বাসস
  ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:৪২

নিরাপদ জনপদ গড়ে তুলতে চাই : টাঙ্গাইল-৫ আসনের বিএনপি প্রার্থী টুকু

বিএনপি প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। ছবি : ফেসবুক

টাঙ্গাইল, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে বিএনপি প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, নিরাপদ জনপদ গড়ে তুলতে চাই। পাশাপাশি টাঙ্গাইলকে উন্নয়নের রোল মডেল করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাই।

এ ছাড়া জনগণের নিরাপত্তা ও উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক। টাঙ্গাইল সদর-কে সন্ত্রাস, চাঁদাবাদ, কিশোর গ্যাং ও মাদকমুক্ত হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলেছেন।  

নির্বাচন নিয়ে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু নানা প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) টাঙ্গাইল জেলা সংবাদদাতা মহিউদ্দিন সুমন।

বাসস : আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী?

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু : বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা বাস্তবায়ই আমার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। এছাড়া নির্বাচনী প্রতিশ্রতির ক্ষেত্রে জনসাধারণের নিরাপত্তার বিষয়টি প্রথমে চলে আসে। নির্বাচনে আল্লাহ যদি জেতার তৌফিক দান করেন তাহলে টাঙ্গাইলকে নিরাপদ জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি উন্নয়নের রোল মডেল করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাই।

ভোটের মাঠে টাঙ্গাইল সদরের সর্বস্তরের মানুষের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। বিশেষ করে চরাঞ্চলের মানুষের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আমি অঙ্গীকারবদ্ধ। টাঙ্গাইল চরবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন যমুনা নদীর বেড়িবাঁধ নির্মাণ, মাহমুদনগরে ব্রিজ স্থাপন, শহরের অবকাঠামো উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থানের সুব্যবস্থাসহ কিশোরগ্যাং, সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজমুক্ত টাঙ্গাইল গড়ে তুলতে কাজ করতে চাই। জনগণ যদি আমার ওপর তাদের আস্থা রাখে আমি অবশ্যই আমার প্রতিশ্রুতির প্রতিদান দেব ইনশাল্লাহ।

বাসস : নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে নেতা-কর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু : জাতীয় নির্বাচনে তফসিল ঘোষণার পরপরই আমার এলাকার পুরোনো নির্বাচনী প্রচারণার সামগ্রী ব্যানার, পোস্টার অপসারণ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে দলের নেতা-কর্মীদের প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমরা নির্বাচন কমিশনের আইন যথাযথভাবে অনুসরণ করে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

বাসস : জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু : আপনারা জানেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ফ্যাসিষ্টের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান ছিল। জনগণই ঠিক করবে তারা ‘হ্যাঁ’ না ‘না’ ভোট দেবে। আমাদের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেওয়া ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যেই প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের কথা বলা আছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের জন্য আমরা ভোট চাচ্ছি, পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট এর পক্ষে আমরা আছি। তবে গণভোটের ভোটদানে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে প্রচারণার দায়িত্ব সরকারের বেশি।

বাসস : আসন্ন সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু : দেশে যখন জনগণের মূল্য থাকে না তখন সরকার স্বৈরাচার হয়ে যায়। স্বৈরাচার হাসিনা সরকার মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছিল। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ফ্যাসিস্ট সরকার পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।  মনে রাখতে হবে এ দেশের মালিক হচ্ছে জনগণ। জনগণের অধিকার হরণ করবে আগামীতে এ ধরনের শাসন ব্যবস্থা আমি বা আমরা দল চায় না। 

দেশের মানুষ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রত্যাশা করে। কারণ তারা বিগত ২০১৪ সালে, ১৮ সালে ও সর্বশেষ ২৪ সালে ভোট দিতে পারেনি। আওয়ামী লীগ শাসনামলে দিনের ভোট রাতে শেষ হয়ে গেছে। এবার জনগণ তাদের ভোটের অধিকার ফিরে পেয়েছে। সারা দেশের ন্যায় টাঙ্গাইলের ভোটাররাও মুখিয়ে আছেন উৎসবমুখর পরিবেশে তাদের পছন্দের প্রার্থী কে ভোট দেওয়ার জন্য। আমার দলের স্লোগান ‘ভোট দেব ধানের শীষে, দেশ গড়বো মিলে মিশে’।

টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনটি সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত। ১টি পৌরসভা এবং ১২টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত।  সদর উপজেলার মোট ১৩০টি ভোট কেন্দ্র রয়েছে। টাঙ্গাইল সদর আসনটিতে মোট ভোটারের সংখ্যা ৪ লাখ ৬২ হাজার ৪১২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩১ হাজার ৩০৩ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৩১ হাজার ১০৮ জন এবং ১ জন তৃতীয় লিঙ্গের।

নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন, বিএনপি প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও দলের জেলা কমিটির নায়েবে আমীর আহসান হাবীব মাসুদ, বিএনপির বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল, জাতীয় পার্টির মোজাম্মেল হক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের খন্দকার জাকির হোসেন, গণসংহতি আন্দোলনের ফাতেমা আক্তার বিথী, খেলাফত মজলিসের হাসানাত আল আমিন, গণঅধিকার পরিষদের মো. শরিফুল ইসলাম, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মো. হাসরত খান ভাসানী ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সৈয়দ খালিকুজ্জামান মোস্তফা।