শিরোনাম

ঝালকাঠি, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বাসস): আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝালকাঠি ১ আসনের জামায়াত প্রার্থী ফয়জুল হক বলেছেন, বেড়িবাধ নির্মাণ ও মিনি পার্লামেন্ট গঠন করে এলাকার সমস্যার সমাধান করাই আমার মূল লক্ষ্য।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব প্রতিশ্রুতির কথা বলেন ফয়জুল হক।
বয়সে তরুণ ড. ফয়জুল হক ২০২৪ সালে মালয়শিয়া থেকে দেশে এসে ২০২৫ সালে জামায়ায়েত ইসলামে যোগ দিয়ে মনোনয়ন পান। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি প্রবাসে থেকে টেলিভিশন টকসোতে সরকারের বিরুদ্ধে সরব ছিলেন।
বাংলাদেশ জামায়েতে ইসলামী (১১ দলীয় জোট) মনোনীত প্রার্থী ড. ফয়জুল হক বাসসকে নির্বাচন বিষয়ে নানা প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন।
তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ঝালকাঠি জেলা সংবাদদাতা মো. আককাস সিকদার।
বাসস: আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি কী ?
ফয়জুল হক: আমার প্রধান নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি মানুষকে শন্তিতে রাখতে চাই। চাদাঁবাজমুক্ত সমাজ গড়তে চাই। আমাদের আমীর ঘোষণা দিয়েছেন আমরা শিক্ষিত যুবকদের একহাত থেকে সার্টিফিকেট নেব, আর এক হাতে চাকরি দেব। নারীদের যাথাপোযুক্ত কাজ দেব। দিনে রাতে নারীদের স্বাভাবিকভাবে চলাচলের পরিবেশ নিশ্চিত করবো। আমি নির্বাচিত হলে এলাকার সকল লোকের সমন্বয়ে মিনি পার্লামেন্ট গঠন করে সমস্যা চিহ্নিত করে র্পযায়ক্রমে সমস্যার সমাধান করা হবে। রাজাপুর এবং কাঠালিয়ার নদীর তীরে বেড়িবাঁধ নির্মান করা হবে।
বাসস: নির্বাচনি আচরণবিধি পালনে নেতা কর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী ?
ফয়জুল হক: সরকার এবং নির্বাচন কমিশন যে নির্দেশনা দিয়েছে তা সঠিকভাবে মেনে চলার জন্য নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের নির্দেশ দিয়েছি। আমরা রাস্তাঘাট আটকে রেখে কোন সমাবেশ করছিনা। এমনকি আমরা একটি গাছেও লোহা বা পিন মেরে ব্যানার বা প্লেকার্ড লাগাচ্ছি না।
বাসস: জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী ?
ফয়জুল হক: আমি নেতা কর্মীদের ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাতে বলেছি। আমরা যারা দেশের পক্ষে তারা অবশ্যই ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে। আমরা ১০ দলীয় জোটের সবাই ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে।
বাসস: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী ?
ফয়জুল হক: গত ১৬ বছর এ দেশের মানুষ ভোট দিতে পারে নাই। ওই সময় তরুণ ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে যায়নি। সরকারের কাছে আমার দাবি এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যাতে সবাই ১৯৭১ এবং ২৪ এর জুলাই চেতনায় বিশ্বাসী হয়ে ভোটে অংশ নিতে পারে।
শের-ই বাংলা এ. কে. ফজলুল হক, কবি কামিনী রায়ের জন্মস্থানসহ রুপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাসের স্মৃতি বিজড়িত ধানসিঁড়ি এবং বিষখালী ও সুগন্ধা নদীর তীরে অবস্থিত ঝালকাঠি মহকুমাকে ১৯৮৪ সালে জেলা হিসেবে ঘোষণা করে সরকার। জেলার আয়তন ৭০৬.৭৬ বর্গকিলোমিটার। ৪টি উপজেলা নিয়ে গঠিত এ জেলায় বর্তমানে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫৯৩৮২৬ জন।
চারটি উপজেলা নিয়ে গঠিত জেলায় সংসদীয় আসন দুটি। রাজাপুর ও কাঠালিয়া নিয়ে ঝালকাঠি-১ আসন (আসন নং- ১২৫)।
১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত ১২ টি সংসদ নির্বাচনে ঝালকাঠি ১ আসনে আওয়ামী লীগ ৫বার ও বিএনপি নির্বাচিত হয় ৪ বার করে। জাতীয় পার্টি নির্বাচিত হয় তিনবার। তবে কোন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে ঝালকাঠির দুটি আসনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হতে পারেনি। আওয়ামী লীগ ৫বারই একতরফা নির্বাচনে জয়ী হয়।
রাজাপুর ও কাঠালিয়া উপজেলা নিয়ে ঝালকাঠি ১ আসন। এ আসনে বর্তমান ভোটার সংখ্যা ২২৮৪৩০ জন । গত নির্বাচনে ভোটার ছিল ২,১১,৩৬৮ জন। গত নির্বাচনের চেয়ে ভোটার বেড়েছে ১৭০৬২ জন।
১৯৭৩ সালের পর এ আসনটি চলে যায় বিএনপি ও জাতীয় পার্টির দখলে। ১৯৯৬ সালে এ আসন থেকে জাতীয় পার্টি জেপির মনোনয়নে সংসদ নির্বাচিত হয়ে ঐক্যমতের সরকারে যোগ দিয়ে যোগাযোগ মন্ত্রীর দায়িত্ব পান জেপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। ২০০৮ সালের একতরফা নির্বাচনে আসনটি আওয়ামী লীগের ঘরে ফিরিয়ে আনেন ব্যবসায়ী বজললুল হক হারুন ওরফে বি.এইচ হারুন।
ঝালকাঠি ১ আসনটি এক সময় বিএনপির আসন হিসেবে পরিচিত ছিলো। ১৯৭৯ সালের ২য় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে জয়ী হন সেনা বাহিনীর মেজর পদ থেকে অবসর নেয়া মুহাম্মদ শাহজাহান ওমর বীর উত্তম। ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালেও তিনি নির্বাচিত হন। জোট সরকারের আমলে তিনি প্রথমে ভূমি প্রতিমন্ত্রী ও পরে আইন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইসচেয়ারম্যান ও চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ছিলেন ব্যারিস্টার মুহাম্মদ শাহজাহান ওমর (বীর উত্তম)। ২০২৩ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের পূর্বে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে সংসদ নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি হত্যা মামলায় কারাগারে আছেন।
এবারের সংসদ নির্বাচনে এ আসনে লড়ছেন মোট ১০জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে রয়েছেন ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে পরাজিত প্রার্থী বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম জামাল, ১১ দলের মনোনীত জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী ড. ফয়জুল হক, জাতীয় পার্টি জেপির বাইসাইকেল প্রতীকে মো. রুবেল হাওলাদার, ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকে মাওলানা ইব্রাহিম, জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকে কামরুজ্জামান খান, জনতার দলের কলম প্রতীকে জসিম উদ্দিন, গনঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকে শাহাদাৎ হোসেন, জেএসডির তারা প্রতীকে সোহরাব হোসেন, স্বতন্ত্র মোরগ প্রতীকে সাব্বির আহমেদ ও স্বতন্ত্র ব্যারিস্টার মঈন আলম ফিরোজী হাঁস প্রতীক।