শিরোনাম

সুনামগঞ্জ, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বাসস) : সুনামগঞ্জ-৩ আসনের খেলাফত মজলিসের প্রার্থী সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট মাওলানা শাহীনূর পাশা চৌধুরী ফের সংসদে গিয়ে সুনামগঞ্জ-৩ আসনের অসম্পূর্ণ কাজ পূরণ করার অঙ্গীকার করেছেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব প্রতিশ্রুতির কথা জানান।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মনোনীত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাওলানা শাহীনূর পাশা চৌধুরী সুনামগঞ্জ-৩ আসন থেকে নির্বাচন করছেন। তিনি একটি মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
শাহিনূর পাশা চৌধুরী ১৯৯৬ সালে এ আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম থেকে নির্বাচন করে সাড়ে আট হাজার ভোট পান। ২০০১ সালে চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে প্রায় ৬৩ হাজার ভোট পান। অল্প ভোটের ব্যবধানে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদের সঙ্গে পরাজিত হন। তবে আব্দুস সামাদ আজাদ প্রয়াত হলে ২০০৫ সালের উপনির্বাচনে তিনি বিজয়ী হন।
২০০৮ সালেও তিনি চারদলীয় জোটের প্রার্থী হন। তখন ভোট পেয়েছিলেন সাড়ে ৫৬ হাজার। ২০১৮ সালে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হলেও ‘রাতের ভোট’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া নির্বাচনে তিনি খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি। ২০২৩ সালের শেষ দিকে মাওলানা শাহীনুর পাশা জমিয়ত থেকে পদত্যাগ করেন। চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের পর তিনি মাওলানা মামুনুল হকের হাত ধরে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসে যোগ দেন।
মাওলানা শাহীনুর পাশার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাসসের সুনামগঞ্জ জেলা সংবাদদাতা মুহাম্মদ আমিনুল হক।
বাসস: আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী ?
শাহীনুর পাশা চৌধুরী: স্বাধীনতা পরবর্তী জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। সমাজ ও রাষ্ট্র দুর্নীতিমুক্ত করতে আমি ভূমিকা রাখবো। সুন্দর একটি সমাজ তৈরি করাই আমার মূল লক্ষ্য।
আমি আমার চারদলীয় জোট সরকারের শেষ সময় উপনির্বাচনে ইসলামী ঐক্যজোটের টিকিটে সংসদ সদস্য হয়েছিলাম। এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রম করেছি। স্বল্প সময় হওয়ায় পুরোপুরি উন্নয়ন কাজ করতে পারিনি। এবার নির্বাচিত হলে অসম্পূর্ণ কাজ পূরণ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
বাসস: নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে নেতাকর্মীদের প্রতি আপনাদের নির্দেশনা কি ?
শাহিনূর পাশা চৌধুরী: সুন্দর ও একটি মডেল নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের জন্য আমি আচরণবিধি মানার জন্য নেতা-কর্মীদের প্রতি নির্দেশনা দিয়েছি। ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের জন্যও আচরণিবিধি বিষয়ে নেতা-কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিয়েছি। সরকারের নিয়মনীতি যাতে শ্রদ্বার সাথে পালন করেন নেতাকর্মীদের সে নির্দেশ দেওয়া হবে।
বাসস: জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?
শাহীনূর পাশা চৌধুরী: জুলাই সনদ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যা নির্বাচনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা গণভোটের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোটের জন্য ক্যাম্পেইন করছি।
বাসস: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?
শাহীনূর পাশা চৌধুরী: ২০১৪ ও ২০১৮ সালে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। ভোট কি জিনিস মানুষ ভুলে গিয়েছিল। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভোটাররা যেন স্বতঃস্ফুর্তভাবে অংশ গ্রহণ করতে পারে সে প্রত্যাশা করছি।
সুনামগঞ্জ-বিশ্বম্ভরপুর ৩ আাসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭২ হাজার ৭১১ জন।
জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জগন্নাথপুর উপজেলায় মোট ভোটার ১ লাখ ৫১ হাজার ৩ শত ৮৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৭৫ হাজার ২৫৮ জন। নারী ভোটার ৭৬ হাজার ১৩১ জন।
শান্তিগঞ্জ উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৫৪ হাজার ১শ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৭৮ হাজার ৬১৪ জন, নারী ভোটার ৭৫ হাজার ৪৮৪ জন ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ২ জন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য মাইলফক। নির্বাচনকে ঘিরে রয়েছে মানুষের আশা ভরসা। সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ধারাকে ফিরিয়ে আনতে এবারের নির্বাচন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাই এবারের নির্বাচনকে গুরুত্বের সাথে দেখছেন ভোটাররা। অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহনযোগ্য নির্বাচনের প্রত্যাশায় প্রার্থীগণ। সুনামগঞ্জ-৩ আসন প্রবাসী অধুষ্যিত হওয়ায় এই আসনের দিকে নজর সবার। এ আসনে দুইটি উপজেলা হওয়ায় নির্বাচনী আমেজ এখানে অনেক বেশি। পাশাপাশি খেলাফত ও জমিয়তের উলামায়ে ইসলামের প্রার্থীর কর্মী সমর্থকও রয়েছে।