোটের পক্ষে ভোট প্রদানে ভোটারদের আমরা উৎসাহিত করছি। ‘হ্যাঁ’ ভোট মানে দেশকে ফ্যাসিস্ট মুক্ত করা এবং দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। তাই জুলাই সনদ বাস্তবায়নে দলমত নির্বিশেষে আমাদের একজোট হয়ে কাজ করতে হবে। এ বিষয়ে আমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ।

বাসস : আসন্ন সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?

আহছান হাবিব (মাসুদ) : টাঙ্গাইল সদর উপজেলা একটি অপরিকল্পিত একটা নগর। এখানে নেই কোনো পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নেই কোনো বাজার ব্যবস্থাপনা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। শহরে ভালো কোন অডিটোরিয়াম নেই। আমি জয়ী হতে পারলে এ সব সমস্যার সমাধান করে সকল প্রকার সিন্ডিকেট ভেঙে দেব।

টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনটি সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত। ১টি পৌরসভা এবং ১২টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। সদর উপজেলায় মোট ১৩০টি ভোট কেন্দ্র রয়েছে। আসনটিতে মোট ভোটারের সংখ্যা ৪ লাখ ৬২ হাজার ৪১২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩১ হাজার ৩০৩ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৩১ হাজার ১০৮ জন এবং ১ জন তৃতীয় লিঙ্গের।

নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন, বিএনপি প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও দলের জেলা কমিটির নায়েবে আমীর আহছান হাবিব (মাসুদ) বিএনপির বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) এ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল, জাতীয় পার্টির মোজাম্মেল হক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের খন্দকার জাকির হোসেন, গণসংহতি আন্দোলনের ফাতেমা আক্তার বিথী, খেলাফত মজলিসের হাসানাত আল আমিন, গণঅধিকার পরিষদের মো. শরিফুল ইসলাম, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মো. হাসরত খান ভাসানী ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সৈয়দ খালিকুজ্জামান মোস্তফা।