শিরোনাম

চাঁদপুর, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বাসস): চাঁদপুর ১ (কচুয়া) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ ন ম এহসানুল হক মিলন কচুয়াকে সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত আধুনিক উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাসসকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, এ এলাকায় ভূমিদস্যুদের দৌরাত্ম্য ও সন্ত্রাস মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছেছে। হাটবাজার ইজারার নামে মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। আমি নির্বাচিত হলে কঠোর হস্তে এসব জুলুম বন্ধ করবো।
অ ন ম এহসানুল হক মিলন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। তিনি ২০০১ থেকে ২০০৬ এবং ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক। বর্তমানে তিনি কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য।
তিনি দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত আছেন। তিনি ছাত্র জীবনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন।
তার এই সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন বাসসের চাঁদপুর জেলা সংবাদদাতা আব্দুস সালাম আজাদ জুয়েল।
বাসস : আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি কী?
এহসানুল হক মিলন : আসসালামু আলাইকুম। আমি আমার এলাকার ভোটারদের উদ্দেশ্যে প্রথমেই বলবো, আমার এলাকায় কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চলবে না। কোনও চাঁদাবাজি হতে পারবে না। এখানে কোনো ভূমিদস্যুদের জায়গা নেই। নির্বাচিত হলে হাটবাজারগুলো ট্যাক্স ফ্রি করে দেওয়া হবে। বিভিন্ন সময়ে বাজারগুলো ডাক দিয়ে জনগণকে ট্যাক্স এর নামে হয়রানি করা চলবে না।
বেগম খালেদা জিয়া গ্রামীণ উন্নয়নে গুরুত্ব দিতেন। আমি নির্বাচিত হলে গ্রামীণ উন্নয়ন, কারিগরি শিক্ষার প্রসার ও বেকারদের কর্মসংস্থানের জন্য কাজ করবো।
বাসস: নির্বাচনি আচরণ বিধি পালনে নেতাকর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?
এহসানুল হক মিলন : এবারের নির্বাচন বহুদিনের প্রত্যাশিত নির্বাচন। জাতির দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য প্রথম এই নির্বাচন। এই নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক করতে বিএনপিকে বেশি দায়িত্ব নিতে হবে। এই নির্বাচনে যদি কোনো কারণে ব্যত্যয় ঘটে বা প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তাহলে বিএনপিকেই মানুষ বেশি দোষারোপ করবে। বিএনপি বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ দল। নির্বাচন কমিশন যেভাবে বলছে, সেভাবেই শতভাগ নিয়ম মেনে চলার জন্য আমরা দলের নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছি। এর ব্যত্যয় ঘটাতে আমরা কোনোভাবেই দেব না। এটাই পলিটিশিয়ান হিসেবে আমাদের কমিটমেন্ট।
বাসস : জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী ?
এহসানুল হক মিলন : বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাষ্ট্র মেরামতের যে ৩১ দফা দিয়েছিলেন, সেখানেও এই বিষয়গুলি আছে। গণভোটে চারটি দফা রয়েছে। তাই আমাদের ৩১ দফা যারা বিশ্বাস করে এবং রাষ্ট্র মেরামতের জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের কার্যক্রমে বিশ্বাস করে, তারা এই চার দফার বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। জুলাই সনদের বাইরে যাওয়ারও কোনো সুযোগ নেই।
বাসস : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী ?
এহসানুল হক মিলন : আমাদের প্রত্যাশা একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠান। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি তিন তিনবার রাষ্ট্র শাসন করার সুযোগ পেয়েছে।
সেই সাথে আমিও পাঁচ বছর প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করার সুযোগ পেয়েছি। এবারের নির্বাচনে জয়ী হলে আগামীর বাংলাদেশকে বিশ্বের মানচিত্রে একটি সমৃদ্ধিশালী দেশ হিসেবে আমরা তুলে ধরব। এজন্য বাংলাদেশে যে সমস্যাগুলো রয়েছে, গ্রামীণ জনপদ থেকে শুরু করে শহর পর্যন্ত প্রত্যেকটি সমস্যার সমাধানে কাজ করবো।
বিশেষ করে ড. মুহাম্মদ ইউনুস সরকার উৎসবমুখর পরিবেশে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দেওয়ার যে অঙ্গীকার করেছেন, সেই নির্বাচনের অপেক্ষায় আমরা আছি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দেবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর ১( কচুয়া )আসনে মোট ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই আসনের অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন, ১১ দলীয় জোটের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবু নছর মোহাম্মদ মকবুল আহমেদ (দাঁড়িপাল্লা), গণফোরামের প্রার্থী মোহাম্মদ আজাদ হোসেন (উদীয়মান সূর্য), বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন (মোমবাতি), গণ অধিকার পরিষদের মো. এনায়েত হোসেন( ট্রাক) এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী হাবিব খান (লাঙল) ।
চাঁদপুর ১ (কচুয়া) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৭৪৬ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৭০ হাজার ৮৫৯ জন ও পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৭ হাজার ৮৮৪ জন। মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১১০ টি। মোট ভোট কক্ষের সংখ্যা ৬৪১টি।