শিরোনাম

টাঙ্গাইল, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর ও দেলদুয়ার) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী রবিউল আউয়াল লাভলু বলেছেন, জনগণের নিরাপত্তা ও উন্নয়নে কাজ করতে চাই।
নির্বাচন ঘিরে নানা প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) টাঙ্গাইল জেলা সংবাদদাতা মহিউদ্দিন সুমন।
বাসস : আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী?
রবিউল আউয়াল লাভলু : বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা বাস্তবায়নই আমার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। এ ছাড়া নির্বাচনী প্রতিশ্রতির ক্ষেত্রে আমার এলাকার জনসাধারণের নিরাপত্তার বিষয়টি প্রথমে চলে আসে। নির্বাচনে আল্লাহ যদি জেতার তৌফিক দান করেন তাহলে জননিরাপত্তা ও উন্নয়নে কাজ করতে চাই।
নাগরপুর ও দেলদুয়ার উপজেলাকে কিশোরগ্যাং, সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজমুক্ত হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। অন্যদিকে রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, জনসাধারণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, বেকারদের কর্মসংস্থানের সুব্যবস্থাসহ নবী করীম (সা:) এর ইনসাফ কায়েম করতে চাই। জনগণ আমার প্রতি আস্থা রাখলে অবশ্যই আমার প্রতিশ্রুতির প্রতিদান দেব ইনশাল্লাহ।
বাসস : নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে নেতা-কর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?
রবিউল আউয়াল লাভলু : জাতীয় নির্বাচনে তফসিল ঘোষণার পরপরই আমার এলাকার পুরোনো নির্বাচনী প্রচারণার সামগ্রী ব্যানার, পোস্টার অপসারণ করেছি। সে সঙ্গে নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে দলের নেতা-কর্মীদের আমরা প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদান করছি। আমরা নির্বাচন কমিশনের আইন যথাযথভাবে অনুসরণ করে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। তবে সকল প্রার্থীর ক্ষেত্রে প্রশাসনকে এ আইন সমানভাবে প্রয়োগ হতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রশাসন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে।
বাসস : জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?
রবিউল আউয়াল লাভলু : আপনারা জানেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ফ্যাসিষ্টের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান ছিল। জনগণই ঠিক করবে তারা ‘হ্যাঁ’ না ‘না’ ভোট দেবে। আমাদের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেওয়া ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যেই প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের কথা বলা আছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের জন্য আমরা ভোট চাচ্ছি, পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে আমরা আছি।
বাসস : আসন্ন সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?
রবিউল আউয়াল লাভলু : বিগত সময়ে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকার দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ধ্বংস করার কাজে লিপ্ত ছিল। তাদের বিদায়ের পর দেশের গণতন্ত্রকে সমন্বিত করার লক্ষ্যে এই নির্বাচন। আমরা আশা করি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আমাদের উপহার দেবে।
দেশের মানুষ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রত্যাশা করে। কারণ তারা বিগত ১৪ সালে ১৮ সালে ও সর্বশেষ ২৪ সালে ভোট দিতে পারেনি। এবার জনগণ তাদের ভোটের অধিকার ফিরে পেয়েছে। সারা দেশের ন্যায় টাঙ্গাইলের ভোটাররাও মুখিয়ে আছেন উৎসবমুখর পরিবেশে তাদের পছন্দের প্রার্থী কে ভোট দেওয়ার জন্য। ইনশাআল্লাহ নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হবো।
টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর ও দেলদুয়ার) আসনটি দুইটি উপজেলার ২০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। আসনে মোট ১৫৪টি ভোট কেন্দ্র রয়েছে। ভোটারের সংখ্যা ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৬ হাজার ৫৯৮ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭৪ জন এবং ৪ জন তৃতীয় লিঙ্গের।
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দী প্রার্থীরা হলেন, বিএনপি প্রার্থী রবিউল আউয়াল লাভলু (ধানের শীষ),জামায়েত ইসলামীর এ কে এম আব্দুল হামিদ (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আখি নূর মিয়া (হাতপাখা), স্বতন্ত্র প্রার্থী জুয়েল সরকার (হরিণ), জাতীয় পার্টির মো. মামুনুর রহিম (লাঙ্গল), স্বতন্ত্র পার্থী মুহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম (মোরক) ও জাতীয় পার্টির (জেপি) তারেক শামস খান (বাইসাইকেল)।