বাসস
  ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:১৭
আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:২৫

নদী ভাঙন প্রতিরোধ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি ঝালকাঠি ১ আসনের বিএনপি প্রার্থী জামালের

ঝালকাঠি ১ আসনের বিএনপি প্রার্থী জামাল। ছবি: বাসস

ঝালকাঠি, ৭  ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বাসস) : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝালকাঠি ১ আসনের বিএনপি প্রার্থী রফিকুল ইসলাম জামাল কর্মসংস্থান ও নদী ভাঙন রোধসহ এলাকার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। নির্বাচনে জয়ী হলে আমুয়া বন্দর পর্যন্ত বেড়িবাঁধ নির্মাণসহ দুর্বল অবকাঠামো মেরামত ও কাঠালিয়া উপজেলা সদরে একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যাক্ত করেন।  

জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ভাবনা এবং ভোটারদের কাছে তাদের প্রতিশ্রুতির বিষয়ে বিএনপি প্রার্থী জামাল নির্বাচনের বিষয়ে নানা কথা বলেন। 

২০০৮ সালে বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে বিএনপির রাজনীতিতে রাজসিক অভিষেক হয় রফিকুল ইসলাম জামালের। কিন্তু ওয়ান ইলেভেন সরকারের একতরফা নির্বাচনে হেরে যেতে হয় জামালকে। আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের শাসনামলে তিনি রাজপথেই ছিলেন দলের সাথে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কেন্দ্রীয় কমিটির ধর্মবিষয়ক সম্পাদকের পদ দেয়া হয় জামালকে। ২০২৬ এর সংসদীয় নির্বাচনে লড়ছেন বিএনপির মনোনয়ন প্রার্থী (ধানের শীষ) বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম জামাল। রফিকুল ইসলাম জামাল আওয়ামী লীগের আমলে একাধিকবার কারাবরণ করেছেন। 

তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাসসের জেলা সংবাদদাতা আককাস সিকদার।

বাসস: আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী ?

রফিকুল ইসলাম: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হচ্ছে আমাদের কাঙ্খিত নির্বাচন। গত ১৭ বছর আমরা একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করেছি। আমার প্রধান প্রতিশ্রুতি হচ্ছে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার। ১৯৭১ সালে যে লক্ষ্যে আমরা স্বাধীন হয়েছিলাম গত ৫৪ বছরে সে লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। আমার নির্বাচনী এলাকা হচ্ছে বিষখালী নদী বেষ্টিত এবং নদী ভাঙন কবলিত। আমি নির্বাচিত হলে আমুয়া বন্দর পর্যন্ত বেরিবাধ নির্মাণের উদ্যোগ নেব। বিগত সরকারের সময় নির্মিত দুর্বল অবকাঠামো মেরামতের চেষ্টা করবো। কাঠালিয়া উপজেলা সদরে হাসপাতাল নেই, তাই এখানে একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করবো।

বাসস: নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে নেতা কর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?

রফিকুল ইসলাম: বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকার এবং নির্বাচন কমিশন যেসকল আচরণবিধি প্রার্থী এবং কর্মীদের জন্য জারি করেছেন তা মেনে চলার জন্য আমি আমার নেতাকর্মীদের কঠোরভাবে নির্দেশ দিয়েছি। কেঊ নির্দেশ অমান্য করলে তার বিরদ্ধে সাংগঠনিক শাস্তিমলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বাসস: জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী ?

রফিকুল ইসলাম: ‘হ্যাঁ’ ভোটের বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্তই আমাদের সিদ্ধান্ত। দলীয় সিদ্ধান্ত পালনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে নেতাকর্মীদের। আমি দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি একই সাথে ধানের শীষ এবং ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালানোর জন্য নির্দেশ দিয়েছি।

বাসস: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী ?

রফিকুল ইসলাম: ১৯৯১ সালে বিচারপতি শাহাবউদ্দিন আহম্মেদের নেতৃত্বে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছিল। আমি ব্যক্তিগতভাবে সেরকম একটি নির্বাচন চাই। যদিও বর্তমান সরকার তত্তাবধায়ক সরকার নয় অন্তবর্তীকালীন সরকার। এ সরকারের কাছে আমার প্রত্যাশা থাকবে যাতে ১৯৯১ সালের মত একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় সে ব্যবস্থা করা।

শের-ই বাংলা এ.কে. ফজলুল হক, কবি কামিনী রায়ের জন্মস্থানসহ রুপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাসের স্মৃতি বিজড়িত ধানসিঁড়ি এবং বিষখালী ও সুগন্ধা নদীর তীরে অবস্থিত ঝালকাঠি মহকুমাকে ১৯৮৪ সালে জেলা হিসেবে ঘোষণা করে সরকার। জেলার আয়তন ৭০৬.৭৬ বর্গকিলোমিটার। ৪টি উপজেলা নিয়ে গঠিত এ জেলায় বর্তমানে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫৯৩৮২৬ জন। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে জেলার ভোটার সংখ্যা ছিল ৫৬০৬৯৫ জন।

চারটি উপজেলা নিয়ে গঠিত জেলায় সংসদীয় আসন দুটি। রাজাপুর ও কাঠালিয়া নিয়ে ঝালকাঠি-১ আসন (আসন নং- ১২৫) এবং ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি নিয়ে ঝালকাঠি-২ আসন (আসন নং-১২৬) গঠিত। 

এ দুটি আসন একসময়ে বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত থাকলেও সেই দুর্গ গত ১৬ বছর ধরে আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ জেলার দুটি আসন ছিল জাতীয় পার্টির দখলে। এমনকি এরশাদের পতনের পরেও ১৯৯৬ সালে জেলা সদরের এ আসনটি ভোটের মাধ্যমে দখলে নেয় জাতীয় পার্টির জুলফিকার আলী ভূট্টো। 

অপরদিকে ঝালকাঠি ১ আসনটি জিতে নেয় জাতীয় পার্টি জেপির আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। জেলার দুটি আসনেই জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়। ১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত ১২ টি সংসদ নির্বাচনে ঝালকাঠি ১ আসনে আওয়ামী লীগ ৫ বার ও বিএনপি নির্বাচিত হয় ৪ বার করে। জাতীয় পার্টি নির্বাচিত হয় তিনবার। তবে কোন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে ঝালকাঠির দুটি আসনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হতে পারেনি। আওয়ামী লীগ ৫ বারই একতরফা নির্বাচনে জয়ী হয়।

ঝালকাঠি ২ আসনে মোট ১২ টি সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৫ বার ও বিএনপি ৪ বার করে এবং জাতীয় পার্টি তিনবার নির্বাচিত হয়। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে দুটি আসনেই লড়াই হবে বিএনপি এবং ১০ দল বা জামায়াত ইসলামীর প্রার্থীদের মধ্যে।

রাজাপুর ও কাঠালিয়া উপজেলা নিয়ে ঝালকাঠি ১ আসন। এ আসনে ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩০ জন। গত নির্বাচনে ভোটার ছিল ২ লাখ ১১ হাজার ৩৬৮ জন। গত নির্বাচনের চেয়ে এবার ভোটার বেড়েছে ১ লাখ ৭ হাজার ৬২ জন। 

১৯৭৩ সালের পর এ আসনটি চলে যায় বিএনপি ও জাতীয় পার্টির দখলে। ১৯৯৬ সালে এ আসন থেকে জাতীয় পার্টি জেপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে ঐক্যমতের সরকারে যোগদিয়ে যোগাযোগ মন্ত্রীর দায়িত্ব পান জেপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। ২০০৮ সালের একতরফা নির্বাচনে আসনটি আওয়ামী লীগের ঘরে ফিরিয়ে আনেন ব্যবসায়ী বজললুল হক হারুন ওরফে বি.এইচ হারুন।

এ আসনটি এক সময় বিএনপির আসন হিসেবে পরিচিত ছিলো। ১৯৭৯ সালের ২য় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে জয়ী হন সেনাবাহিনীর মেজর পদ থেকে অবসর নেয়া মুহাম্মদ শাহজাহান ওমর বীর উত্তম। ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালেও তিনি নির্বাচিত হন। জোট সরকারের আমলে তিনি প্রথমে ভূমি প্রতিমন্ত্রী ও পরে আইন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ছিলেন ব্যারিস্টার মুহাম্মদ শাহজাহান ওমর (বীর উত্তম)। ২০২৩ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের পূর্বে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে সংসদ নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি হত্যা মামলায় কারাগারে আছেন। 

আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঝালকাঠি ১ আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির রফিকুল ইসলাম জামাল এবং জামায়েতের ফয়জুল হক। যদিও এ দুজন ছাড়া আরও ৮জন প্রার্থী রয়েছেন ভোটের মাঠে। 

তারা হলেন, মাওলানা ইব্রাহিম (হাতপাখা), মো. কামরুজ্জামান (লাঙ্গল), জসিম উদ্দিন (কলস), শাহাদাৎ হোসেন (ট্রাক), সোহরাব হোসেন (তাঁরা), রুবেল হাওলাদার (বাইসাইকেল), ব্যারিস্টার মইন ফিরোজি স্বতন্ত্র (হাঁস) ও স্বতন্ত্র সাব্বির আহমেদ (মোরগ)।