বাসস
  ১৮ আগস্ট ২০২৬, ১৬:৫৪

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের সর্বশেষ পরিস্থিতি

ঢাকা, ১৮ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস): ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানে নির্ধারিত ৬০ দিনের সময়সীমা শেষ হওয়ার দিন সোমবার ওমানে বোমা হামলার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ট্রাম্পের দূত ও জামাতা জ্যারেড কুশনার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ‘খুবই ইতিবাচক ও সক্রিয় আলোচনা’ চলছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, ‘দীর্ঘ কয়েক বছর যাবত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সত্যিকার অর্থে খুব বেশি আস্থা নেই।’

দুবাই থেকে বার্তা সংস্থা এ খবর জানিয়েছে।

কুশনার ফক্স নিউজকে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প খুব ধৈর্য ধরবেন। তিনি কোনো চুক্তিতে দ্রুত পৌঁছাতে চান না। সঠিক চুক্তি যখন প্রস্তুত হবে, তখনই তিনি চুক্তিতে পৌঁছাবেন।’

এর আগে সোমবার ট্রাম্প বলেন, ইরানের কর্মকর্তারা ‘চুক্তি করতে চান। কিন্তু তারা এমন চুক্তি করতে যাচ্ছেন না, যেটিকে আমি প্রয়োজনীয় মনে করি।’ তিনি তার মূল দাবির পুনরাবৃত্তি করে বলেন, ‘ইরান পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে পারবে না।’

উপসাগরীয় দেশগুলোর রপ্তানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী নিয়ে তেহরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তিতে ওমান ‘বাধা দিলে’ দেশটিতে বোমা হামলার হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরানকে আত্মসমর্পণের আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার ফক্স নিউজকে ট্রাম্প বলেন, ‘ওমান যদি পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, আমরা তাদের ওপর ভয়াবহ বোমা হামলা চালাব।’ হরমুজের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ওমান ও ইরানের চলমান আলোচনার প্রসঙ্গে তিনি এ কথা বলেন। একই সময়ে ওয়াশিংটনও নিজস্ব আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

তেহরান ও মাসকাট কয়েক সপ্তাহ ধরে এই নৌপথ দিয়ে ভবিষ্যতে জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করছে। তেহরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার জানিয়েছে, দুই পক্ষ একটি যৌথ ঘোষণা নিয়ে কাজ করছে।

ইরাকের কেন্দ্রীয় সরকার সোমবার স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় তদন্ত শুরু করার কথা জানিয়েছে। আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ এ হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি হামলার নিন্দা করেছেন। তিনি ইরানের ‘কুর্দি বন্ধুদের’ ‘ভুয়া পতাকার’ হামলা সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

এর আগে ইরাকের কুর্দি প্রধানমন্ত্রী মাসরুর বারজানি জানান, অঞ্চলটির সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিটের তদন্তে দেখা গেছে, ‘তার ব্যক্তিগত কার্যালয় এবং নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানের বাড়ি ইরানি ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল।’

হামলায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই সোমবার বলেন, জুনের সমঝোতা স্মারকে আলোচনার জন্য নির্ধারিত ৬০ দিনের সময়সীমা ‘অপ্রাসঙ্গিক’। কারণ যুক্তরাষ্ট্র শুরুতেই চুক্তি লঙ্ঘন করেছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো আলোচনা শুরু করিনি। কারণ চুক্তি স্বাক্ষরের কয়েক সপ্তাহ পরই ব্যাপকভাবে চুক্তি লঙ্ঘন শুরু হয়। ফলে ৬০ দিনের বিধানটি অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ে।’

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সোমবার জানায়, সৌদি আরবের নৌ অবরোধের অংশ হিসেবে তারা লোহিত সাগরে সৌদি আরবের একটি সামরিক জাহাজ ও তার সঙ্গে থাকা চারটি নৌযানকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

ইরান-সমর্থিত হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, ‘ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে মোখা উপকূলের কাছে লোহিত সাগরে সৌদি শত্রুর একটি সামরিক অবতরণকারী জাহাজ এবং তার সঙ্গে থাকা চারটি সামরিক টহল নৌযানকে লক্ষ্য করে সফলভাবে হামলা চালানো হয়েছে।’

২০১৫ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি আরব হস্তক্ষেপ করার পর থেকে হুথিদের সঙ্গে সৌদি আরবের যুদ্ধ চলছে। তবে ২০২২ সাল থেকে সেখানে যুদ্ধবিরতি কার্যকর ছিল। গত মাসে তা ভেঙে পড়ে। এর পর ইয়েমেন মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।

ইয়েমেনে সংঘাত বাড়তে থাকায় বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে সোমবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান।

ভলকার তুর্ক বলেন, ‘আমি সব পক্ষকে উত্তেজনা কমানোর এবং ইয়েমেনের জনগণকে আরও দুর্ভোগ থেকে রক্ষা করার আহ্বান জানাই। বছরের পর বছর ধরে সংঘাত, বাস্তুচ্যুতি ও মানবিক সংকটের ভয়াবহ উত্তরাধিকার ইয়েমেনের মানুষ ইতোমধ্যেই অনেক বেশি সহ্য করেছে।’