বাসস
  ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৪১
আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৫৫

ভূমি দখল রোধ, শিক্ষা সংস্কার ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনের অঙ্গীকার জামায়াত প্রার্থী আবদুল হকের

১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ আবদুল হক। ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ঢাকা-২ (কেরানীগঞ্জ ও সাভার) আসনের দীর্ঘদিনের জটিল সমস্যা ভূমি দখল, দুর্নীতি ও নিম্নমানের শিক্ষা ব্যবস্থার অবসানে অগ্রাধিকারভিত্তিক উদ্যোগ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ আবদুল হক।

নির্বাচিত হলে ভূমি দস্যুতা বন্ধ, শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নই তার প্রধান লক্ষ্য হবে বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আবদুল হক বলেন, কেরানীগঞ্জ এলাকায় বিশেষ করে দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের জমি দখলের ঘটনা উদ্বেগ জনকভাবে বেড়েছে। প্রভাবশালী ভূমিদস্যুদের দৌরাত্ম্যে অনেক মানুষ সর্বস্ব হারাচ্ছে।

নির্বাচিত হলে এসব অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে কঠোর ব্যবস্থার পাশাপাশি ভুয়া দলিল, ভুয়া নামজারি ও অবৈধ জমি দখলের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে বলেও জানান তিনি।

উপজেলা ভূমি অফিসসহ স্থানীয় প্রশাসনকে দুর্নীতিমুক্ত করা গেলে ভূমি সংক্রান্ত অধিকাংশ বিরোধ স্বাভাবিকভাবেই কমে আসবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সঠিক মালিকেরা যেন তাদের জমির ন্যায্য অধিকার ফিরে পান, সেটিই আমার প্রধান লক্ষ্য।’

শিক্ষা ব্যবস্থার প্রসঙ্গে জামায়াত প্রার্থী বলেন, ‘ঢাকা-২ আসনে শিক্ষার মান অত্যন্ত নিম্ন। পরিকল্পিতভাবে শিক্ষা খাতকে অবহেলা করা হয়েছে, যাতে সচেতন ও বিকল্প নেতৃত্ব গড়ে না ওঠে।’

সাক্ষাৎকারে তিনি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন, পাঠদানের মান বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের নাগরিক সচেতনতা ও নেতৃত্ব বিকাশে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান।

দুর্নীতি ও অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে আবদুল হক বলেন, ‘চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যাবসা নির্মূলে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভূমি কেনাবেচায় একটি স্বচ্ছ, নিয়মতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।’

কেরানীগঞ্জ এলাকায় বিপুলসংখ্যক প্রবাসী শ্রমিকের পরিবার বসবাস করায় তাদের কল্যাণে একটি প্রবাসী কল্যাণ সমিতি গঠনের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এই সমিতির মাধ্যমে প্রবাসীদের পরিবার যেন প্রয়োজনীয় সেবা ও সহায়তা পায়, তা নিশ্চিত করা হবে বলে জানান তিনি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুলিশকে জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এতে হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলার প্রবণতা কমবে এবং পুলিশের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সম্পর্কের উন্নয়ন হবে।

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, ‘সরকারি বরাদ্দের প্রতিটি টাকার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধ করা গেলে এলাকার উন্নয়ন স্বাভাবিকভাবেই ত্বরান্বিত হবে।’

দারিদ্র্য বিমোচনের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে আবদুল হক বলেন, ‘সরকারি সহায়তার পাশাপাশি জাকাত তহবিলের সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করা হবে, যাতে এলাকায় চরম দারিদ্র্য হ্রাস পায়।’

এ ছাড়া কেরানীগঞ্জের মাদ্রাসাগুলোতে আধুনিক ও কর্মমুখী শিক্ষা চালুর ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করে সমাজের মূলধারায় এবং শ্রমবাজারে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে আমার।’

নির্বাচনি আচরণবিধি প্রসঙ্গে আবদুল হক বলেন, ‘তার দল আচরণবিধি মেনে চলছে।’

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে ১১ দলীয় জোট জনগণের ব্যাপক সমর্থন পাবে। সংখ্যালঘুসহ সব নাগরিকের অধিকার রক্ষা করে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ার অঙ্গীকারও করেন তিনি।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, ঢাকা-২ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ১৯ হাজার ২১৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১৭ হাজার ৯০৮ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ১ হাজার ২৯৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৯ জন। এছাড়া, পোস্টাল ভোটার রয়েছেন ৩ হাজার ৮৭৫ জন। এই আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১৪১টি।

এই আসনে কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ আবদুল হকের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আরও দুই প্রার্থী। তারা হলেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আমান উল্লাহ আমান (ধানের শীষ) এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. জহিরুল ইসলাম (হাতপাখা)।