শিরোনাম

ঢাকা, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): নির্বাচনে বিজয়ী হলে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক এবং কিশোর গ্যাংয়ের সমস্যা কবলিত ঢাকা-১৩ আসনকে নিরাপদ জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে পদক্ষেপ নেয়ার অঙ্গীকার করেছেন মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক।
তিনি বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ ও রাজনৈতিক নেতা। বর্তমানে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির এবং হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট থেকে ঢাকা-১৩ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের পক্ষে ‘ রিক্সা’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
মুহাম্মাদ মামুনুল হক ১৯৭৩ সালে ঢাকার আজিমপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক (রহ.) ছিলেন উপমহাদেশের খ্যাতিমান হাদীস বিশারদ ও সহীহ বুখারীর প্রথম বাংলা অনুবাদক। মাওলানা মামুনুল হক জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া, ঢাকা থেকে দাওরায়ে হাদীসে প্রথম স্থান অর্জন করেন এবং পরবর্তীতে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ থেকে অর্থনীতিতে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন।
তিনি দীর্ঘদিন ধরে জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার শায়খুল হাদীস, মাসিক রাহমানী পয়গাম-এর সম্পাদক এবং জামিআতুত তারবিয়্যাহ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ দেশে ইসলামী আন্দোলন, শিক্ষা ও সংগঠনে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে।
ইসলামী চিন্তা ও সমাজব্যবস্থা নিয়ে তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে নারী অধিকার: ব্যাখ্যা ও ভ্রান্তি নিরসন, খেলাফতব্যবস্থা: পরিচিতি ও নীতিমালা এবং কারাগার থেকে বলছি। আদর্শভিত্তিক সমাজ ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পক্ষে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে জনগণের কাছে তার অঙ্গিকার, প্রত্যাশা ও মতিঝিলের শাপলা থেকে জুলাই বিপ্লবের শহীদদের আত্মত্যাগ , জুলাই সনদ এবং নির্বাচনী পরিবেশ ইত্যাদি বিষয় নিয়ে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সিনিয়র রিপোর্টার মো. আমিনুল ইসলামের সাথে খোলামেলা আলোচনা হয়।
পাঠকদের কাছে আলোচনাটি তুলে ধরা হলো:
প্রথমেই নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের জন্য তাঁর প্রধান নির্বাচনী অঙ্গীকারের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার প্রধান অঙ্গীকার হলো ঢাকা-১৩ আসনকে একটি 'নিরাপদ জনপদ' হিসেবে গড়ে তোলা।
এই এলাকার অন্যতম প্রধান সমস্যা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি মাদক এবং কিশোর গ্যাং। নির্বাচিত হলে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করব। মাদকসাম্রাজ্য সমূলে নির্মূল করব। কিশোরদের সুপথে আনার উদ্যোগ নেব। তাদের মাথায় হাত বুলিয়ে বুকে জড়িয়ে নেব। তাদের জন্য শিক্ষা, বিনোদন ও কর্মসংস্থান তৈরি করব।’
নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলতে নেতা-কর্মীদের প্রতি কি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে জানতে চাইলে মামুনুল হক বলেন,‘ আমি আমার সকল নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের প্রতি সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছি, যেন নির্বাচনের প্রতিটি ধাপে আচরণবিধি শতভাগ মেনে চলা হয়। আমাদের আচরণে ফুটে উঠবে ইসলামের সুমহান আদর্শ। আমাদের প্রচারণা হচ্ছে পরিচ্ছন্ন।
তাছাড়া অন্য কোনো প্রার্থীর প্রচারে বিঘ্ন সৃষ্টি করা যাবে না।
কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা উস্কানিমূলক কাজে আমরা প্রভাবিত হবো না। আমরা নিজেরা কোনপ্রকার অন্যায় করবো না, অন্য কারো অন্যায় দেখলে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব,আইন নিজ হাতে তুলে নেব না।’
জুলাই সনদ বিষয়ে গণভোট প্রসঙ্গে মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক বলেন,‘ বিগত ১৭ বছরের ধারাবাহিক আন্দোলন, শাপলা থেকে জুলাই বিপ্লবের শহীদদের রক্ত এবং ছাত্র-জনতার আকাঙক্ষার প্রতিফলন হলো এই 'জুলাই সনদ'। আমি শুরু থেকেই বলে আসছি, এই সনদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি অত্যন্ত জরুরি।
জুলাই সনদ বিষয়ে গণভোটের মাধ্যমে জনগণের সরাসরি রায় নেওয়া হলে তা গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্যকে স্থায়ী ও বৈধ রূপ দেবে। আমি মনে করি, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে এই সনদের বাস্তবায়ন হবে আগামীর রাজনীতির ভিত্তি। সবাইকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার প্রতি জোর আহ্বান জানাচ্ছি।’
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রত্যাশা ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি প্রত্যাশা করি একটি উৎসবমুখর অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন, যেখানে দীর্ঘ সময় পর সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। যেখানে কোন পেশী শক্তির প্রয়োগ থাকবে না। কালো টাকার ছড়াছড়ি থাকবে না।
কোন ভয়ভীতি, আতঙ্ক ছাড়াই জনগণ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবে। আশা করছি, মানুষ পেশীশক্তি নির্ভর রাজনীতির বিপক্ষে ইনসাফের পক্ষে ১১ দলীয় ঐক্যকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করবে ইনশাআল্লাহ।’
ঢাকা-১৩ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৮ হাজার ৭৯১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৯ হাজার ৮১২ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৯৮ হাজার ৯৭১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৮ জন। এছাড়া পোস্টাল ভোটার রয়েছেন ৫ হাজার ৬১৭ জন।
আসনটিতে জামায়াতে ইসলামী জোট মনোনীত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ প্রার্থী মো. মামুনুল হক (রিক্সা) ছাড়াও বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ববি হাজ্জাজ, বাংলাদেশ ইনসানিয়াত বিপ্লবের ফাতেমা আক্তার মুনিয়া (আপেল), গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) মিজানুর রহমান (ট্রাক), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) মো. খালেকুজ্জামান (মই), বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি-বিএমজেপি’র মো. শাহাবুদ্দিন (রকেট), বাংলাদেশ মুসলিম লীগের শাহরিয়ার ইফতেখার (হারিকেন), স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মো. রবিউল ইসলাম (ঘুড়ি) এবং সোহেল রানা (কলস) প্রার্থী রয়েছেন ।