শিরোনাম

ঢাকা, ২৪ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস): কাজাখস্তানে রোববার অনুষ্ঠিত নতুন এক-কক্ষবিশিষ্ট সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল বড় ব্যবধানে জয় পাচ্ছে। ভোটের পর পরিচালিত জনমত জরিপে এ তথ্য জানা গেছে। এই জয়ের মধ্য দিয়ে প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভের ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত হয়েছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রকাশিত তিনটি ভোট-পরবর্তী জরিপে দেখা গেছে, তোকায়েভপন্থি আদিলেত পার্টি ৭০ থেকে ৭২ শতাংশ ভোট পেয়েছে। এর ফলে ১৪৫ আসনের সংসদে দলটি বেশিরভাগ আসন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দেশটির নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নির্বাচনে মোট ভোট পড়েছে ৭৪ দশমিক ১৯ শতাংশ। কোনো কোনো অঞ্চলে ভোটার উপস্থিতি ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ছিল।
কাজাখস্তানের সংবিধানে পরিবর্তন আনার পর নতুন এই একক কক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠিত হয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ বলছে, এর মাধ্যমে মধ্য এশিয়ার বৃহত্তম অর্থনীতিতে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে। তবে সমালোচকদের দাবি, সাংবিধানিক পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা আরও পাকাপোক্ত করা হয়েছে।
সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের দেশ কাজাখস্তান রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং চীনের সঙ্গেও দেশটির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তবে বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ ও ইউরোপ-এশিয়ার মাঝখানে কৌশলগত অবস্থানের কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছেও কাজাখস্তান গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।
দেশটির মোট ২ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে প্রায় ১ কোটি ২৬ লাখ ভোট দেওয়ার যোগ্য ছিলেন।
গত মার্চে কাজাখস্তান নতুন সংবিধান গৃহীত হয়। এর মাধ্যমে সংসদের উচ্চকক্ষ সিনেট বিলুপ্ত করে এক-কক্ষবিশিষ্ট সংসদ চালু করা হয়। নতুন এই সংসদের নাম রাখা হয়েছে কুরুলতাই, যা মধ্য এশিয়ার যাযাবর জনগোষ্ঠীর মধ্যযুগীয় পরিষদের নাম থেকে নেওয়া।
কর্তৃপক্ষের দাবি, নতুন ব্যবস্থায় সংসদ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আগের ব্যবস্থায় প্রেসিডেন্টের হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত থাকায় সংসদের ভূমিকা অনেকটাই সীমিত ছিল।
৭৩ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভ দাবি করেন, তিনি তাঁর দীর্ঘদিনের কর্তৃত্ববাদী পূর্বসূরি নুরসুলতান নজরবায়েভের শাসনব্যবস্থা থেকে দেশকে বের করে আনতে কাজ করছেন। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর নজরবায়েভ প্রায় তিন দশক কাজাখস্তান শাসন করেন।
তবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অনুমতি পেয়েছে মাত্র সাতটি রাষ্ট্র অনুমোদিত রাজনৈতিক দল। এসব দল কমবেশি তোকায়েভের প্রতি অনুগত বলে মনে করা হয়।
এক্সিট পোল অনুযায়ী, এর মধ্যে পাঁচটি দল নতুন সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার মতো পর্যাপ্ত ভোট পেয়েছে।
তবে প্রকৃত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। ফলে ভোটের আগেই ধারণা করা হয়েছিল, তোকায়েভপন্থি আদিলেত পার্টিই সংসদের বিপুলসংখ্যক আসন পাবে।
আদিলেত মূলত বর্তমান ক্ষমতাসীন আমানাত পার্টির নতুন রূপ। তোকায়েভের রাজনৈতিক কর্মসূচিকে সমর্থন করার লক্ষ্যেই দলটিকে নতুনভাবে গঠন করা হয়েছে।
সংবিধানের পরিবর্তনের মাধ্যমে তোকায়েভের প্রেসিডেন্ট পদে থাকার মেয়াদের সীমাও নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে তিনি ২০২৯ সালে আবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন।