বাসস
  ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৪১
আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৫

ফাঁকা প্রতিশ্রুতি নয়, পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ: ঢাকা-১৬ আসনে বিএনপি প্রার্থী আমিনুল হক

ঢাকা-১৬ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী আমিনুল হক। ছবি: বাসস

ঢাকা, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : নির্বাচনী বৈতরণি পার হতে সস্তা বা ফাঁকা প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাসী নন বলে জানিয়েছেন ঢাকা-১৬ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী আমিনুল হক। 

তিনি বলেন, ‘জনগণের প্রত্যক্ষ মতামতের ভিত্তিতে প্রণীত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নই আমার মূল অঙ্গীকার। একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও মানবিক দেশ গড়তে আমি কাজ করব।’

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি, আচরণবিধি পালন, জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রত্যাশা সম্পর্কে তিনি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)’কে এসব কথা বলেন।

আমিনুল হক বলেন, ‘আমি ছোটবেলা থেকেই ঢাকা-১৬ আসনের এলাকায় বড় হয়েছি। এলাকার অলিগলি আমার চেনা। তাই আমি ভোটারদের কাছে কোনো ফাঁকা প্রতিশ্রুতি নয়, বরং আগামীর বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা তুলে ধরছি। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ঘুরে পথসভা ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে মানুষের প্রত্যাশা ও সমস্যার কথা শুনেছি এবং সেগুলো নথিভুক্ত করে পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছি। নির্বাচিত হলে এসব পরিকল্পনা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করব।’

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। জনগণের এই অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিএনপি ঢাকা-১৬ আসনসহ সারা দেশে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবে বলে আমি আশাবাদী। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান, উই হ্যাভ এ প্ল্যান—ফর দ্য পিপল, ফর দ্য কান্ট্রি’ বক্তব্যের আলোকে পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।’

নির্বাচিত হলে এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন ও চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান বিএনপির এই প্রার্থী। 
তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা, গ্যাস সংকট ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের মতো নানা সমস্যায় রাজধানী ঢাকা জর্জরিত। ভোটারদের প্রত্যাশা, যারা নির্বাচিত হবেন তারা এসব সমস্যা সমাধানে গুরুত্ব দেবেন।

আমিনুল হক আরও বলেন, ‘আমার নেওয়া পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের সুযোগ পেলে আমি রাজনীতিবিদদের প্রতি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস ফিরিয়ে আনব।’

নির্বাচনী আচরণবিধি পালনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দলের সব নেতাকর্মীকে নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি শতভাগ মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের সহিংসতা বা ভয়ভীতি প্রদর্শনে আমরা বিশ্বাসী নই। পোস্টার ও ব্যানার ব্যবহারেও ইসি’র বিধি মেনে চলা হচ্ছে। শান্তিপূর্ণভাবেই ভোটারদের কাছে কর্মসূচি ও প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছি এবং নিয়ম মেনেই শেষ পর্যন্ত প্রচারণা চালানো হবে।’

জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট প্রসঙ্গে আমিনুল হক বলেন, ‘গণভোটই গণতন্ত্রের মূল শক্তি। গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাষ্ট্র কাঠামোর পরিবর্তনের যে দাবি উঠেছে, তা বাস্তবায়নে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করার পক্ষে বিএনপি। দলের ঘোষিত ৩১ দফায় সংস্কারের মৌলিক ভিত্তিগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। 

এ কারণে আমরা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নেবো।’

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রত্যাশা জানিয়ে আমিনুল হক বলেন, তিনি একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চান, যেখানে সব রাজনৈতিক দল সমান সুযোগ পাবে। নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক দায়িত্ব নিরপেক্ষভাবে পালন করবে—এটাই জনগণের প্রত্যাশা।’

তিনি বলেন, ‘জনগণ নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারলে অবহেলিত মানুষের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আমার ঘোষিত কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নের সুযোগ পাবো।’

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২, ৩, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৬ সংসদীয় আসন। পল্লবী ও রূপনগর থানা নিয়ে গঠিত এই আসনের অন্তর্ভুক্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে মিরপুর ১০, ১১, ১২, ৬ ও ৭ নম্বর এলাকা, কালশী, সাংবাদিক আবাসিক এলাকা, ঝুটপট্টি, অ্যাভিনিউ ফাইভ, সবুজ বাংলা, নাভানা, এক্সটেনশন পল্লবী, ইস্টার্ন হাউসিং, রূপনগর আবাসিক এলাকা, রূপনগর পুকুরপাড় ও ঝিলপাড় বস্তি, মুসলিম বাজার, ধ-ব¬ক, মিরপুর ডিওএইচএস, স্বাগুপ্তা, বাউনিয়াবাঁধ, লালমাইটা, বেগুনটিলা বস্তি ও সিরামিক বস্তি। এ ছাড়া এই আসনে ৩৯টি বিহারী ক্যাম্প রয়েছে।

এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৪৯৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১ হাজার ১৬৮ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৯৯ হাজার ৩২৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৮ জন।

ঢাকা-১৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন- বিএনপির মো. আমিনুল হক, জামায়াতে ইসলামীর মো. আব্দুল বাতেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. সাইফুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মোহাম্মদ তৌহিদুজ্জামান, মুক্তিজোটের আব্দুল কাদের জিলানী, গণঅধিকার পরিষদের মো. মামুন হোসেন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির এ কে এম মোয়াজ্জেম হোসেন, এনপিপির মো. তারিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপির মো. নাজমুল হক, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের রাশিদুল ইসলাম এবং জাতীয় পার্টির সুলতান আহম্মেদ সেলিম।