শিরোনাম

ঢাকা, ২৪ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস): ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ রোববার সৌদি যুবরাজ ও দেশটির কার্যত শাসক মোহাম্মদ বিন সালমানকে দুই দিনের সফরে স্বাগত জানিয়েছেন। সফরের প্রথম দিন তিনি যুবরাজকে ই-স্পোর্টস বিশ্বকাপের সমাপনী অনুষ্ঠানে আতিথ্য দেন। দ্বিতীয় দিন দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার কথা রয়েছে।
ফরাসি প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, সোমবার স্বাস্থ্য, পরিবহন ও জ্বালানি খাতে কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষর করা হবে। আলোচনায় ইরান পরিস্থিতি গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্যারিস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
তবে রোববার সন্ধ্যায় যুবরাজের সফর শুরু হয় কিছুটা হালকা পরিবেশে। প্যারিসে আয়োজিত ই-স্পোর্টস বিশ্বকাপের সমাপনী অনুষ্ঠানে মাখোঁ তাকে স্বাগত জানান।
অনুষ্ঠানে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোও উপস্থিত ছিলেন। মাখোঁ শীর্ষস্থানীয় গেমারদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিজয়ীদের হাতে ট্রফি তুলে দেন।
কম্পিউটার গেম থেকে দাবা—ই-স্পোর্টসের বিভিন্ন শাখার শীর্ষ প্রতিযোগীদের নিয়ে এই আয়োজন করা হয়। রিয়াদের জোরালো সমর্থন পাওয়া এই প্রতিযোগিতা এবারই প্রথম সৌদি আরবের বাইরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
যুবরাজ সাধারণত আন্তর্জাতিক সম্মেলন ছাড়া খুব কমই নিজ দেশ ছাড়েন—এ বিষয়টি তুলে ধরতে আগ্রহী প্যারিস। প্রায় এক বছর পর এবারই প্রথম তিনি এ ধরনের সফরে ফ্রান্সে গেলেন।
ফরাসি প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘এই সফরের জন্য তিনি ফ্রান্সকে বেছে নেওয়াটা একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। এটি ফ্রান্স-সৌদি সম্পর্কের গভীরতা ও গতিশীলতার প্রমাণ।’
তবে সৌদি যুবরাজকে আতিথেয়তার প্রতিবাদ জানিয়েছে ফ্রান্সের তিনটি সাংবাদিক ইউনিয়ন। যুবরাজকে তার নামের আদ্যক্ষর ‘এমবিএস’ নামেও ডাকা হয়।
রোববার এক যৌথ বিবৃতিতে এসএনজে-সিজিটি, সিএফডিটি-জার্নালিস্ট ও এসজেজে-এফও ইউনিয়ন জানায়, ২০২১ সালে সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যার ঘটনায় করা একটি অভিযোগের ভিত্তিতে নির্যাতন ও জোরপূর্বক নিখোঁজের ঘটনায় ফ্রান্সে তদন্ত চলছে।
সৌদি শাসক পরিবারের সমালোচক খাশোগি যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা ছিলেন। ২০১৮ সালে ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে তাকে হত্যা করা হয়। তার মরদেহ টুকরো করা হলেও তা এখনো উদ্ধার করা যায়নি।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তে বলা হয়, খাশোগি হত্যায় এমবিএস সরাসরি জড়িত ছিলেন। জাতিসংঘের এক তদন্তে সাংবাদিকটির মৃত্যুকে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, যার জন্য সৌদি আরব দায়ী’ বলে বর্ণনা করা হয়।
সাংবাদিক ইউনিয়নগুলো বলেছে, ২০২২ সালের জুলাইয়ে মাখোঁর আমন্ত্রণে যুবরাজের আগের সফরের পর এবারের সফর ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষের ব্যক্তিদের জন্য উসকানির মতো মনে হচ্ছে।’
ফরাসি প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের ওই কর্মকর্তা প্রস্তাবিত চুক্তিগুলোর মধ্যে প্যারিসের বাইরে ভাল-দোয়াজ অঞ্চলে নির্মাণের পরিকল্পনা করা জাপানি মাঙ্গাভিত্তিক বিশাল থিম পার্ক ‘ড্রাগনস বল’ প্রকল্পটি থাকবে কি না, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। প্রকল্পটিতে সৌদি একটি তহবিলের অর্থায়ন রয়েছে।
সৌদি আরব ২০৩০ সালের এক্সপো এবং ২০৩৪ সালের ফুটবল বিশ্বকাপসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বৈশ্বিক আয়োজনও করতে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদি আরবের ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধের পর ইসলামি প্রজাতন্ত্রটির পরিস্থিতির ওপরও দেশটি ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে।
সোমবার বিকেলে মোহাম্মদ বিন সালমান ও ম্যাখোঁ সৌদি-ফ্রান্স কৌশলগত অংশীদারত্ব পরিষদের প্রথম বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন।
মাখোঁর কার্যালয় জানিয়েছে, ‘মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় ফ্রান্স ও উপসাগরীয় অংশীদারদের ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার প্রেক্ষাপটে’ ম্যাক্রোঁ ও যুবরাজ ‘গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করবেন।’
খাশোগি হত্যার পর ২০২১ সালের ডিসেম্বরে মাখোঁ সৌদি আরবে যুবরাজের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা প্রথম দিকের পশ্চিমা নেতাদের একজন ছিলেন। এরপর সৌদি যুবরাজ একাধিকবার ফ্রান্স সফর করেছেন।