বাসস
  ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৩২

জবাবদিহিমূলক প্রশাসন ও সন্ত্রাসমুক্ত এলাকা গড়ার প্রতিশ্রুতি ববি হাজ্জাজের

বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের সংসদ সদস্য প্রার্থী ববি হাজ্জাজ। ছবি: বাসস

ঢাকা, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ঢাকা-১৩ আসনকে (মোহাম্মদপুর, আদাবর ও শেরেবাংলা নগর) জনবান্ধব, নিরাপদ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষের সংসদ সদস্য প্রার্থী ববি হাজ্জাজ।

সম্প্রতি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এলাকাভিত্তিক অগ্রাধিকার, নির্বাচনী আচরণবিধি, জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বাসস-এর স্টাফ রিপোর্টার ওবাইদুর রহমান।

ববি হাজ্জাজ বলেন, নির্বাচিত হলে ঢাকা-১৩ আসনের সাতটি ওয়ার্ডে প্রতি মাসে একবার করে ওপেন টাউন হল মিটিং আয়োজন করা হবে। এসব সভায় সংসদ সদস্য, কাউন্সিলর, পুলিশ, তিতাস গ্যাসসহ সব সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। জবাবদিহিতার উদ্দেশ্যে সভাগুলো অনলাইনে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ সরাসরি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং অভিযোগও জানাতে পারবেন।

তিনি বলেন, এলাকার সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং ও মাদক ব্যবসা। এসব অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে। এরই মধ্যে হাউজিং সোসাইটি, মসজিদ কমিটি ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে নিজস্ব উদ্যোগে অপরাধপ্রবণ এলাকায় কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এছাড়া সিসিটিভি (ক্লোজড-সার্কিট টেলিভিশন) ক্যামেরা, পর্যাপ্ত লাইটিং ও স্বেচ্ছাসেবক টহল ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। যা নির্বাচনের পর আরও বিস্তৃত করা হবে।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক বা অন্যকোনো পরিচয়ে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলীয়ভাবে বিএনপিও এ বিষয়ে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ যে এমন কেউ প্রমাণিত হলে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। পাশাপাশি বাজারভিত্তিক চাঁদাবাজি বন্ধে মার্কেট কমিটির সাথে সমন্বয় করে বিকল্প ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

নির্বাচনী আচরণবিধি পালনের বিষয়ে নেতা-কর্মীদের স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, যাতে কোনো ধরনের আচরণবিধি লঙ্ঘন না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে। আমাদের কর্মীরা এ বিষয়ে সজাগ রয়েছে। তবুও অনিচ্ছাকৃত ছোটখাটো ভুল হলে তা দ্রুত সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি অভিযোগ করেন তার প্রতিপক্ষ প্রার্থী মামুনুল হক ও সমর্থকরা আচরণবিধি ভঙ্গ করে বড় আকারের রঙিন ব্যানার, মিছিল ও উচ্চ শব্দ ব্যবহার করে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে তার পক্ষ থেকে নিয়ম মেনে শান্তিপূর্ণভাবে ধানের শীষের প্রচারণার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট প্রসঙ্গে ববি হাজ্জাজ বলেন, গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেওয়া এটি তার ব্যক্তিগত মত নয় বরং জোটের আনুষ্ঠানিক অবস্থান। জোট ইতোমধ্যে গণভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন বলেন, জোটভুক্ত সব দল ও নেতা-কর্মী এই সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবেন এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে থাকবেন।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপির এই প্রার্থী বলেন, এই নির্বাচন বাংলাদেশের জনগণের জন্য গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। বর্তমানে দেশের সামনে দুটি পথ একটি গণতান্ত্রিক জাতীয়তাবাদী রাজনীতি, অন্যটি অগণতান্ত্রিক ও উগ্রবাদী রাজনীতি।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশের জনগণ তাদের দীর্ঘ গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত নেবে এবং গণতান্ত্রিক শক্তির পক্ষেই রায় দেবে।

প্রবাসী ভোটারদের ব্যালট ব্যবস্থাপনা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে পর্যাপ্ত পরীক্ষামূলক কার্যক্রম হয়নি, যা নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। তবে সব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও নির্বাচনকে দেশের জন্য একটি ন্যূনতম গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথ হিসেবেই দেখছেন তিনি।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, ঢাকা-১৩ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৮ হাজার ৭৯১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৯ হাজার ৮১২ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৯৮ হাজার ৯৭১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৮ জন। এছাড়া পোস্টাল ভোটার রয়েছেন ৫ হাজার ৬১৭ জন।

আসনটিতে ববি হাজ্জাজের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থী রয়েছেন ৮ জন। তারা হলেন- জামায়াতে ইসলামী জোট মনোনীত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ  প্রার্থী মো. মামুনুল হক (রিক্সা), বাংলাদেশ ইনসানিয়াত বিপ্লবের ফাতেমা আক্তার মুনিয়া (আপেল), গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) মিজানুর রহমান (ট্রাক), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) মো. খালেকুজ্জামান (মই), বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি-বিএমজেপি’র মো. শাহাবুদ্দিন (রকেট), বাংলাদেশ মুসলিম লীগের শাহরিয়ার ইফতেখার (হারিকেন), স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মো. রবিউল ইসলাম (ঘুড়ি) এবং সোহেল রানা (কলস)।