শিরোনাম

সাভার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) সংসদীয় আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেছেন, আসন্ন সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হলে তিনি একশ দিনের কর্মসূচী হাতে নেবেন। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মাদক নির্মূলে কাজ করবেন।
সম্প্রতি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা’কে (বাসস) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসনের বিএনপি’র প্রার্থী এ কথা বলেন।
ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, ‘নির্বাচনে জয়ী হলে আমি একশ দিনের কর্মসূচী হাতে নেব, যার মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মাদক নির্মূলে কাজ করা হবে। গ্রামের প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় যারা মাদক ব্যবসায় জড়িত তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় জনসাধারণকে মোটিভেট করে প্রশাসনের মাধ্যমে তাদের নির্মূলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি নিজে এর তদারকি করবো।’
মাদক নির্মূলের বিষয়ে তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের আশেপাশের অনেকের বিরুদ্ধে কিংবা প্রশাসনের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আছে, আমরা এর বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছি, আশা করছি ২/৩ মাসের মধ্যেই এটি একটি সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা যাবে।’
ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, ‘গত ৩/৪টি নির্বাচনের পর এবারই প্রথমবার ভোটাররা স্বপ্ন দেখছে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবে, আগে এমনটি ছিল না। তরুণদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। তারাও উৎসাহ নিয়ে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেবে।’
ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন এ সময় বলেন, সাভার-আশুলিয়ার যানজট নিরসনকল্পে আমরা ১৪টি পয়েন্ট চিহ্নিত করেছি, যেখানে ট্রাফিক ব্যবস্থা জোরদার করা হলে যানজট অনেকাংশেই কমে যাবে।
সড়ক-মহাসড়কে ফুটপাথ দখল করে চাঁদাবাজি বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘হকার উচ্ছেদ নিশ্চয়ই অমানবিক, কিন্তু তার চেয়েও অমানবিক হচ্ছে হকারদের কাছ থেকে চাঁদা নেওয়া।’
চাঁদাবাজি-সন্ত্রাস বন্ধে নিজের অনড় অবস্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি সবাইকে সাথে নিয়ে ‘একটি গ্রীন সাভার, ক্লীন সাভার’ গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন। যারা চাঁদাবাজি-সন্ত্রাসী কাজে জড়িত থাকবে তারা যতো শক্তিশালীই হোক না কেন সবদিক থেকে তাদের প্রতিহত করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে তাদের পদ-পদবী থেকেও দূরে রাখা হবে।
নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে দলীয় নেতা-কর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি ইতোপূর্বেও নির্বাচন করেছি। আমি আচরণবিধি জানি। রিটার্নিং কর্মকর্তার সাথে আমার কথা হয়েছে। এবার নতুন কিছু আইন সংযোজন হয়েছে, যা নেতা-কর্মীদের অবগত করা হয়েছে। মোট কথা আমরা যদি আচরণবিধি না মানি তাহলে নির্বাচন কমিশন ঠিকভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে পারবে না, আর এজন্যই আমরা যথাযথভাবে নির্বাচনী আচরণবিধি পালন করে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহযোগীতা করছি।
তিনি বলেন, প্রতিটি দলের প্রতিটি প্রার্থীরই উচিত তারা যেন যথাযথভাবে নির্বাচনী আচরণবিধি পালন করে। তাহলেই নির্বাচন কমিশন একটি সুন্দর, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে পারবে।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’- এর পক্ষে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, আমরা নিজেদের ভোট চাওয়ার পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষেও ভোট চাইব। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে থেকেই নির্বাচনে সম্পৃক্ত হয়েছে বিএনপি। কাজেই এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, ‘আমিসহ আমার দলের নেতা-কর্মীরা বাড়ি-বাড়ি গিয়ে প্রতিটি ভোটারদের কাছে এটা আশ্বস্ত করছি যে এবার আপনারা কোন ধরনের বাধা বিঘ্ন ছাড়াই নিজেদের ইচ্ছেমতো নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন।’
তবে তিনি আশা করেন, অবশ্যই এখানকার ভোটাররা এ অঞ্চলের উন্নয়নে সৎ এবং যোগ্য প্রার্থীকেই তাদের ভোট দিয়ে জন প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন। তার ভাষায়, সাভার-আশুলিয়া একটি জটিল জায়গা, ভুল নেতা নির্বাচন করলে এলাকার উন্নয়ন হবে না।
সংসদীয় এ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন ছাড়াও এনসিপির দিলশানা পারুল, জাতীয় পার্টির প্রার্থী বাহাদুর ইসলাম, গণ অধিকার পরিষদের শেখ শওকত হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ ফারুক খান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. ইসরাফিল হোসেন সাভারী, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো. কামরুল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দি¦তা করছেন চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা-১৯ সংসদীয় আসনে মোট ভোটার রয়েছে ৭ লাখ ৪৭ হাজার ৭০ জন। এ আসনে মোট ভোটারের মধ্যে নারী ভোটার রয়েছে ৩ লাখ ৬৭ হাজার ১৫১ জন এবং পুরুষ ভোটার রয়েছে ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৯১৯ জন। এছাড়াও মোট ভোট কেন্দ্র ২৭৮টি।