শিরোনাম

ঢাকা, ২৭ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : দক্ষিণ কোরিয়াকে কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ এবং মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ প্রকল্পে অর্থায়নের মার্কিন পরিকল্পনার নিন্দা জানিয়েছে উত্তর কোরিয়া। পিয়ংইয়ং বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বৈরিতার জবাবে তারা ‘শক্তিশালী জবাব’ দেবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর শুক্রবার জানায়, দক্ষিণ কোরিয়াকে এআইএম-৯ এক্স সাইডউইন্ডার ব্লক-২ ক্ষেপণাস্ত্র ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম সরবরাহের সম্ভাব্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর আনুমানিক মোট মূল্য ১২ কোটি ৫০ লাখ ডলার।
সিউল থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়াকে বোঝাতে ‘আরওকে’ উল্লেখ করে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, ‘আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিবেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রির বিরূপ প্রভাব আমরা উপেক্ষা করতে পারি না।’
উত্তর কোরিয়ায় মানবাধিকার এবং তথ্যপ্রবাহ-সংক্রান্ত কর্মসূচিতে ওয়াশিংটনের লাখ লাখ ডলার দেওয়ার পরিকল্পনারও সমালোচনা করেছে পিয়ংইয়ং।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও শ্রম ব্যুরো গত সপ্তাহে উত্তর কোরিয়ায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নথিভুক্ত করতে বিভিন্ন সংস্থার জন্য উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার ঘোষণা দেয়। পিয়ংইয়ংকে বোঝাতে দপ্তরটি ‘ডিপিআরকে’ শব্দটি ব্যবহার করে জানায়, এসব উদ্যোগের লক্ষ্য উত্তর কোরিয়ার ‘তথ্যের ওপর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণকে চ্যালেঞ্জ করা।’
উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘যুক্তরাষ্ট্রের বৈরী পদক্ষেপের ধারাবাহিকতা ও স্থায়িত্বের’ নিন্দা জানিয়েছে। এসব সর্বশেষ পদক্ষেপকে তারা এমন নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেছে, যার লক্ষ্য ‘আমাদের রাষ্ট্রের সামাজিক ব্যবস্থায় অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করা।’
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বৈরী কর্মকাণ্ডের জবাবে উত্তর কোরিয়া গুরুতর, তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালী জবাব দেবে।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি পিয়ংইয়ংয়ের প্রতি বেশ কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ নিয়েছেন। এর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া কমিয়ে আনার বিষয়টিও রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত উত্তর কোরিয়ার প্রতিক্রিয়া শীতলই রয়েছে।
১৯৫০-৫৩ সালের যুদ্ধের পর শান্তিচুক্তি হয়নি, যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল। তাই দুই কোরিয়া এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে। উত্তর কোরিয়ার হামলার মধ্য দিয়ে ওই যুদ্ধ শুরু হয়েছিল।