বাসস
  ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:০৭

মানুষের মৌলিক চাহিদার উন্নয়নে কাজ করতে চাই : বিএনপি প্রার্থী আলতাফ হোসেন 

বিএনপি প্রার্থী সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী। ছবি: বাসস

পটুয়াখালী, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বাসস): পটুয়াখালী সদর, মির্জাগঞ্জ ও দুমকি উপজেলা নিয়ে গঠিত পটুয়াখালী-১ আসন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী মানুষের মৌলিক চাহিদা নিয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) কে এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব প্রতিশ্রুতির কথা জানান।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী ১৯৯১ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত বিমান বাহিনীর প্রধান ছিলেন। পরবর্তীতে খালেদা জিয়ার শাসনামলে (২০০১-২০০৪) তিনি বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৯৫ সালে সামরিক চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। বিএনপি সরকারের সময় ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০০৮ সালে পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০১৬ সাল থেকে দলের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি ২০০৮ ও ২০১৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী শাহজাহান মিয়ার কাছে পরাজিত হন।

আলতাফ হোসেন চৌধুরীর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাসসের পটুয়াখালী জেলা ভ্রাম্যমাণ সংবাদদাতা এনামুল হক এনা।

বাসস: আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী?

আলতাফ হোসেন চৌধুরী: আমরা প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ। আমাদের চাওয়া বা প্রত্যাশা খুব বেশি কিছু নয়। আমরা চাই দ’ুবেলা যেন পেটপুরে খেতে পারি, শান্তিতে থাকতে পারি। সাধারণ মানুষ যখন আমার কাছে তাদের দুঃখ-দুর্দশার কথা বলতে পারে, তখনই তারা স্বস্তি পায়। এরপর কাছাকাছি মসজিদ, মাদরাসা, স্কুল ও কলেজের উন্নয়ন এবং সর্বোপরি সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের বড় চাওয়া। আমি মানুষের এসব মৌলিক চাহিদা নিয়ে কাজ করতে চাই।

বাসস: নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে আপনার দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি নির্দেশনা কী?

আলতাফ হোসেন চৌধুরী: আচরণবিধি পালনের জন্য আমাদের দলীয় নেতাকর্মীদের নির্বাচন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে বিশেষ টিম এসেছে। একেবারে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এখানকার নির্বাচন কমিশনও অত্যন্ত সহযোগিতাপূর্ণ। এখন পর্যন্ত এই আসনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমি আশা করি আগামীতেও ঘটবে না। কারণ এখনকার মানুষ অনেক বেশি সচেতন ও শৃঙ্খলাবান।

বাসস: জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে আপনার ব্যক্তিগত অবস্থান কী?

আলতাফ হোসেন চৌধুরী: জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে আমার ব্যক্তিগত মত দেওয়ার সুযোগ নেই। যেহেতু আমি একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, দলের সিদ্ধান্তই আমার সিদ্ধান্ত। বিএনপি সব সময় ন্যায়ের পক্ষে, ইনসাফের পক্ষে এবং জনগণের অধিকারের পক্ষে অবস্থান করে।

বাসস: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?

আলতাফ হোসেন চৌধুরী: আমার প্রত্যাশা খুবই সীমিত। আমার নির্বাচনী এলাকার মানুষ চায় শান্তিতে থাকতে। তারা কম খেতে রাজি আছে, কিন্তু চায় না গভীর রাতে সিভিল ড্রেসে পুলিশ এসে পরিবারের সামনে থেকে কাউকে তুলে নিয়ে যাক বা গুমের শিকার হোক। এসব থেকে মুক্তি পেতে হলে একটি ভালো সরকার দরকার। আর ভালো সরকার পেতে হলে সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রয়োজন। তাই নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রত্যাশা করছি।

এবারের নির্বাচনে পটুয়াখালী-১ আসনে বিএনপি মনোনীত এমপি প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আলতাফ হোসেন চৌধুরী। তাঁর পাশাপাশি জাতীয় পার্টি থেকে আবদুল মন্নান হাওলাদার, বাংলাদেশ জাসদ থেকে গৌতম চন্দ্র শীল, এবি পার্টি থেকে মো. আব্দুল ওহাব, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মো. ফিরোজ আলম এবং গণঅধিকার পরিষদ থেকে শহিদুল ইসলাম ফাহিম প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। ফলে বহুমুখী প্রতিযোগিতায় নির্বাচনী মাঠ বেশ জমে উঠেছে।

বরিশাল বিভাগের দক্ষিণাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসন পটুয়াখালী-১। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। পটুয়াখালী সদর, মির্জাগঞ্জ ও দুমকি উপজেলা নিয়ে গঠিত ১১১ নম্বর এই আসনটি জেলার উত্তর ও মধ্যাঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত। উত্তরে বরিশাল জেলার অংশবিশেষ, দক্ষিণে পটুয়াখালী-২ ও পটুয়াখালী-৪ আসন, পূর্বে বাউফল এবং পশ্চিমে বরিশাল বিভাগের সীমানা দ্বারা বেষ্টিত এই এলাকা কৃষি, মৎস্য, ব্যবসা ও শিক্ষার সম্ভাবনাময় অঞ্চল হিসেবে পরিচিত।

নদী, খাল ও জলাশয়বেষ্টিত এই জনপদে মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে কৃষি ও মৎস্যভিত্তিক অর্থনীতি। তবে দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত ঘাটতি, যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতা, স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা এবং কর্মসংস্থানের সংকট এখানকার মানুষের প্রধান সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এসব ইস্যুই ভোটারদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।

পটুয়াখালী-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৫ হাজার ৮৩৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৪ হাজার ৩৩৫ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৫১ হাজার ৪৯২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৮ জন। বিপুলসংখ্যক ভোটারের এই আসনে এবারের নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর তৎপরতাও লক্ষ্যণীয়ভাবে বেড়েছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উন্নয়ন, সুশাসন, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা—এই বিষয়গুলোই পটুয়াখালী-১ আসনের ভোটারদের সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলবে। সব মিলিয়ে এই আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে ভোটারদের আগ্রহ ও রাজনৈতিক তৎপরতা ক্রমেই বাড়ছে।