শিরোনাম

পটুয়াখালী, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের ১০ দলীয় জোট সমর্থিত ও জামায়াত প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ পটুয়াখালী ৬০ দিনে মাদক ও ৯০ দিনে দুর্নীতিমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) কে এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব প্রতিশ্রুতির কথা জানান।
ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে পিএইচ.ডি. (ডক্টরেট) ডিগ্রি অর্জন করেন। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি, কেন্দ্রীয় কমিটির বিভিন্ন দায়িত্বে ও সর্বশেষ নির্বাচিত কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে তিনি বাউফল উন্নয়ন ফোরাম ও বাউফল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন।
এবার এ আসনে মোট পাঁচজন এমপি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। তারা হলেন— বিএনপি জোট মনোনীত শহিদুল আলম তালুকদার (ধানের শীষ), জামায়াত সমর্থিত ১০ দলীয় জোট মনোনীত মো. শফিকুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মালেক হোসেন (হাতপাখা), আমার বাংলাদেশ পার্টির প্রার্থী মো. রুহুল আমিন (ঈগল) এবং গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. হাবিবুর রহমান (ট্রাক)।
নির্বাচন নিয়ে তিনি নানা প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) এর পটুয়াখালী জেলা ভ্রাম্যমাণ সংবাদদাতা এনামুল হক এনা।
বাসস: আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী?
শফিকুল ইসলাম মাসুদ: আমাদের বাউফলে এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা বগা সেতু নির্মাণ। এ ব্যাপারে আমরা পদক্ষেপ নেব। ইতোমধ্যে আমরা কিছু কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট সুবিধা আছে, যা জনসংখ্যার তুলনায় পর্যাপ্ত নয়। আমরা পর্যায়ক্রমে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করব।
নদীভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেব। ইতোমধ্যে আমরা সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলেছি। কিছু কার্যক্রম দৃশ্যমান হয়েছে। আমরা বিজয়ী হলে ৬০ দিনের মধ্যে মাদক নির্মূল করব এবং ৯০ দিনের মধ্যে দুর্নীতির কবর রচনা করব। শিক্ষিত সমাজের জন্য শিক্ষাসনদের পাশাপাশি চাকরির নিশ্চয়তার ব্যবস্থা করব।
বাসস: নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে আপনার দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি নির্দেশনা আছে কি না?
শফিকুল ইসলাম মাসুদ: নির্বাচনী আচরণবিধি আরোপের শুরুর দিন উপজেলায় কালিশুরিতে একটি বড় কর্মসূচি ছিল। নিয়ম লঙ্ঘন হবে বিধায় আমরা তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থিত সাংবাদিকদের নিয়ে সেই কর্মসূচি বন্ধ করে দিই।
সেখান থেকেই আমরা আমাদের বিলবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন খুলে ফেলেছি। আমি নিজে অপসারণ করে নেতাকর্মীদের উদ্বুদ্ধ করেছি। তারা অনুপ্রাণিত হয়েছে। ফলে এখন পর্যন্ত নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ কেউ তুলতে পারেনি, আলহামদুলিল্লাহ। আমরা এ বিষয়ে সচেতন আছি। এমনকি নির্বাচনী কর্মীবাহিনীকেও সতর্ক করা হয়েছে দলীয়ভাবে।
বাসস: জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে আপনার ব্যক্তিগত অবস্থান কী?
শফিকুল ইসলাম মাসুদ: জুলাই সনদ ও গণভোটের ব্যাপারে আমরা ইতিবাচক। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে মা-বোন, কৃষক-শ্রমিকসহ সব স্তরের মানুষ অংশ নেওয়ায় আমরা সফলতা পেয়েছি। বাউফলে শহীদ পরিবার রয়েছে সাতটি। আর জুলাই যোদ্ধা যারা আছেন, তাদের নিয়ে আমরা কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছি। গণভোটের পক্ষে আমরা অত্যন্ত ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছি। সংস্কারের জন্য আমরা গণভোটে অবশ্যই ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে আছি।
বাসস: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?
শফিকুল ইসলাম মাসুদ: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমার প্রত্যাশা হলো— কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বাউফলকে একটি পরিবারের মতো করে গড়ে তুলতে আমরা যেন সৌজন্যতা, সহমর্মিতা ও শালীনতা বজায় রেখে একসঙ্গে কাজ করতে পারি। বাউফলবাসী যেন এখানে প্রতিদ্বন্দ্বীতা না দেখে, দেখে ইতিবাচক কাজের প্রতিযোগিতা। তারা যেন গালাগালি না দেখে, দেখে গলাগলি। আর সেটি যেন শুধু বাহ্যিক না হয়, আন্তরিকতার সঙ্গে বাস্তবায়িত হয়। প্রশাসনের প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে— তারা যেন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেন। সেই জায়গায় তাদের আরও বেশি পরিস্কার থাকতে হবে।
পটুয়াখালী-২ (বাউফল) ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। প্রায় ৪৮০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই উপজেলাটি উত্তরে দশমিনা উপজেলা, পূর্বে দুমকি উপজেলা, দক্ষিণে পটুয়াখালী সদর উপজেলা এবং পশ্চিমে ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলা দ্বারা বেষ্টিত। নদী-খাল ও চরাঞ্চল অধ্যুষিত এই জনপদ কৃষিনির্ভর অর্থনীতির পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবেও দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ধরে রেখেছে।
নির্বাচন কমিশনের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী বাউফল উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম বলেন, পটুয়াখালী-২ আসন বাউফলে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১৫ হাজার ২৮২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৬০ হাজার ৫০১ জন এবং নারী ১ লাখ ৫৪ হাজার ৭৭৯ জন। এছাড়া ২ হাজার ৫০৮ জন পোস্টাল ভোটার নিবন্ধন করেছেন।