শিরোনাম

ভোলা, ৮ ফেব্রয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ভোলা-৩ আসনটি লালমোহন ও তজুমদ্দিন উপজেলা নিয়ে গঠিত। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভোলাবাসীর ঋণ শোধ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
এছাড়াও উপকূলীয় এ জনপদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবাসহ এলাকার অসমাপ্ত উন্নয়নগুলো সমাপ্ত করবেন বলে জানান তিনি।
মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) কে দেয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে জেলার উন্নয়ন ও নির্বাচনের নানা বিষয়ে নিজের ভাবনা তুলে ধরেছেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বীর বিক্রম মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। অতীতে তিনি মন্ত্রী হয়েছেন একাধিকবার। এবারও তাঁকে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। ১৯৮৬ সাল থেকে টানা ছয়বার এ আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।
হাফিজ উদ্দিন আহমদের জন্ম (২৯ অক্টোবর ১৯৪৪)। তিনি একজন সামরিক ব্যক্তিত্ব, রাজনীতিবিদ, ফুটবলার, দৌড়বিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা। বেগম খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ভোলা-৩ আসন থেকে তিনি পরপর ৬ মেয়াদে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
এ আসনে ২০০৮ সালে প্রথম আওয়ামী লীগ থেকে এমপি হন মেজর (অব.) জসিমউদ্দিন। কিন্তু চাকরি থেকে অবসরের পাঁচ বছর পার হওয়ার আগেই নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় ২০০৯ সালের অক্টোবরে সুপ্রিম কোর্ট মেজর (অব.) জসিমউদ্দিনের এমপি পদ অবৈধ ঘোষণা করেন। ফলে আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হলে ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারির উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে নুরুন্নবী চৌধুরী (শাওন) নির্বাচিত হন।
মেজর (অব.) হাফিজ ওই উপনির্বাচনে অংশ নিলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাকে এলাকায় ঢুকতে দেয়নি। তারা ব্যাপক সহিংসতা ঘটিয়ে ভোটকেন্দ্র দখল করে আসনটি ছিনিয়ে নেয় বলে বিএনপি নেতাকর্মীরা অভিযোগ তুলেছিলেন। সুষ্ঠু ভোট হলে সে সময়েও হাফিজ উদ্দিন বিজয়ী হতেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সার্বিক বিষয়ে কথা হয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি প্রার্থী মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদের সাথে। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা বাসসের মুখোমুখি হন প্রবীন এই রাজনীতিক। বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি।
তার সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন বাসসের ভোলা জেলা সংবাদদাতা আল-আমিন শাহরিয়ার।
বাসস: আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি কী?
মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন: লালমোহন-তজুমদ্দিনের মানুষ আমাকে প্রচন্ড ভালোবাসেন। এজন্য তারা আমাকে ছয়বার এমপি বানিয়ে জাতীয় সংসদে পাঠিয়েছেন। আমি অতীতে মন্ত্রী থাকাকালীন অত্র এলাকায় অনেক উন্নয়ন করেছি। আরো বহু উন্নয়নের রুপরেখা আমার কাছে ছিলো, কিন্তু স্বৈরশাসকের আমলে সেগুলো আর করা সম্ভব হয়নি।
এবার নির্বাচিত হলে এবং বিএনপি সরকার গঠন করলে এই জনপদের অসমাপ্ত উন্নয়নগুলো সমাপ্ত করবো। এতদাঞ্চলের মানুষগুলো আমাকে যেভাবে অন্ধের মতো ভালোবাসা দিয়েছে, এবার ক্ষমতায় আসলে আমি আমার নির্বাচনী এলাকার সেইসব সরল মানুষগুলোর ভালোবাসার প্রতিদান দিবো।
বাসস: নির্বাচনী আচরনবিধি পালনে নেতাকর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?
মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন: আমার নেতাকর্মীরা সবসময়ই নির্বাচনের আচরণবিধি মেনে চলছে। আমি তাদেরকে যেভাবে নির্দেশ দিয়েছি তারা সেভাবেই শৃঙ্খলাবদ্ধ হয়ে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলছে। ফলে আমার নির্বাচনী এলাকাটি এখনো শান্ত রয়েছে।
বাসস: জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?
মেজর (অব:) হাফিজ উদ্দিন: জুলাই গণঅভ্যুত্থান না হলে আমরা স্বৈরতান্ত্রিক শোষক রাজার কবল থেকে রক্ষা পেতামনা। আওয়ামী লীগ পুরো দেশটাকে একটি কারাগারে বন্দী রেখেছিলো। সেই বন্দীদশা থেকে হাজারো ছাত্রজনতা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে জাতিকে মুক্ত করেছিলো।
তাই দেশ ও জাতি নতুন বাংলাদেশ পেয়ে নতুনভাবে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারছে। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে জুলাই বিপ্লবের বীর শহীদদের স্যালুট জানাচ্ছি। পাশাপাশি আগামীর নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে জুলাই সনদ রক্ষায় ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ভোটাররা রায় দেবে বলে আমি মনে করছি।
বাসস: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনার প্রত্যাশা কী?
মেজর (অব:) হাফিজ উদ্দিন: বিগত ১৭ টি বছর দেশের মানুষ ভোট দিতে পারেনি। নতুন প্রজম্মের ভোটাররা এবার প্রথমবারের মতো ভোট দিবে এবং তাদের মনের মতো জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করবে। তারা যেনো নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে এবং একটি উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় থাকে এমন প্রত্যাশা-ই করছি। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেনো তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারে সেজন্য সকলের সহযোগিতা চাইছি।
লালমোহন-তজুমদ্দিনের প্রিয় মানুষগুলো আমার একটি পরিবার। তারা অতীতে আমাকে বিপুল ভোটে এমপি বানিয়ে বারবার সংসদে পাঠিয়েছেন। আমি মন্ত্রী হয়েছি। এলাকার উন্নয়ন ও জনগণের ভাগ্যবদলের জন্য কাজ করেছি। তাদের বিরামহীন নিঃস্বার্থ ভালোবাসার কাছে আমি ঋণী হয়ে আছি।
অতীতের মতো এবারও তারা বিপুলভোটের ব্যবধানে আমাকে বিজয়ী করবে বলে আমি বিশ্বাস করি। জীবনসায়াহ্নের এসময় এসে আমি আমার সেই ভালোবাসার মানুষগুলোর ঋণ শোধ করবো এটাই আমার প্রত্যাশা।
ভোলা-৩ আসনটি লালমোহন ও তজুমদ্দিন উপজেলা নিয়ে গঠিত। এ দুই উপজেলা নিয়ে ১১৭ সংসদীয় ভোলা -৩ আসন। জাতীয় নির্বাচনে এ আসনে হাফিজের একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী নিজামুল হক নাঈম। তিনি বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) মহাসচিব। এ আসনে নিজামুল হক নাঈমকে ছাড় দিয়ে নিজেদের কোনো প্রার্থী দেয়নি জামায়াত ইসলামী। এখানে ইসলামী আন্দোলনের (হাতপাখা প্রতীকে) মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির ভোলা জেলার (দক্ষিণ) কমিটির উপদেষ্টা মোসলেহউদ্দিন।
তবে আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিনের সাথে জামায়াত ইসলামী সমর্থিত প্রার্থী নিজামুল হক নাঈম (ফুলকপি) প্রতীকের লড়াই হবে বলে মনে করছেন সেখানকার রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ।
ভোলা-৩ আসনটিতে সর্বশেষ জানুয়ারি-২০২৬ ইং সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ভোটার সংখ্যা-৩ লাখ ৮৮ হাজার ৫৫০ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪৯৭ জন। নারী ভোটার ১ লাখ ৮৮ হাজার, ৫০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার-৩ জন।