শিরোনাম

চাঁদপুর, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বাসস): আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর ১( কচুয়া) আসনের ১১ দলীয় জোট সমর্থিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবু নসর মোহাম্মদ মকবুল আহমেদ নিরাপদ ও উন্নত কচুয়া বিনির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে নিরাপদ কচুয়া বিনির্মাণে সর্বাত্মক চেষ্টা করব। রাস্তাঘাট, পুল কালভার্ট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন করবো। সম্প্রতি বাসসকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব প্রতিশ্রুতি দেন।
মুহাদেছ আবু নছর আশরাফি দীর্ঘ চল্লিশ বছর যাবৎ জামায়াতে ইসলামী ও শিবিরের রাজনীতির সাথে যুক্ত আছেন। তিনি বর্তমানে চাঁদপুর জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি পেশায় একজন শিক্ষক।
তার সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন বাসসের চাঁদপুর জেলা সংবাদদাতা আব্দুস সালাম আজাদ জুয়েল।
বাসস: আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি কী?
আবু নছর আশরাফী : আসসালামু আলাইকুম। আপনাদের মাধ্যমে আমার কচুয়াবাসিকে ধন্যবাদ এবং মোবারকবাদ জানাই। আপনাদের ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে কচুয়াবাসীর জন্য আমাদের কিছু মেগা পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাচনি ইশতেহারের মাধ্যমে সেগুলি ধারাবাহিকভাবে আপনাদের মাঝে উপস্থাপন করবো ইনশাল্লাহ।
বিগত ৫৪ বছরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক কালচারটাই এমন হয়ে আসছে, যারাই ক্ষমতায় আসে বিরোধীরা সিংহভাগ ক্ষেত্রেই ঘরছাড়া হয়ে যায়। নিরাপদ জীবন যাপন করার সুযোগ তারা পায় না।
নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। আমরা ইনশাল্লাহ কথা দিচ্ছি, ধর্ম বর্ণ দল-মত নির্বিশেষে কচুয়ার সাড়ে চার লক্ষ মানুষের জন্য একটি নিরাপদ কচুয়া বিনির্মাণের সর্বাত্মক চেষ্টা করব।
যিনি কচুয়ার নাগরিক হবেন, তিনি আমাদের কাছে নিরাপদ থাকবেন। তিনি কোনো আশঙ্কাবোধ করবেন না। তিনি স্বাভাবিকভাবে জীবন যাপনের সর্বোচ্চ গ্যারান্টি পাবেন।
আমরা রাস্তাঘাট, পুল-কালভার্ট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ গ্রামীণ অবকাঠামোর অগ্রাধিকার দিয়ে একটি আধুনিক উন্নত কচুয়া বিনির্মাণ করব। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে চাকরি ক্ষেত্রে মেধার স্বাক্ষর রাখতে পারে সেই ব্যবস্থা করবো। এ এলাকার প্রবাসী ভাইদের প্রতি ধন্যবাদ এবং মোবারকবাদ জানাচ্ছি। তারা অনেক পরিশ্রম ও কষ্ট করে প্রবাসে থেকে অর্থ উপার্জন করে দেশে পাঠাচ্ছেন। রেমিট্যান্স অর্জন করছেন। আমরা এই প্রবাসী ভাইদের প্রবাস জীবনের সুখ-দুঃখের সঙ্গী হতে চাই। আমরা কচুয়ার মা এবং বোনদের নিরাপদ জীবন যাপনের জন্য উদ্যোগী ভূমিকা রাখতে চাই।
বাসস : নির্বাচনি আচরণবিধি পালনে নেতাকর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?
আবু নছর আশরাফী : আমরা শতভাগ আচরণবিধি মেনে চলার পক্ষে। আমরা চাই অন্যরাও সবাই নির্বাচন কমিশনের দেওয়া নির্দেশনা মোতাবেক আচরণবিধি মেনে নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা চালাবে।
বাসস : জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী ?
আবু নছর আশরাফী : জুলাই বিপ্লবে যারা জীবন দিলেন আমাদের কলিজার টুকরা সন্তানেরা তাদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি। তাদের জন্য শাহাদাতের মর্যাদা কামনা করি। যারা আহত এবং পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন তাদের সুস্থতা কামনা করছি। তাদের পরিবারকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি। তাদের শরীর এবং আহত হওয়ার বিনিময়ে আমরা একটু স্বাধীনভাবে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছি। দ্বিতীয় স্বাধীনতা যাকে বলা হচ্ছে, সেই স্বাধীনতার সুখ আমরা উপভোগ করছি। জুলাই বিপ্লবের মূল উদ্দেশ্য ছিল মূলত একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠন করা। জুলাই সনদ যার প্রত্যক্ষ প্রমাণ রাখবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
তাই কচুয়াবাসিকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণের পক্ষে, সত্যিকারের বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি।
বাসস : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী ?
আবু নছর আশ্রফি: নির্বাচনি প্রচারণার প্রথম থেকেই এ পর্যন্ত জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া, আন্তরিক সহযোগিতা এবং দোয়া আমরা হৃদয়ঙ্গম করেছি। আমরা প্রত্যাশা করি জনগণের মাঝে চিন্তার যে বিপ্লব ঘটেছে, ১২ই ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনে সে বিপ্লবের প্রতিফলন ঘটবে ইনশাল্লাহ। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আগামী সংসদ নির্বাচনে কচুয়ার জনগণের সেই প্রত্যাশা পূরণের হাসি নিয়ে ঘরে ফিরবে ইনশাল্লাহ।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর ১( কচুয়া )আসনে মোট ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের অন্যান্যরা হলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী আ ন ম এহসানুল হক মিলন (ধানের শীষ), গণফোরামের প্রার্থী মোহাম্মদ আজাদ হোসেন (উদীয়মান সূর্য), বাংলাদেশ ইসলামি ফ্রন্ট-এর প্রার্থী মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন (মোমবাতি), গণ অধিকার পরিষদের মো. এনায়েত হোসেন (ট্রাক) এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী হাবিব খান (লাঙল)।
চাঁদপুর ১ (কচুয়া) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৭৪৬ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৭০ হাজার ৮৫৯ জন ও পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৭ হাজার ৮৮৪ জন।
মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১১০ টি। মোট ভোট কক্ষের সংখ্যা ৬৪১টি।