বাসস
  ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫:৪৫

স্বাস্থ্যসেবা ও এলাকার উন্নয়নে কাজ করার প্রতিশ্রুতি সুনামগঞ্জ-৩ এর বিএনপি প্রার্থী কয়ছরের 

সুনামগঞ্জ-বিশ্বম্ভরপুর ৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী কয়ছর এম আহমদ। ছবি: বাসস

সুনামগঞ্জ, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বাসস) : আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-বিশ্বম্ভরপুর ৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী কয়ছর এম আহমদ। তিনি তার নির্বাচনী এলাকার স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নসহ সার্বিক উন্নয়নে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। 

নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব প্রতিশ্রুতির কথা জানান। 

কয়ছর এম আহমদ পেশায় একজন ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ। যুক্তরাজ্য বিএনপির সদ্য বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক তিনি। তিনি একান্ত সাক্ষাৎকারে নির্বাচন নিয়ে নানা প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন। 

তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাসসের সুনামগঞ্জ জেলা সংবাদদাতা মুহাম্মদ আমিনুল হক।

বাসস: আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী ?

কয়ছর: জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হলে আমি জগন্নাথপুর শান্তিগঞ্জ এলাকার রাস্তাঘাট, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে কাজ করবো। বিশেষ করে স্থানীয় হাসপাতালের সংস্কার ও যুব সমাজের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবো।

বাসস: নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে নেতাকর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী ?

কয়ছর: নির্বাচনী আচরণবিধিকে আমি শ্রদ্বা করি। যথাযথ মেনে চলার চেষ্টা করি। যেহেতু আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা নির্বাচন করছি। সেহেতু আমরা যদি নিজেরাই আচরণবিধি না মানি তাহলে তো জনবাধারণ মানবে না। তাই আমার নেতা-কর্মীকে আমি আচরণবিধি মানার জন্য উদ্বুদ্ধ করছি।

বাসস: জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী ?

কয়ছর: জুলাই সনদ সংস্কার অতীব প্রয়োজনীয় বিষয়। আমরা চাই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হোক। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আলোর মুখ দেখবে।

বাসস: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?

কয়ছর: সারা বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করবে এবং সরকার গঠন করবে। আর এরই ধারাবাহিকতায় দেশে উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকবে। আমার প্রত্যাশা জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরেপেক্ষ হবে। যার ফলশ্রুতিতে শান্তিগঞ্জ-জগন্নাথপুর দুই উপজেলার ভোটাররা শান্তিপূর্ণভাবে ও উৎসবমুখর পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে।

সুনামগঞ্জ-৩ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে প্রচার প্রচারণায় সরগরম। প্রার্থী ও কর্মী-সর্মথরা মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন এবং দিচ্ছেন নানান প্রতিশ্রুতি। প্রার্থীরা তুলে ধরছেন তাদের নির্বাচনী ইশতেহার। শহর ও গ্রামে মাইকিং চলছে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য। 

সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ) আসন প্রবাসী অধ্যুষিত। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭২ হাজার ৭১১ জন।

জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জগন্নাথপুর উপজেলায় মোট ভোটার ১ লাখ ৫১ হাজার ৩ শত ৮৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৭৫ হাজার ২৫৮ জন। নারী ভোটার ৭৬ হাজার ১৩১ জন।

শান্তিগঞ্জ উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৫৪ হাজার ১শ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৭৮ হাজার ৬১৪ জন, নারী ভোটার ৭৫ হাজার ৪৮৪ জন ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ২ জন।

এই আসনের দুইটি উপজেলা হওয়ায় বিএনপির কর্মী-সমর্থক রয়েছে বেশি। পাশাপাশি খেলাফত ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থীর কর্মী সমর্থকও রয়েছে। এ আসনটিতে জয় পেতে সব দলের শীর্ষ নেতারা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যান। জেলার পাঁচটি নির্বাচনী এলাকার মধ্যে নির্বাচনী উৎসব সবচেয়ে বেশি সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর—শান্তিগঞ্জ) আসনে।