বাসস
  ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১৫:২৫

এবার রাশিয়ার ই-কমার্স জায়ান্ট ওজোনে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা

ঢাকা, ২৪ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : রাশিয়ার ই-কমার্স জায়ান্ট ওজোনের গুদামে টানা কয়েক দিন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। সোমবার প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ড্রোন হামলায় তাদের আরও একটি লজিস্টিকস কেন্দ্র আগুনে পুড়ছে।

রাশিয়ার শীর্ষ অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ওয়াইল্ডবেরিজকে লক্ষ্যবস্তু করে কয়েক সপ্তাহ ধরে অভিযান চালাচ্ছে ইউক্রেন। দেশটির অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি সামরিক বাহিনীকে বিভিন্ন পণ্য সরবরাহ করেছে।

মস্কো থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

ওজোন রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অনলাইন মার্কেটপ্লেস। দেশজুড়ে এর পণ্য সংগ্রহকেন্দ্র ও ডেলিভারি বক্স রয়েছে।

দুটি প্রতিষ্ঠানকেই ‘রাশিয়ার অ্যামাজন’ বলা হয়। দ্রুত বিকশিত ই-কমার্স খাতের বড় একটি অংশ তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় এমনটি বলা হয়।

ওজোন সোমবার জানিয়েছে, ড্রোন হামলার পর দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্রাসনোদার অঞ্চলে তাদের একটি লজিস্টিকস কেন্দ্রে ‘বড় ধরনের আগুন’ জ্বলছে।

প্রতিষ্ঠানটি টেলিগ্রামে এক বার্তায় বলেছে, ‘সব ব্যবস্থা পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করেছে। আমরা দ্রুত কর্মীদের সরিয়ে নিয়েছি। প্রাথমিকভাবে কোনো হতাহতের খবর নেই।’

রোববার ওজোন জানায়, ড্রোন হামলার পর মধ্যাঞ্চলীয় ওরেনবুর্গ অঞ্চলে তাদের একটি লজিস্টিকস কেন্দ্রে আগুন ধরে যায়।

প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, ‘গুদামটির কার্যক্রম বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।’

এর এক দিন আগে প্রতিবেশী সামারা অঞ্চলে ওজোনের একটি কেন্দ্রে হামলা হয়।

ওজোন জানায়, ওই হামলায় তাদের অজ্ঞাতসংখ্যক কর্মী আহত হয়েছেন।

ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী শনিবার জানায়, তারা প্রতিষ্ঠানটিকে লক্ষ্য করে নতুন অভিযান শুরু করছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইউক্রেনীয় ইউনিটগুলো ওয়াইল্ডবেরিজের ১৫টি বৃহত্তম লজিস্টিকস কেন্দ্রে হামলা চালানোর পর এবার ওজোনের পালা।’

সেন্ট পিটার্সবার্গের উপকণ্ঠে ওজোনের একটি স্থাপনার পাশে থাকা একটি লজিস্টিকস কেন্দ্রেও হামলা হয়েছে।

সামরিক স্থাপনার তুলনায় সাধারণত এসব গুদামে হামলা চালানো সহজ। গুদামগুলোতে হামলার ফলে ইতোমধ্যে কয়েক বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে।

বিভিন্ন স্থাপনায় দাহ্য পণ্য মজুত ছিল। হামলায় সেগুলো ধ্বংস হয়ে যায়।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন বুধবার হামলার মধ্যে ওয়াইল্ডবেরিজকে সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, ইউক্রেনের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত লজিস্টিকস কেন্দ্রগুলো পুনর্নির্মাণে সরকার সহায়তা করবে।

ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযান শুরুর চার বছরেরও বেশি সময় পরও দেশটি তার ‘বেসামরিক অবকাঠামোতে’ হামলার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছে। এই অভিযানে হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে এবং ইউক্রেনের পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন শহর ধ্বংস হয়েছে।