শিরোনাম

ঢাকা, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ঢাকা-২ (কেরানীগঞ্জ ও সাভার আংশিক) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী আমান উল্লাহ আমান বলেছেন, কেরানীগঞ্জ ও সাভারের ভৌগোলিক অবস্থান ও যোগাযোগ সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে শিল্পনগরী ও গার্মেন্টস শিল্প সম্প্রসারণের মাধ্যমে এই এলাকায় ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব।
নির্বাচিত হলে নারী ও তরুণদের কর্মসংস্থানে অগ্রাধিকার দিয়ে পরিকল্পিত শিল্পায়ন বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেন তিনি।
ঢাকা-২ আসনের কর্মসংস্থান ও শিল্পভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে আমান উল্লাহ আমান বলেন, ‘আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের সমর্থনে নির্বাচিত হলে কেরানীগঞ্জে নতুন গার্মেন্টস কারখানা স্থাপন করে একটি আধুনিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে।’
পাশাপাশি বিদ্যমান শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা দিয়ে আরও আধুনিকায়ন করা হবে। এতে স্থানীয় অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে বলে তিনি জানান।
সম্প্রতি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ধানের শীষের এই প্রার্থী শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা ও জাতীয় ইস্যুতে তার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান বলেন, ‘কর্মসংস্থান বাড়ানো গেলে বেকারত্ব কমার পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। একই সঙ্গে সামাজিক স্থিতিশীলতাও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।’
তিনি দাবি করেন, অতীতে ঢাকা-২ আসনে শিল্পভিত্তিক উন্নয়নে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
তিনি বলেন, রোহিতপুর বিসিক শিল্পনগরী প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানা গড়ে ওঠে। এর ফলে স্থানীয়ভাবে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
ভবিষ্যতেও শিল্পনগরী ও গার্মেন্টস খাতের সম্প্রসারণের মাধ্যমে আরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে বলে জানান তিনি।
কর্মসংস্থানের সামাজিক প্রভাব প্রসঙ্গে আমান উল্লাহ আমান বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হলে শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন নয়, সামাজিক সমস্যাও অনেকাংশে কমে আসবে। তরুণরা কাজের সুযোগ পেলে অপরাধ ও মাদক সেবন থেকে দূরে থাকবে।’
তার মতে, শুধু কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাই যথেষ্ট নয়, দক্ষ শ্রমশক্তি গড়ে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যে শিল্পনগরীর পাশাপাশি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও টেকনিক্যাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিল্পখাতের কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় ঘোষণার আলোকে এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জন্য একাধিক কল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
এ সময় তিনি বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ড, স্বাস্থ্যসেবা কার্ড, বেকার ভাতা ও কৃষক কার্ড কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনায় সহায়তা, স্বাস্থ্য কার্ডের মাধ্যমে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ প্রদান, বেকার তরুণদের জন্য ভাতা এবং কৃষকদের জন্য বিনামূল্যে সার ও বীজ সরবরাহের উদ্যোগ সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নির্বাচনী আচরণবিধি প্রসঙ্গে আমান উল্লাহ আমান বলেন, তিনি নিজে এবং তার নেতা-কর্মীরা নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী আচরণবিধি মেনে চলছেন। ভবিষ্যতেও তা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে বলে জানান তিনি।
জুলাই সনদ ও গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে বিএনপি নীতিগতভাবে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এ বিষয়ে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার পক্ষে দলীয় সিদ্ধান্ত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং দীর্ঘ ১৭ বছর পর জনগণ নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, ঢাকা-২ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ১৯ হাজার ২১৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১৭ হাজার ৯০৮ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ১ হাজার ২৯৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৯ জন। এছাড়া, পোস্টাল ভোটার রয়েছেন ৩ হাজার ৮৭৫ জন। এই আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১৪১টি।
এই আসনে আমান উল্লাহ আমান ছাড়াও আরও দুই প্রার্থী রয়েছেন। তারা হলেন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী মো. আব্দুল হক (দাঁড়িপাল্লা) এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. জহিরুল ইসলাম (হাতপাখা)।