শিরোনাম

নাটোর, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : আসন্ন সংসদ নির্বাচনে নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. দাউদার মাহমুদ বলেছেন, চলনবিল কেন্দ্রীক পর্যটনের প্রসারে কাজ করতে চাই। সাধারণ মানুষের সুখে-দুখে পাশে থাকার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন দাউদার।
মো. দাউদার মাহমুদ ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষের প্রতীক চেয়ে ব্যর্থ হয়ে ঘোড়া প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার কারণে সর্বশেষ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক পদ থেকে তিনি বহিষ্কৃত হয়েছেন।
এ আসনে শীর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী দাউদার মাহমুদ। তিনি নির্বাচন নিয়ে নানা প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) জেলা সংবাদদাতা ফারাজী আহম্মদ রফিক বাবন।
বাসস : আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী?
দাউদার মাহমুদ : বিগত ২৯ বছর ধরে সক্রিয়ভাবে রাজনীতির সঙ্গে আছি। আমি জনগণের উপর আস্থা রাখি, জনগণও আমার উপর আস্থা রাখে। সবসময় তাদের সুখে-দুখে পাশে থাকি। চৈত্রের খরতপ্ত দুপুরে, বর্ষার ভোগান্তিতে, গভীর রাতের বিপদে তারা আমাকে পাশে পেয়ে থাকেন। বিগত ১৭ বছর ধরে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে আমি সক্রিয় ছিলাম, ঐ আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তিদের পাশে ছিলাম আমি। নির্বাচিত হলে একইভাবে তাদের পাশে থাকতে চাই।
চলনবিলের উন্নয়নে আমি কাজ করতে চাই। শস্য ভান্ডার খ্যাত চলনবিলের উৎপাদিত ভেজা ধান আধুনিক পদ্ধতিতে শুকিয়ে গুদামজাত করতে চাই। চলনবিলে পর্যটনের প্রসারে কার্যকর সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চাই।
বাসস : নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে নেতা-কর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?
দাউদার মাহমুদ : আমার অনুসারী কর্মীদের নিয়ে আমি কর্মশালা করেছি, তাদেরকে নির্বাচনী আচরণবিধি অবহিত করেছি। আমি এবং আমার অনুসারীবৃন্দ মাইকিং, ব্যানার, জনসভা আয়োজনসহ সকল প্রচারণা কার্যক্রমে আচরণবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করছি।
বাসস : জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?
দাউদার মাহমুদ : দেশের মানুষ ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ এর নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছে বিধায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। আমরা সবকিছু নতুন করে শুরু করতে চাই। বিগত দিনের মত নির্বাচন আমরা আর চাই না। তাই জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে আমাদের দৃঢ় অবস্থান।
বাসস : আসন্ন সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?
দাউদার মাহমুদ : কর্মী-বান্ধব অবস্থানের কারণে জনগণ খুব সহজেই আমাকে কাছে পায়। এ জন্য সিংড়ার মানুষ সিংড়ার ছেলেকেই নির্বাচিত করবে। তাই যেখানেই যাচ্ছি, মানুষের ঢল নামছে। সকলের দোয়া চাচ্ছি, আশীর্বাদ চাচ্ছি। বিজয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী।
নাটোর-৩ আসন সিংড়া উপজেলার একটি পৌরসভা এবং ১২টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। ১১৮টি ভোট কেন্দ্র। আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা তিন লাখ ২৬ হাজার ৮৭২ জন। এর মধ্যে এক লাখ ৬৪ হাজার ৮৭ জন পুরুষ, এক লাখ ৬২ হাজার ৭৮১ জন নারী এবং ৪ জন তৃতীয় লিঙ্গের।
এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী অন্য পাঁচ প্রার্থী হলেন-বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মো. আনোয়ারুল ইসলাম (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. খলিলুর রহমান (হাতপাখা), জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি’র এস এম জার্জিস কাদির (শাপলা কলি), জাতীয় পার্টির মো. আশীক ইকবাল (লাঙ্গল), স্বতন্ত্র মো. দেলোয়ার হোসেন পাশা (ফুটবল)।