শিরোনাম

ঢাকা, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ঢাকা-১৬ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনিত প্রার্থী কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেন বলেছেন, জনগণ যদি আমাদের নির্বাচিত করে তবে ঢাকা ১৬ আসনের সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবার দিকে সবার আগে নজর দেওয়া হবে। এখানে সরকারি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করবো যাতে জনগণ যেন স্বল্পমূল্যে চিকিৎসা পেতে পারে সে ব্যবস্থা করবো।
সম্প্রতি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
কর্ণেল (অব.) আব্দুল বাতেন বলেন, এই এলাকাটি প্রধানত শহরের নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত লোকের বসবাস।
আমার এলাকার প্রধান সমস্যাগুলা হলো, মাদক, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সন্ত্রাস। এগুলো টিকে থাকে শাসক দলের পৃষ্টপোষকতায়। জনগণ যদি আমাদের সুযোগ দেয় তবে এগুলোর সমাধন করা হবে। আমরা যদি পৃষ্ঠপোষকতা না করি তবে এসব চাঁদাবাজি, দখলদারি উঠে যাবে। এছাড়া এই এলাকার সকল রাস্তাঘাট
উন্নয়নে কাজ করা হবে।
তিনি বলেন, দেশ স্বাধীনের পর থেকে ভোটারদের যে তিক্ত অভিজ্ঞতা, যে বঞ্চনার ইতিহাস কাজেই ভোটাররা একটি পরিবর্তন চায়। তারা চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও পারিবারিক শাসন চায়না। যে একদলীয় শাসনব্যবস্থা, বৈষম্য ও দলীয় লোকদের সুবিধা দেওয়া ও ব্যবসা বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করে তা থেকে জনগণ এবার পরিত্রাণ চায়। তারা নতুন কাউকে চায়। তাদের সামনে বিকল্প হিসেবে একমাত্র জামায়াতে ইসলাম রয়েছে।
আব্দুল বাতেন বলেন, জনগণ ৫ আগস্টের পর মানুষ দেখেছে জামায়াত তাদের পাশে ছিল। কাজেই জামায়াত ইসলামী তাদের পছন্দের তালিকায়। যাদেরকে তারা চাঁদাবাজি করতে দেখেছে তাদেরকে ভোটাররা ভোট না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নির্বাচন আচরণবিধি সম্পর্কে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক দল। আমরা নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার চেষ্টা করছি। আমাদের প্রতিপক্ষ নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করেছে। আমরা এসব নির্বাচন কমিশনকে অবগত করেছি।
গণভোটের বিষয়ে তিনি বলেন, দাঁড়িপাল্লার প্রচারণার সঙ্গে সঙ্গে আমরা গণভোটে হ্যাঁ এর পক্ষে প্রচারণা করছি। জনগণের পরিবর্তনের যে আকাঙ্ক্ষা, বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার ইচ্ছা; আমরা চাই তা বাস্তবায়ন হোক।
আমরা চাই সে আলোকে সংবিধান সংশোধন হোক।
কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেন বলেন, আমরা চাই প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতায় ভারসাম্য আসুক। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে গঠিত হোক। একই পরিবার থেকে প্রধানমন্ত্রী আসার যে চর্চা তা বন্ধ হোক। আমরা চাই, তৃণমূল থেকে নেতৃত্ব উঠে আসুক।
জামায়াতের প্রার্থী বলেন, একটি নিয়মতান্ত্রিক রাজনৈতিক ধারা চালু হোক। আমাদের দলে যেমন তৃণমূল থেকে নেতৃত্ব উঠে আসে, সকল রাজনৈতিক দলে যেন এটা হয়। দেশে সুন্দর নির্বাচন হলে জামায়াত এবার ক্ষমতায় যাব বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২, ৩, ৫, ৬, নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৬ আসন। পল্লবী ও রূপনগর থানা নিয়ে গঠিত এ আসনের এলাকাগুলো হলে- মিরপুর ১০, ১১, ১২, ৬, ৭ নম্বর, কালশী, সাংবাদিক আবাসিক এলাকা, ঝুটপট্টি, এভিনিউ ফাইভ, সবুজ বাংলা, নাভানা, এক্সটেনশন পল্লবী,ইস্টার্ন হাউজিং, রূপনগর আবাসিক, রূপনগর পুকুরপাড় বা ঝিলপাড় বস্তি, মুসলিম বাজার, ধ-ব¬ক, মিরপুর ডিউএইচএস, স্বাগুপ্তা, বাউনিয়াবাঁধ, লালমাইটা, বেগুন টিলা বস্তি ও সিরামিক বস্তি। এছাড়া এই আসনটিতে ৩৯টি বিহারি ক্যাম্প রয়েছে।
এ
খানে মোট ভোটার ৪ লাখ ৪৯৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১ হাজার ১৬৮ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৯৯ হাজার ৩২৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) ভোটার রয়েছেন ৮ জন।
ঢাকা-১৬ আসনের প্রার্থীরা হলেন: বিএনপির মো. আমিনুল হক, জামায়াতে ইসলামীর মো. আব্দুল বাতেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. সাইফুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মোহাম্মাদ তৌহিদুজ্জামান, মুক্তিজোটের আব্দুল কাদের জিলানী, গণঅধিকার পরিষদের মো. মামুন হোসেন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির এ কে এম মোয়াজ্জেম হোসেন, এনপিপির মো. তারিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপির মো. নাজমুল হক, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের রাশিদুল ইসলাম ও জাতীয় পার্টির সুলতান আহম্মেদ সেলিম।