শিরোনাম

যশোর, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বাসস): ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত যশোরবাসীর স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সম্প্রতি বাসসকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, যশোরে মেডিক্যাল কলেজ আছে, কিন্তু দীর্ঘদিন যশোরের মানুষ একটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অভাব অনুভব করছে। এখানকার মানুষের বহু কাঙ্ক্ষিত ৫০০ শয্যার একটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করতে চাই।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। দলের দু:সময়ে রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় থেকে অর্ধশতাধিক মামলার মুখোমুখি হয়েছেন। দফায় দফায় জেল খেটেছেন। খুলনাঞ্চলে সংগঠনকে মজবুত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে দারুণ জনপ্রিয় তিনি।
তিনি বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। তার পিতা তরিকুল ইসলাম বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরামের স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। বিএনপি যতবারই সরকার পরিচালনা করেছে, ততবারই তিনি মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। অনিন্দ্য ইসলামকে নিয়েও দলের নেতাকর্মীদের তেমনই প্রত্যাশা।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তার সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন মো. সাইফুল ইসলাম সজল।
বাসস : আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি কী?
অনিন্দ্য ইসলাম: সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের রাজনীতির চর্চা করতে চাই আমি। সন্ত্রাস, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যমুক্ত নিরাপদ শহর উপহার দিতে চাই। যশোরে মেডিক্যাল কলেজ আছে। কিন্তু যশোরের মানুষ একটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অভাব অনুভব করছে দীর্ঘদিন। এখানকার মানুষের বহুদিনের আকাঙ্ক্ষা ৫০০ শয্যার একটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করতে চাই। যশোর জেনারেল হাসপাতালে একটি অপূর্ণাঙ্গ করোনারি কেয়ার ইউনিট আছে। এটাকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে চাই। যাতে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে যশোরের মানুষকে ঢাকা-খুলনা দৌড়াদৌড়ি না করতে হয়। চিকিৎসার অভাবে রাস্তায় মৃত্যুবরণ না করতে হয়।
বাসস : নির্বাচনি আচরণবিধি পালনে নেতা-কর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?
অনিন্দ্য ইসলাম: প্রার্থী হিসেবে আমরা (প্রার্থী) নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি যতটা জানি, কর্মী-সমর্থকদের অতটা জানার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে আমরা কর্মী-সমর্থকদের সচেতন করছি। তাদের বলছি যে আমরা নিয়মের মধ্যেই থাকতে চাই। নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি মেনেই যেন প্রচার-প্রচারণা ও নির্বাচনি কর্মকাণ্ড চলে, সে ব্যাপারে সবাইকে বার্তা দিচ্ছি। সতর্ক করা ও কাউন্সেলিং-এর মাধ্যমে কর্মী-সমর্থকদের সেভাবে তৈরিও করছি। এখন পর্যন্ত আমার নেতা-কর্মীরা নির্বাচন কমিশনের বিধিবিধান প্রতিপালন করেই তাদের কাজ করছে।
বাসস : জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?
অনিন্দ্য ইসলাম: আপনারা জানেন যে, বিএনপি বরাবরই সংস্কারের পক্ষে। দেশে সংস্কার সংক্রান্ত যত আলোচনা হয়েছে, এর সবগুলোই আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমান ২০২৩ সালে ৩১ দফার মাধ্যমে সুস্পষ্টভাবে দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন। তাই আগামী নির্বাচনে বিএনপির অবস্থান ‘হ্যাঁ’এর পক্ষে।
বাসস : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?
অনিন্দ্য ইসলাম: দীর্ঘদিন যাবৎ বাংলাদেশের জনগণ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত। সুষ্ঠু একটি ভোটের জন্য বাংলাদেশ দেড় যুগ ধরে অপেক্ষা করছে। এখন সেই সুযোগ উন্মোচিত হয়েছে। এখন সব দল ও সব প্রার্থীর জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশে, ভয়হীনভাবে ভোটার যাতে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারে, সে ব্যাপারে অন্তবর্তীকালীন সরকার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে আমি প্রত্যাশা করি।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনে যশোর -৩ আসনে বিভিন্ন দলের ৬ জন প্রার্থী অংশ নিয়েছেন। তাদের অন্যান্যরা হলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুহাম্মদ শোয়াইব হোসেন, জাতীয় পার্টির মো. খবির গাজী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির মো. নিজামউদ্দিন অমিত, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির মো. রাশেদ খান এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. আব্দুল কাদের।
যশোর-৩ আসনে মোট ভোটার ৬ লাখ ১৩ হাজার ৪৬০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩ লাখ ৭ হাজার ৫৪৯ জন, নারী ভোটার ৩ লাখ ৫ হাজার ৯০১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১০ জন। এ আসনে পোস্টাল ব্যালটের জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছেন ৬ হাজার ৮২৪ জন। এ আসনে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৯০।
আসনটিতে ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে।