বাসস
  ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:৪৪

এলাকায় প্রথম কাজ হবে দুর্নীতি বন্ধ করা: টাঙ্গাইল-৬ আসনে জামায়াত প্রার্থী আব্দুল হামিদ

টাঙ্গাইল-৬ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এ কে এম আব্দুল হামিদ। ছবি: বাসস

টাঙ্গাইল, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর ও দেলদুয়ার) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এ কে এম আব্দুল হামিদ বলেছেন, জিতলে এলাকায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়বো।

নির্বাচন ঘিরে নানা প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) টাঙ্গাইল জেলা সংবাদদাতা মহিউদ্দিন সুমন।

বাসস : আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী?
এ কে এম আব্দুল হামিদ : জোটের প্রার্থী হিসেবে জনগণের ভোটে সমর্থন নিয়ে আমি জয়ী হতে পারলে আমার এলাকায় প্রথম কাজ হবে সকল প্রকার দুর্নীতি বন্ধ করা। এই দুর্নীতিকে জিরো টলারেন্সে নামিয়া আনা হবে। স্থানীয় প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে খাদ্যদ্রব্য ও নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এছাড়া প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষকদের স্বল্পমূল্যে বীজ ও সারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

স্বাস্থ্য সেবা, রাস্তাঘাট উন্নয়ন, বেকারদের কর্মসংস্থান, নারীদের জন্য নিরাপদ আবাসন স্থল, যুব সমাজকে সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার ব্যবস্থা করা হবে। তাদের লেখাপড়ার পাশাপাশি ফিন্যান্স ও কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চাই। তাদের সমাজের বোঝা না বানিয়ে সম্পদে পরিণত করতে চাই। সেই লক্ষ্যে কাজ করবো।

আমার এলাকা মূলত নদী ভাঙ্গন এলাকা। একদিকে ধলেশ্বরী অন্যদিকে যমুনা নদী। প্রতি বছর বন্যায় এই দুটি উপজেলায় অসংখ্য ঘরবাড়ি ও ফসল জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। তাই আল্লাহ যদি তৌফিক দান করেন ভাঙ্গন রোধে নদী শাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চাই।

বাসস : নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে নেতা-কর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?
এ কে এম আব্দুল হামিদ : জাতীয় নির্বাচনে তফসিল ঘোষণার পরপরই আমরা  এলাকার সকল পুরোনো নির্বাচনী প্রচারণার সামগ্রী ব্যানার, পোস্টার অপসারণ করেছি। প্রশাসন আচরণবিধি নিয়ন্ত্রণ না করতে পারলে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাকবে না। এ ব্যাপারে প্রশাসনকে আরও শক্ত হস্তক্ষেপ করার অনুরোধ করছি।

বাসস : জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?
এ কে এম আব্দুল হামিদ: ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ফ্যাসিস্ট সরকারের ১৭ বছরের রাজত্ব শেষ হয়ে যায়। পরিবর্তনের জন্য দল মত নির্বিশেষে আমরাও আন্দোলনে শরিক হয়েছিলাম। কাজেই আমরা পরিবর্তনে পক্ষে। আমরা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে আছি। হ্যাঁ ভোটের পক্ষে ভোট প্রদানে ভোটারদের আমরা উৎসাহিত করছি। কাজেই ‘হ্যাঁ’ ভোট মানে দেশকে ফ্যাসিস্ট মুক্ত করা। তাই জুলাই সনদ বাস্তবায়নে হ্যাঁ ভোটকে জয়যুক্ত করার লক্ষ্যে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এক যোগে কাজ করে যাচ্ছি।

বাসস : আসন্ন সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?
এ কে এম আব্দুল হামিদ : নির্বাচন কার্যক্রম পরিচালনার করতে গিয়ে আমরা লক্ষ্য করছি আমরা জনগণের কাছ থেকে যেটুকু প্রত্যাশা করি, জনগণ আমাদের কাছ থেকে তার চেয়ে বেশি প্রত্যাশা করে। ভোটারদের বলতে শুনেছি ভোটার আগে প্রার্থীরা নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে যায় কিন্তু ভোটের পর কেউই সে প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন করে না। তারা এবার পরিবর্তন চায়। এবার ভোটাররা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে জামায়াতে ইসলামকে ক্ষমতায় আনতে চায়।

টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর ও দেলদুয়ার) আসনটি দুইটি উপজেলার ২০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। আসনে মোট ১৫৪টি ভোট কেন্দ্র রয়েছে। ভোটারের সংখ্যা ৪ লাখ ৬৮ হাজার  ৭৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৬ হাজার ৫৯৮ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭৪ জন এবং ৪ জন তৃতীয় লিঙ্গের।

নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দী প্রার্থীরা হলেন, বিএনপি প্রার্থী রবিউল আউয়াল লাভলু (ধানের শীষ),জামায়েত ইসলামীর এ কে এম আব্দুল হামিদ (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আখি নূর মিয়া (হাতপাখা), স্বতন্ত্র প্রার্থী জুয়েল সরকার (হরিণ), জাতীয় পার্টির মো. মামুনুর রহিম (লাঙ্গল), স্বতন্ত্র পার্থী মুহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম (মোরক) ও জাতীয় পার্টির (জেপি) তারেক শামস খান (বাইসাইকেল)।