বাসস
  ১৫ আগস্ট ২০২৬, ১৫:৩০

যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইতে আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড় ‘লালা’

ঢাকা, ১৫ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস): প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনোর প্রভাবে শক্তিশালী হয়ে ওঠা গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় ‘লালা’ শনিবার হাওয়াইয়ের বিগ আইল্যান্ডে হারিকেনের শক্তি নিয়ে আঘাত হানতে পারে। এতে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৩৭ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া, ভারী বৃষ্টিপাত ও উত্তাল সমুদ্রের সৃষ্টি হতে পারে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

ঝড়টি দ্বীপপুঞ্জের দিকে দ্রুত এগিয়ে আসায় হাওয়াইয়ের গভর্নর জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। ঝড়ের বাতাসের সর্বোচ্চ বেগ ঘণ্টায় ৮৫ মাইল বা ১৩৭ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে।

বিগ আইল্যান্ডসহ পুরো হাওয়াই কাউন্টিতে হারিকেন সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে, এর উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত মাউই, মোলোকাই ও কাহুলাওয়েতে জারি রয়েছে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড়ের সতর্কতা। অন্যান্য কয়েকটি দ্বীপে নিম্নমাত্রার ঝড়ের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনওএএ) জানিয়েছে, মাউই ও বিগ আইল্যান্ডে ৩০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। বিগ আইল্যান্ডের কিছু এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণ ৬৩ সেন্টিমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। পাশাপাশি, ১ থেকে ৩ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা রয়েছে।

শনিবারের পরও রোববার পর্যন্ত বৈরী আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে।

ঝড়ের প্রভাব মোকাবিলায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও সম্পদ নিশ্চিত করতে গভর্নর জোশ গ্রিন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, ধ্বংসাবশেষ সরানো, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষিত রাখা এবং অন্যান্য প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা নিতে রাজ্য ও কাউন্টিগুলোর পর্যাপ্ত সম্পদ বা ব্যবস্থা থাকা জরুরি।

হনোলুলুর মেয়র রিক ব্লাঙ্গিয়ার্দি শুক্রবার জানান, ঝড়ের প্রভাব মোকাবিলায় তাঁর প্রশাসন কয়েক দিন ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি বাসিন্দাদের দ্রুত প্রস্তুতি শেষ করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘আজই সবাইকে প্রস্তুতি শেষ করার অনুরোধ করছি। আবহাওয়ার পরিস্থিতি খারাপ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন না।’

তিনি আরও বলেন, ‘সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত থাকুন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে দূরে থাকুন এবং পরিস্থিতির অবনতি হলে কী করতে হবে, তা পরিবারের সবাইকে জানিয়ে রাখুন।’

হাওয়াইয়ের জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থা বাসিন্দাদের নালা ও পানি নিষ্কাশনের পথ পরিষ্কার করার, মূল্যবান জিনিসপত্র মেঝে থেকে উঁচু স্থানে সরিয়ে রাখার, দরজা-জানালার ফাঁক বন্ধ করার এবং বাড়ির আশপাশে ঝুঁকিপূর্ণ গাছের ডাল ছেঁটে ফেলার পরামর্শ দিয়েছে।

সংস্থাটি আরও সতর্ক করে বলেছে, সমুদ্রসৈকত ও উপকূলীয় এলাকা থেকে দূরে থাকতে হবে, কারণ উত্তাল ঢেউ ও তীব্র স্রোত মানুষকে ভাসিয়ে নিয়ে যেতে পারে।

গত মাসেও হারিকেন ‘ফাউস্তো’র হুমকির মুখে পড়েছিল হাওয়াই। তবে পরে ঝড়টি দুর্বল হয়ে দ্বীপপুঞ্জের উত্তর দিয়ে চলে যায়।

হাওয়াইয়ে সর্বশেষ ‘ভয়াবহ’ হারিকেন- অর্থাৎ স্যাফির-সিম্পসন স্কেলে ক্যাটাগরি ৩, ৪ বা ৫ মাত্রার- আঘাত হানে ১৯৯২ সালে। ওই বছর হারিকেন ‘ইনিকি’র আঘাতে অন্তত ছয়জন নিহত হয় এবং কয়েক বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়।

এদিকে, কেন্দ্রীয় নিরক্ষীয় অঞ্চল প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তিশালী এল নিনো তৈরি হয়েছে। সমুদ্রের তাপমাত্রা এতটাই বেড়েছে যে, এনওএএ এখন পূর্বাভাস দিচ্ছে- অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে এল নিনো সর্বোচ্চ শক্তিতে পৌঁছালে ১৯৫০ সালের পরের আগের সব এল নিনোকে ছাড়িয়ে যাওয়ার মতো একটি  ‘ঐতিহাসিক মাত্রার ঘটনা’ ঘটার সম্ভাবনা ৬৯ শতাংশ।

এল নিনো হলো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু প্রক্রিয়া, যাতে প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। সাধারণত এটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে হারিকেনের কার্যক্রম বাড়ায় এবং আটলান্টিক মহাসাগরে তা কমিয়ে দেয়।

মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন এল নিনোর প্রভাব আরও তীব্র করতে পারে। কারণ, উষ্ণ সমুদ্র ও বায়ুমণ্ডল চরম আবহাওয়া- যেমন তীব্র তাপপ্রবাহ ও ভারী বৃষ্টিপাত-সৃষ্টির জন্য আরও বেশি শক্তি ও জলীয়বাষ্প সরবরাহ করে।