বাসস
  ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:০৭

ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক বন্দিদের পরিবারের বিক্ষোভ, প্রেসিডেন্টের দপ্তরে চিঠি

ঢাকা, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস) : ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক বন্দিদের পরিবারের সদস্যরা শুক্রবার রাজধানী কারাকাসের কেন্দ্রস্থলে বিক্ষোভ করেছেন। 

এ সময় বিরল এক পদক্ষেপ হিসেবে তারা সরাসরি প্রেসিডেন্টের প্রাসাদে গিয়ে একটি চিঠি হস্তান্তর করেছেন।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতাসীন চাভিসমো রাজনৈতিক দল রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে, বিশেষ করে প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের আশপাশে, বিক্ষোভের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে আসছে।

তবে শুক্রবার প্রায় ১০০ বিক্ষোভকারী মিরাফ্লোরেস প্রাসাদ পর্যন্ত মিছিল নিয়ে যেতে সক্ষম হন। তারা অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের কাছে আরও রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান।

বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দেন, ‘ডেলসি, আপনি যদি আলোচনা করতে চান, তাহলে বন্দিদের মুক্তি দিয়ে শুরু করুন!’

মিছিলটি প্রাসাদের কাছে একটি পুলিশ ব্যারিকেড পর্যন্ত পৌঁছালে নিরাপত্তা বাহিনী তাদেরকে আটকে দেয়। পরে বিক্ষোভকারীদের দুজন প্রতিনিধিকে প্রেসিডেন্টের প্রাসাদের একটি প্রতিনিধি দল গ্রহণ করে ও তাদের চিঠিটি নেয়।

তবে ডেলসি রদ্রিগেজ নিজে বিক্ষোভস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি সরকারি সফরে প্রতিবেশী দেশ সুরিনামে অবস্থান করছিলেন।

রাজনৈতিক বন্দি হিসেবে ৩০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এক ব্যক্তির বোন মার্গারেথ বাদুয়েল বলেন, তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্টের কাছে একটি লিখিত আবেদন পৌঁছে দেওয়া।

তিনি বলেন, ‘কারণ, তিনি রাজনৈতিক বন্দিদেরকে মুক্তি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন, কিন্তু সেই ঘোষণাগুলোর সবগুলো বাস্তবায়ন হয়নি।’

মার্গারেথের বাবা রাউল ইসাইয়াস বাদুয়েল ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট ‘হুগো চাভেজের’ আমলে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন। 

তিনি ২০২১ সালে কারাগারেই মারা যান।

গত মাসে ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের আলোচনার পর ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টের দপ্তর ১৩১ জন রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার ঘোষণা দেয়। 

তবে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) এখন পর্যন্ত প্রায় ৮০ জনের মুক্তির বিষয়টিকে নিশ্চিত করতে পেরেছে। 

তাদের হিসাব অনুযায়ী, আরও ৩০০ জনের বেশি রাজনৈতিক বন্দি এখনো আটক রয়েছেন।

শুক্রবারের এই বিক্ষোভ এমন এক সময়ে হলো, যখন অন্তর্বর্তী সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে মাদুরো-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তন ও ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে দ্বিতীয় দফার আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।