শিরোনাম

ঢাকা, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষার উন্নয়ন, মাদকমুক্ত পরিবেশ এবং মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়নের মাধ্যমে ঢাকা-৪ আসন গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন।
তিনি বলেছেন, ঢাকা-৪ (ডিএনসিসি ৪৭,৫১,৫২,৫৩,৫৪,৫৮,৫৯,৬০,৬১ নং ওয়ার্ড এবং শ্যামপুর ও কদমতলী থানা) রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন হলেও বাস্তবে দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকা অবহেলা ও নাগরিক সুবিধার অভাবে চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে। ঢাকার অন্যান্য এলাকার তুলনায় এখানে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারী, শ্রমিক এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তাহীনতা, দুর্বল স্বাস্থ্যসেবা এবং অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছেন। ঢাকা-৪-এর মাটি থেকে দুর্নীতির বিষবৃক্ষ উপড়ে ফেলার সময় এসেছে। জনগণের কষ্টার্জিত টাকা আর কারও পকেটে যেতে দেওয়া হবে না।
ঢাকা-৪ আসনে জামায়াত ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলের জোটের প্রার্থী সৈয়দ জয়নুল আবেদিন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই এলাকার বর্তমান অবস্থা এবং তার পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন।
১৯৮৯ সাল থেকে এই এলাকায় বসবাসরত জয়নুল আবেদিন বলেন, ঢাকা-৪ আসনটি নামেই রাজধানীর অংশ, বাস্তবে এটি একেবারেই অবহেলিত একটি এলাকা। এখানকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যার মধ্যে বাস করছেন এবং আমি নিজেও একজন বাসিন্দা হিসেবে এসব সমস্যার সাক্ষী।
তিনি আরও বলেন, এলাকার গ্যাস সংকট, জলাবদ্ধতা এবং ভাঙা রাস্তা মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বিরাট প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে। গ্যাস নেই, সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যায় এবং ভাঙা রাস্তা নিয়ে ভোগান্তি তো আছেই।
মাদকব্যবসা ও কিশোরগ্যাংয়ের প্রসঙ্গে সৈয়দ জয়নুল আবেদীন বলেন, এলাকার মাদক পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ঢাকার অন্যান্য এলাকার তুলনায় ঢাকা-৪-এ মাদক ব্যবসা সবচেয়ে বেশি চলছে। কিশোরগ্যাংয়ের সমস্যা এখানকার অপরাধের চেহারা আরও জটিল করে তুলেছে। এসব অপরাধমূলক কার্যক্রমে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা দিন দিন আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।
এলাকার নাগরিক সুবিধার অভাব এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য সেবার দুরাবস্থা নিয়ে তিনি অত্যন্ত উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ঢাকা-৪ আসনের নয়টি ওয়ার্ডে একটি খেলার মাঠও নেই, কমিউনিটি সেন্টার নেই, যেখানে সামাজিক বা সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনা করা যেতে পারে। এটি তরুণদের মাদক এবং অপরাধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে সরকারী হাসপাতালের অভাব এবং বেসরকারি হাসপাতালগুলোর অপর্যাপ্ততা নিয়ে জয়নুল আবেদীন বলেন, এখানে কোনো সরকারি হাসপাতাল নেই। বেসরকারি হাসপাতাল থাকলেও, সেগুলো তেমন মানসম্পন্ন নয়। এই এলাকার মানুষের সস্তা বা ফ্রি চিকিৎসার ব্যবস্থা মেলেনি।
চাঁদাবাজি এবং অবৈধ দখল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখানে সব ধরনের ব্যবসায়ী, ছোট কিংবা বড়, নিয়মিত চাঁদা দিতে বাধ্য। আর সন্ত্রাসীরা সরকারী এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করছে। ফলে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও শিথিল হয়ে পড়েছে।
এই সমস্যাগুলোর সমাধানের বিষয়ে সৈয়দ জয়নুল আবেদীন বলেন, আমাদের দলের অবস্থান খুবই স্পষ্ট। আমরা দুর্নীতির সঙ্গে কখনও জড়িত হব না। আমাদের মূল আন্দোলন হচ্ছে ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম। আমি বিশ্বাস করি, মাদক, চাঁদাবাজি এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করতে হলে, এসবের পিছনে থাকা শক্তিশালী পৃষ্ঠপোষকদের চিহ্নিত করতে হবে এবং আইনের আওতায় আনতে হবে।
নির্বাচনী আচরণবিধি নিয়ে তিনি বলেন, আমরা শতভাগ আচরণবিধি মেনে চলার চেষ্টা করছি। আমাদের দলের কাছে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে, প্রথমে নিজেকে আইন মেনে চলতে হবে।
গণভোটের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা গণভোটে অংশগ্রহণ করতে জনগণকে উৎসাহিত করছি এবং ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। এটি দেশের এবং জাতির স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভোটারদের প্রতিক্রিয়া নিয়ে তিনি বলেন, ভোটাররা বলছেন, তারা গত ৫৪ বছর ধরে সন্ত্রাস, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি এবং মাদক ব্যবসা দেখেছেন। এখন তারা পরিবর্তন চান। অনেকেই মনে করেন, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে দেশ দুর্নীতিমুক্তভাবে পরিচালিত হবে। তাদের বিশ্বাস এবং সমর্থন আমাদের জন্য এক বিশাল প্রাপ্তি।
এইভাবে, জামায়াত প্রার্থী সৈয়দ জয়নুল আবেদিন তার নির্বাচনী পরিকল্পনা এবং ভবিষ্যত উদ্যোগের মাধ্যমে ঢাকা-৪ আসনে নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত করার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচনী কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং জনগণের সহায়তায় তারা এই পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবেন।
ঢাকা-৪ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৬৮৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০৯ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৭৫ হাজার ১৭১ জন, তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৫ জন। পোস্টাল ব্যালট পেপারে ভোট প্রদানের জন্য নিবন্ধন করেছে ৩ হাজার ৮২১ জন। আসনে ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১১৫ টি।
আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন- বিএনপি প্রার্থী তানভীর আহমেদ রবিন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মোহাম্মদ ফিরোজ আলম (কাস্তে), স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ মিজানুর রহমান (ফুটবল), জনতার দল প্রার্থী মো: আবুল কালাম আজাদ (কলম), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল- বাসদ প্রার্থী মো: জাকির হোসেন (মই), বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (মুক্তিজোট) প্রার্থী সাহেল আহম্মেদ সোহেল (ছড়ি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন (দাঁড়িপাল্লা) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী সৈয়দ মো: মোসাদ্দেক বিল্লাহ (হাতপাখা)।