বাসস
  ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪:১১

তরুণদের কর্মসংস্থানে টেকসই উদ্যোগ গ্রহণের অঙ্গীকার করেছেন গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের রাশেদ

রাশেদ খান । ছবি : বাসস

যশোর, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বাসস): ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট প্রার্থী রাশেদ খান নির্বাচিত হয়ে স্থানীয় বেকার তরুণদের কর্মসংস্থানে টেকসই উদ্যোগ গ্রহণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। 

সম্প্রতি বাসসকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, ‘যশোর-৩ আসনে দুই লাখ ৩২ হাজার তরুণ ভোটার রয়েছে। যাদের বয়স ১৮ থেকে ৩৫ এর মধ্যে। এর বড় একটা অংশই শিক্ষিত বেকার। তাদের টেকসই কর্মসংস্থান তৈরিতে কাজ করবো।’

রাশেদ খান জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যশোরের আহ্বায়ক ছিলেন। বর্তমানে ছাত্র ইউনিয়ন যশোর জেলা সংসদের সভাপতি। ২৫ বছর বয়সি এই তরুণ যশোর বিজ্ঞান ওই প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। পেশায় গবেষক ও চিত্রশিল্পী রাশেদ খান গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট জোটের পক্ষ থেকে কাস্তে মার্কায় যশোর-৩ (সদর উপজেলা) আসন থেকে প্রার্থী হয়েছেন। 

বাসস : আপনার এলার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি কী?

রাশেদ খান : স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের সমস্যাগুলো নিয়ে কাজ করবো বলে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। বিশেষ করে যশোর-৩ আসনে দুই লাখ ৩২ হাজার তরুণ ভোটার রয়েছে। যাদের বয়স ১৮ থেকে ৩৫ এর মধ্যে। এর বড় একটি অংশই শিক্ষিত বেকার। তাদের কর্মসংস্থান তৈরিতে কাজ করবো। যশোর সফ্টওয়্যার টেকনোলজি পার্কে ১০ হাজার কর্মসংস্থান হওয়ার কথা ছিল। অথচ সেখানে ৮০০ থেকে ১১০০ মানুষ কাজ করেন। 

দেশি-বিদেশি হাইটেক কোম্পানিগুলোকে এখানে নিয়ে এসে কর্মসংস্থান বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে। সহজ শর্তে ঋণ দিয়ে নতুন উদ্যোক্তাও সৃষ্টি করা হবে। তরুণ-যুবকদের যারা বিদেশে কাজের জন্য যেতে চায় তাদের সরকারিভাবে সহযোগিতা করতে হবে। এছাড়া শিক্ষা ও চিকিৎসা খাতে সরকারের বরাদ্দ বাড়ানো, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও তাদের ক্ষমতায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। 

যশোরের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ নদী দখলে ও দূষণে আজ মৃতপ্রায়। এগুলো দখলমুক্ত করে স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনা হবে। নেতার রেফারেন্স ছাড়াই সরকারি দফতরগুলোতে সব ধরনের মানুষ যাতে সেবা পান সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করব। মূলত এসব কথাই ভোটারদের বলছি। 

বাসস : নির্বাচনি আচরণবিধি পালনে নেতা-কর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?
রাশেদ খান : আমাদের নেতা-কর্মীরা সবাই সুনাগরিক হিসেবে পরিচিত। তারা আইন ভঙ্গ করেন না। 

আচরণবিধি অনুযায়ী আমরা মাইকের ব্যবহার করছি। নির্বাচনি প্রচারণায় কোন ধরনের প্লাস্টিক ব্যবহার করছি না। জনদুর্ভোগ হয় এমন কোন কিছুই আমরা করছি না। এসব বিষয়ে নেতা-কর্মীদেরও সজাগ রাখছি।

বাসস : জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?
রাশেদ খান : গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের নেতারা জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেননি। কিছু কিছু জায়গায় তাদের আপত্তি ছিল। বড় একটা কারণ ছিল মুক্তিযুদ্ধকে ছোট করে দেখা। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর একাত্তর ও জুলাইকে মুখোমুখি দাঁড় করানোরও চেষ্টা করেছে একটা পক্ষ। তাছাড়া সরকার একটা নিরপেক্ষ জায়গা। সরকারের পক্ষ থেকে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। কিন্তু ‘না’ এর পক্ষেও জনসমর্থন আছে, তাদের প্রতি সুবিচার করা হচ্ছে না বলেই আমার মনে হয়।

বাসস : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?
রাশেদ খান : নির্বাচনে কালো টাকা ও পেশি শক্তির ব্যবহার বন্ধ করতে পারলে এই অসম লড়াইয়ে আমরা একটা শক্তি পেতাম। বড় বড় দলগুলোর জন্য আইনের ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রশাসনও কিছুটা শৈথিল্য প্রদর্শন করে। তাই প্রশাসন নিরপেক্ষ থাকবে, কালো টাকা ও পেশি শক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে ভোটের মাঠ দখল হবে না, এটাই প্রত্যাশা করি। তা ছাড়া জুলাইয়ের একটা আকাঙ্ক্ষা ছিল, সুন্দর ভোটের মাধ্যমে নতুন নির্বাচিত সরকার আসবে। সবার আগে এটা নিশ্চিত করা দরকার।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনে যশোর -৩ আসনে বিভিন্ন দলের ৬ জন প্রার্থী অংশ নিয়েছেন। তাদের অন্যান্যরা হলেন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুহাম্মদ শোয়াইব হোসেন, জাতীয় পার্টির মো. খবির গাজী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির মো. নিজামউদ্দিন অমিত এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. আব্দুল কাদের।   

যশোর-৩ আসনে মোট ভোটার ৬ লাখ ১৩ হাজার ৪৬০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩ লাখ ৭ হাজার ৫৪৯জন, নারী ভোটার ৩ লাখ ৫ হাজার ৯০১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১০ জন। এ আসনে পোস্টাল ব্যালটের জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছেন ৬ হাজার ৮২৪জন। এ আসনে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৯০। আসনটিতে ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে।