বাসস
  ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৩৮

শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আর্থসামাজিক উন্নয়নের অঙ্গীকার পটুয়াখালী-৩ এর জামায়াত প্রার্থী শাহ আলমের 

পটুয়াখালী-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক শাহ আলম। ছবি: বাসস

পটুয়াখালী, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বাসস) : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক শাহ আলম শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আর্থসামাজিক উন্নয়নের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। 

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সাধারণ মানুষের জন্য তার আগামী পরিকল্পনার কথা জানান। 

অধ্যাপক মুহাম্মাদ শাহ আলম ঢাকা কলেজ থেকে অনার্স পাস করেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি গলাচিপা সরকারি কলেজে শিক্ষকতা শুরু করেন। দীর্ঘ ২৭ বছর শিক্ষকতা শেষে ২০১৬ সালের ৭ জানুয়ারি অবসরে যান। শিক্ষকতা জীবনে তিনি অসংখ্য শিক্ষার্থীকে গড়ে তুলেছেন, যা আজও তাঁর রাজনৈতিক শক্তির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অধ্যাপক মুহাম্মাদ শাহ আলম নির্বাচনী বিষয়ক বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্নের জবাব দেন বাসসকে।

তার সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন পটুয়াখালী জেলা ভ্রাম্যমাণ সংবাদদাতা এনামুল হক এনা। 

বাসস: আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী?

অধ্যাপক মুহাম্মাদ শাহ আলম: এখানকার শিক্ষা ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানের করবো। এখানের সরকারি কলেজে অনার্স নেই, সেটি করার ইচ্ছে আছে। হাইস্কুলে ডবল শিফট চালু করবো। শিক্ষা অর্জনের পরে কেউ যাতে বেকার না থাকে— সে লক্ষ্যে কর্মসংস্থানমুখী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবো। ৫০ সয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট করবো। চরকাজল ও চরবোরহানকে একীভূত করে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবো। পাশাপাশি রাস্তাঘাট ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করবো।

বাসস: নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?

অধ্যাপক মুহাম্মাদ শাহ আলম: আমরা নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলছি। আমাদের প্রত্যেক কর্মীকে এই বিষয়ে স্পষ্টভাবে নির্দেশনা দেওয়া আছে।

বাসস: জুলাই সনদ ও গণভোট প্রসঙ্গে আপনার ব্যক্তিগত অবস্থান কী?

অধ্যাপক মুহাম্মাদ শাহ আলম: জুলাই সনদ ও গণভোট আমাদের আত্মস্বীকৃতির একটি জায়গা। গণভোটের পক্ষে প্রত্যেকটি ভোটারকে ‘হ্যাঁ’ দেওয়ার অনুরোধ করছি। যদি জুলাই না থাকতো, তাহলে কোনো নির্বাচনই হতো না। সুতরাং জুলাইকে আমরা ‘হ্যাঁ’ বলবো।

বাসস: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?

অধ্যাপক মুহাম্মাদ শাহ আলম: আশা করি নির্বাচন কমিশন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে পারবে। কিছু ব্যত্যয় হচ্ছে, তবে সেগুলো সংশোধনযোগ্য। কমিশনকে মনে রাখতে হবে, জুলাই অভ্যুত্থান আমাদের অনেক বড় কিছু দিয়েছে। ১ হাজার ৪৮৫ জন শহীদের রক্তের বিনিময় অর্জিত এই দেশের বর্তমান অবস্থার প্রতি তাদের দায়িত্বশীল থাকতে হবে।

অধ্যাপক শাহ আলমের মতে, জনগণের সমর্থন পেলে তিনি গলাচিপা-দশমিনাকে একটি আধুনিক, শিক্ষিত ও উন্নত জনপদে রূপান্তরিত করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাবেন।

পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা নিয়ে গঠিত পটুয়াখালী-৩ সংসদীয় আসনটি দেশের দক্ষিণাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল আসন হিসেবে পরিচিত। ভৌগোলিক অবস্থান ও উপকূলীয় বাস্তবতার কারণে এ আসনটি বরাবরই জাতীয় রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে আসছে। নদী ও সাগরঘেঁষা এই জনপদে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও কর্মসংস্থানের মতো মৌলিক খাতে টেকসই উন্নয়ন দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন অধ্যাপক মুহাম্মাদ শাহ আলম।

একই সঙ্গে তিনি ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবেও নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। দীর্ঘদিন শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকা এই প্রার্থী এলাকার মানুষের মাঝে একজন সজ্জন, শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক হিসেবে পরিচিত।

এই আসনে অধ্যাপক মুহাম্মাদ শাহ আলম ছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আবু বক্কর সিদ্দিক, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হাসান মামুন এবং গণঅধিকার পরিষদের নেতা নুরুল হক নূর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ফলে আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশ জমজমাট ও বহুমাত্রিক হয়ে উঠেছে।

নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ আসনে গলাচিপা ও দশমিনা—এই দুই উপজেলা, একটি পৌরসভা ও মোট ১৯টি ইউনিয়ন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এখানকার মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৮৭১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮৯ হাজার ২০ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৮৬ হাজার ৮৪৮ জন ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৩ জন। মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১২৪টি—গলাচিপায় ৮০টি ও দশমিনায় ৪৪টি।