বাসস
  ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫:৪৫
আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫:৫১

বৈষম্যহীন ও মডেল পূর্বধলা গড়ার অঙ্গীকার নেত্রকোণা-৫ এর জামায়াত প্রার্থী মাছুম মোস্তফার

অধ্যাপক মাছুম মোস্তফা। ফাইল ছবি

নেত্রকোণা, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বাসস): নেত্রকোণা জেলা পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৬১ নেত্রকোণা-৫ (পূর্বধলা) আসনটি একটি মাত্র উপজেলা নিয়ে গঠিত। 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোণা-৫ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী অধ্যাপক মাছুম মোস্তফা বলেছেন, পূর্বধলাকে বৈষম্যহীন ও উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এছাড়া এ প্রার্থী এলাকার উন্নয়ন ও বেকারত্ব দূরীকরণে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জনগণের কাছে। 

নেত্রকোণা-৫ আসনে অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী অধ্যাপক মাছুম মোস্তফা। তিনি বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনকারী। ১৯৯৪ সালে ইসলামী ছাত্র শিবিরে যোগদান করেন। ২০০৩ সালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন। জামায়াতে ইসলামীর শ্রমিক সংগঠন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেত্রকোণা জেলা শাখার এসিসট্যান্ট সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১৪ সালে পূর্বধলা উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নিজের ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (দাঁড়িপাল্লা) প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক মাছুম মোস্তফা। দিয়েছেন নানা প্রশ্নের উত্তর।

তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) নেত্রকোণা জেলা সংবাদদাতা মো. তানভীর তানভীর হায়াত খান।

বাসস: আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী?
মাছুম মোস্তফা: পূর্বধলাকে একটি আধুনিক, বৈষম্যহীন ও উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। ঘুষ, 
দুর্নীতি ও চাঁদাবাজমুক্ত পূর্বধলা উপহার দেব। পূর্বধলার মানুষ যদি আমাকে নির্বাচিত করেন তাহলে আমার সর্বোচ্চ দিয়ে আমি আমার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবো ইনশাআল্লাহ। জনগণের সেবায় যদি আল্লাহ তায়ালা আমাকে কবুল করেন, তাহলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ এবং কৃষি-এ চারটি বিষয়ে আমি প্রাধান্য দিবো। কৃষিকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে কৃষকদেরকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করার চেষ্টা করবো। কৃষকসমাজ যেন তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পায় সেজন্যে আমি সচেষ্ট থাকবো। 

বাসস: নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে নেতা-কর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?

মাছুম মোস্তফা: তফিসল ঘোষণার পরপরই আমি এবং আমাদের নেতাকর্মীরা নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলেছি। ইচ্ছাকৃতভাবে নির্বাচনী আচরণবিধি যেন লঙ্ঘন না হয় সেজন্য তাদের আমি বারবার সতর্ক করেছি। আশাকরি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী আচরণবিধি আমি এবং আমার নেতা-কর্মীরা মেনে চলবো। 

বাসস: জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?

মাছুম মোস্তফা: একটি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্যে ‘হ্যাঁ’ গণভোট। এ গণভোটে যদি ‘হ্যাঁ’ যুক্ত হয় তাহলেই সেই নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে এবং জুলাই বিপ্লব স্বার্থক হবে। নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য সকল ভোটারদেরকে আমি আহ্বান জানাই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী করার জন্যে। এজন্য আমরা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। 

বাসস: আসন্ন সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?

মাছুম মোস্তফা: একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন প্রত্যাশা করছি। যে গণতন্ত্র আমাদের দেশ থেকে হারিয়ে গিয়েছিল, তা যেন এই ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে ফিরে আসে।

নেত্রকোণা জেলা পাঁচটি সংসদীয় আসন নিয়ে গঠিত। পাঁচটি আসনের মধ্যে ১৬১ নেত্রকোণা-৫ (পূর্বধলা) আসনটি একটিমাত্র উপজেলা নিয়ে গঠিত হওয়ায় এখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মাঝে নির্বাচনী কার্যক্রমের ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, নেত্রকোণা-৫ (পূর্বধলা) আসনটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ টি ইউনিয়ন, ৮২ টি ভোট কেন্দ্র এবং ৫২৮ টি ভোট কক্ষ নিয়ে গঠিত।

এ আসনে মোট ২ লাখ ৯০ হাজার ১ শত ১৭ জন ভোটার রয়েছেন। এর মধ্যে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৮ শত ৯৬ জন পুরুষ ভোটার, ১ লাখ ৪২ হাজার ২ শত ১৯ জন মহিলা এবং ২ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার।

এবারের নির্বাচনে এ আসনে মোট পোস্টাল ভোটার রয়েছেন ২ হাজার ৩ শত ৯৮ জন, এর মধ্যে ১ হাজার ৭ শত ১২ জন পুরুষ এবং ৬ শত ৮৬ জন মহিলা ভোটার। আর জেলায় মোট ভোটারের সংখ্যা ২০ লাখ ৪৪ হাজার ৭ শত ৩৬ জন।
নেত্রকোণা-৫ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট তিনটি দলের ৩জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত এবং ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অধ্যাপক মাছুম মোস্তফা দাঁড়িপাল্লা প্রতীক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. আবু তাহের তালুকদার ধানের শীষ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. নূরুল ইসলাম (হাতপাখা) প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে ভোটের মাঠে লড়ছেন।