শিরোনাম

যশোর, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বাসস): আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর ৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আব্দুল কাদের নির্বাচিত হয়ে যশোরকে সন্ত্রাসমুক্ত করার অঙ্গীকার করেছেন। সম্প্রতি বাসসকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
আব্দুল কাদের বলেন, ‘যশোর দীর্ঘদিন যাবৎ সন্ত্রাসের শহর হিসেবে পরিচিত। যশোর যাতে সন্ত্রাসমুক্ত হয়, সে ব্যাপারে আমি পদক্ষেপ রাখবো ইনশাল্লাহ।’
মো. আব্দুল কাদের ১৯৮০-৮১ শিক্ষা বর্ষে যশোর এমএম কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ইসলামী ছাত্র শিবির থেকে ভিপি নির্বাচিত হন। কলেজের পাঠ চুকিয়ে তিনি ঢাকায় স্থায়ী হন। দীর্ঘকাল সেখানে তিনি গার্মেন্টস উৎপাদন ও রফতানি ব্যবসার সাথে জড়িত। পরে তিনি জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা-উত্তর শাখার রোকন হন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি তার রোকন পদ সম্প্রতি যশোরে স্থানান্তর করেন। বর্তমানে তিনি যশোর জামায়াতের রোকন।
তার সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন বাসসের যশোর জেলা সংবাদদাতা মো. সাইফুল ইসলাম।
বাসস : আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি কী?
আব্দুল কাদের : একজন এমপির কাজ রাষ্ট্রের কল্যাণে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা। সেহেতু একজন ব্যক্তির এমপি হিসেবে খুব বেশিকিছু প্রতিশ্রুতি দেওয়ার থাকে না। তা সত্ত্বেও নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে এলাকাবাসীর প্রতি আরও কিছু করণীয় থাকে। তাই নগরবাসীকে বলছি, যশোর দীর্ঘদিন যাবৎ সন্ত্রাসের শহর হিসেবে পরিচিত ছিল। যশোর যাতে সন্ত্রাসমুক্ত হয়, সে ব্যাপারে আমি পদক্ষেপ রাখবো ইনশাল্লাহ। যশোর শহরসহ আশপাশের এলাকাতে প্রচণ্ড যানজট হয়। এটার সমাধানেও আমি পদক্ষেপ নেব। এছাড়া যশোর শহরে পানি নিষ্কাশনের তেমন ব্যবস্থা নেই। সামান্য বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। শহরের দুইপাশে মুক্তেশ্বরী নদী ও ভৈরব নদ অবৈধ দখলদারদের কবলে পড়ায় এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। প্রভাবশালী মহল নদীর মাঝখানে বাঁধ দিয়ে, দখল করে নানাভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। এতে নদীগুলো বন্ধের উপক্রম হয়েছে। একারণে শহরের ড্রেনের পানি নদীতে যেতে পারে না। বিভিন্ন সময়ে ড্রেনেজ সিস্টেম চালু করা হলেও দুর্নীতির কারণে সেগুলো কার্যকর হয়নি। আমি নির্বাচিত হলে ভৈরব নদ ও মুক্তেশ্বরী নদী খননের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসনে ভূমিকা রাখবো ইনশাল্লাহ।
বাসস : নির্বাচনি আচরণবিধি পালনে নেতা-কর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?
আব্দুল কাদের: নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে যে আচরণবিধি জারি করা হয়েছে, জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে আমি ব্যক্তিগতভাবে এই আচরণবিধি পরিপূর্ণভাবে মেনে চলার চেষ্টা করছি। এখন পর্যন্ত জ্ঞানত আমি কোনো আচরণবিধি লঙ্ঘন করিনি। আমার কর্মী-সমর্থকদেরও আচরণবিধি সম্পর্কে সতর্ক করেছি। আচরণবিধি সম্পর্কে যে পুস্তিকা দেওয়া হয়েছে, সেটা সময়ে সময়ে তাদের পড়তে বলছি। কোনোভাবেই যাতে আচরণবিধি লঙ্ঘন না হয়, সে ব্যাপারে কর্মীদের বারবার সতর্ক করে দিচ্ছি।
বাসস : জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?
আব্দুল কাদের : আমরা জুলাই বিপ্লবকে শুধু সমর্থনই করিনা, আমরা জুলাই বিপ্লবকে মনে প্রাণে লালন করি। আমরা এর চেতনাকে ধারণ করি। জুলাই বিপ্লবের চেতনা বাস্তবায়ন হোক, সেটাও আমরা চাই। জুলাই সনদ এবং হ্যাঁ ভোটের পক্ষে আমরা জনগণকে উদ্বুদ্ধ করছি। আগামীতে যাতে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে পারি, সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নেব ইনশাল্লাহ।
বাসস : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?
আব্দুল কাদের : বাংলাদেশের মানুষ গত তিনটা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। সারাদেশের মতো যশোরের সব শ্রেণি-পেশার মানুষেরও প্রত্যাশা, আমরা উৎসবমুখর পরিবেশে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো। নির্বাচনকে সবাই ঈদের মতো একটা আমেজ হিসেবে নিতে চাচ্ছে। এখন সরকার ও সব রাজনৈতিক দলের কাছে আমার দাবি, নির্বাচনটাকে যেন কেউ বাধাগ্রস্ত করতে না পারে। কেউ সন্ত্রাসের মধ্যে ফেলতে না পারে। সন্ত্রাসের মাধ্যমে যেন ভোটারদের ওপর প্রভাব ফেলতে না পারে।
ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে, নিরাপদে এবং স্বচ্ছন্দে ভোট দিতে পারে। এই ভোটের অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে তারা যেন তাদের পছন্দমতো সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে এমপি হিসেবে বেছে নিতে পারে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনে যশোর -৩ আসনে বিভিন্ন দলের ৬ জন প্রার্থী অংশ নিয়েছেন। তাদের অন্যান্যরা হলেন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুহাম্মদ শোয়াইব হোসেন, জাতীয় পার্টির মো. খবির গাজী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির মো. নিজামউদ্দিন অমিত এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. আব্দুল কাদের।
যশোর-৩ আসনে মোট ভোটার ৬ লাখ ১৩ হাজার ৪৬০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩ লাখ ৭ হাজার ৫৪৯জন, নারী ভোটার ৩ লাখ ৫ হাজার ৯০১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১০ জন। এ আসনে পোস্টাল ব্যালটের জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছেন ৬ হাজার ৮২৪জন। এ আসনে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৯০।
আসনটিতে ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে।