শিরোনাম

ঢাকা, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৭ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ও ব্যবসায়ী হাফেজ মুহাম্মদ এনায়াত উল্লাহ্ তার নির্বাচনী এলাকায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি বন্ধ, মাদক নির্মূল ও ব্যবসাবান্ধব আইন সংস্কারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
সম্প্রতি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, মাদকের বিস্তার একটি এলাকার সামাজিক পরিবেশকে ধ্বংস করে দেয় এবং অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মাদক নির্মূল না করা গেলে পরিবার, সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সবকিছুই ঝুঁকির মুখে পড়বে। আমার আসনটি ব্যবসাবান্ধব এলাকা হলেও বিদ্যমান কিছু আইন ব্যবসায়ীদের জন্য বৈষম্যমূলক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে সেগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নেবো।
সাক্ষাৎকারজুড়ে তিনি ঢাকা-৭ আসনে নাগরিকের জীবনমানের উন্নয়নে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, মাদক নির্মূল ও ব্যবসাবান্ধব পরিবশে তৈরি করতে তার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন।
সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বাসস’র প্রতিবেদক মাহাদী হাসান।
বাসস : এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার প্রধান নির্বাচনী অঙ্গীকার কী কী?
এনায়াত উল্লাহ্ : আমার এলাকায় অন্যতম প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে মাদকের ব্যাপক বিস্তার। মাদকাসক্তদের শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে দমন করলেই সমাধান আসবে না, বরং তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে বিকল্প ও গঠনমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। এসব অপরাধ দমন করা না গেলে এলাকায় শান্তি, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও স্বাভাবিক ব্যবসা-বাণিজ্য নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এ লক্ষ্যে তরুণদের খেলাধুলা ও সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত করবো।
তিনি জানান, তার নির্বাচনী আসনের সবগুলো ওয়ার্ডে আলাদা আলাদা ক্রীড়া দল গঠন করে ক্রিকেট, ফুটবল ও ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। কারণ তরুণরা খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকলে মাদক ও অপরাধের দিকে ঝুঁকে পড়ার আশঙ্কা কমবে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় খেলার মাঠের সংকটের কথা উল্লেখ করে জামায়াত প্রার্থী বলেন, অনেক খোলা জায়গা ও মাঠ বিভিন্ন সংস্থা বা ব্যক্তি দ্বারা দখল হয়ে আছে। এসব জায়গা উদ্ধার করে খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ব্যবসায়ীদের প্রসঙ্গে এনায়াত উল্লাহ বলেন, ঢাকা-৭ আসনটি মূলত একটি ব্যবসাবান্ধব এলাকা হলেও বিদ্যমান কিছু আইন ব্যবসায়ীদের জন্য বৈষম্যমূলক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে আয়কর আইন, ভ্যাট আইন, ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং নিরাপদ খাদ্য আইনের প্রয়োগে ব্যবসায়ীরা নানা ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, বাস্তব ব্যবসায়িক পরিবেশে লাভ ও লোকসান দু’টোই থাকে। কিন্তু বর্তমান আইনি কাঠামোতে লোকসানের বিষয়টি স্বীকার করা হয় না। এতে ব্যবসায়ীরা অনিচ্ছাকৃতভাবে অপরাধী হয়ে যাচ্ছেন। নিরাপদ খাদ্য আইনে স্যাম্পল সংগ্রহ ও পরীক্ষার ক্ষেত্রে যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করায় অনেক ব্যবসায়ী হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অনেক সময় উভয় পক্ষের উপস্থিতি ও সম্মতি ছাড়া নমুনা পরীক্ষা করা হয়। ফলে এতে বিচারিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয় না। আমি সংসদে গেলে এসব বৈষম্যমূলক আইন সংস্কারের জন্য কাজ করবো।
বাসস : নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালনে নেতা-কর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?
এনায়াত উল্লাহ্ : আমার দলের নেতা-কর্মী ও পোলিং এজেন্টদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আচরণবিধি কীভাবে মানতে হবে, কীভাবে প্রচারণা চালাতে হবে, সেসব বিষয়ে জামায়াতের কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। এতে করে আমাদের নেতা-কর্মীরা এখন পর্যন্ত বড়ধরনের আচরণবিধি লঙ্ঘন করেনি।
বাসস : জুলাই সনদ বিষয়ে গণভোট প্রসঙ্গে আপনার অবস্থান কী?
এনায়াত উল্লাহ্ : জুলাই সনদ বিষয়ে সম্ভাব্য গণভোটে আমার অবস্থান স্পষ্টভাবে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে। আমরা সাধারণ মানুষের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করতে প্রচারণা চালাচ্ছি। কারণ জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে অতীতের নির্যাতন ও দমন-পীড়নের বিচার হবে না। এছাড়াও নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের যে আকাঙ্খা নিয়ে এদেশের ছাত্র-জনতা জুলাইয়ে রক্ত দিয়েছিলো সেটিও ব্যর্থ হবে।
বাসস : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?
এনায়াত উল্লাহ্ : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আমি আশাবাদী। সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখতে পাচ্ছি। মানুষ একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। এতে করে প্রশাসন চাইলেও নির্বাচনের দিন পক্ষপাতমূলক আচরণ করতে পারবে না। জনগণ যেহেতু ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার মত ফ্যাসিস্টকে তাড়িয়েছে, ঠিক একইভাবে কেউ ভোট কেন্দ্র দখল কিংবা কারচুপি করতে আসলেও তাদের প্রতিরোধ করবে।
নির্বাচনে জয়ী হলে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন উল্লেখ করে এনায়াত উল্লাহ্ বলেন, সবকিছু একদিনে সম্ভব নয়, তবে সন্ত্রাস, মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমার অবস্থান থাকবে আপসহীন। আমি কিছু কাজ করবো বলে মানুষকে কমিটমেন্ট দিচ্ছি, যেমন- চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও মাদক নির্মূল করবোই। আর অন্যান্য যেগুলো প্রশাসনিক কাজ আছে, সেগুলোর জন্য আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করার আশ্বাস দিচ্ছি, কারণ এগুলো একদিনেই সমাধান করা সম্ভব না।
ঢাকা-৭ আসন দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড নং: ২৩, ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ২৮, ২৯, ৩০, ৩১, ৩২, ৩৩, ৩৪, ৩৫, ৩৬ এবং ৫৬ ও ৫৭ এলাকা নিয়ে গঠিত। এই আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৭৯ হাজার ৩৭৭ জন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ও ব্যবসায়ী হাফেজ মুহাম্মদ এনায়াত উল্লাহ্ ছাড়াও আসনটিতে অন্য প্রার্থীরা হলেন- ধানের শীষ প্রতীকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) হামিদুর রহমান, জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন (লাঙ্গল), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) সীমা দত্ত (কাঁচি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আবদুর রহমান (হাতপাখা), বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (মুক্তিজোট) মাকসুদুর রহমান (ছড়ি), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির মো. শহিদুল ইসলাম (কাঁঠাল), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন মো. হাবিবুল্লাহ (বটগাছ), বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি (বিআরপি) শফিকুর রহমান (হাতি), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি প্রার্থী শাহানা সেলিম (তারা) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ ইসহাক সরকার (ফুটবল)।