বাসস
  ১৫ আগস্ট ২০২৬, ১৫:২৫

গাজা পরিকল্পনা নিয়ে মতপার্থক্য দূর করতে ইসরাইল সফর করবেন ট্রাম্পের জামাতা কুশনার

ঢাকা, ১৫ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : গাজা বিষয়ে একটি পরিকল্পনা নিয়ে মতপার্থক্য দূর করার লক্ষ্যে আগামী সপ্তাহে ইসরাইল সফর করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূত ও জামাতা জ্যারেড কুশনার। শুক্রবার কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

ট্রাম্পের তথাকথিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর গাজাবিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি নিকোলাই ম্লাদেনভ-ও তাঁর সঙ্গে ইসরাইল সফর করবেন। এই বোর্ডের ওপর গাজা-সংক্রান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁরা ইসরাইলের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী দেশ মিশরও সফর করবেন।

ম্লাদেনভ সম্প্রতি ১৫ দফার একটি পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। এতে হামাস গাজায় একটি নতুন ফিলিস্তিনি পরিচালনা কমিটির কাছে তাদের অস্ত্র হস্তান্তরে সম্মত হয়েছিল। তবে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে ওই পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছেন।

বোর্ড অব পিসের একজন কর্মকর্তা জানান, কুশনার ও ম্লাদেনভ ট্রাম্পের সামগ্রিক শান্তি পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে  ‘গঠনমূলক আলোচনা’ করতে চান।

ট্রাম্পের এই শান্তি উদ্যোগ শুরু হয় ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মাধ্যমে। এর ফলে গাজায় ইসরাইলি হামলা কিছুটা কমলেও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন,  ‘চূড়ান্ত লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে ঐকমত্য রয়েছেÑআর তা হলো হামাসকে নিরস্ত্র করা।’

তিনি বলেন, উত্থাপিত উদ্বেগগুলো শোনা হবে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা হবে। তাঁর ভাষায়, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলোÑদুই পক্ষই কাক্সিক্ষত ফলাফলের বিষয়ে একমত এবং অগ্রগতি কীভাবে দ্রুত করা যায়, সে পথ  খোঁজা হচ্ছে।

হামাসের নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে মতবিরোধ

জুলাইয়ের শেষ দিকে হামাস গাজা পরিকল্পনার সর্বশেষ ধাপে সম্মতি দেয়। বোর্ড অব পিসের প্রকাশিত প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, এর মাধ্যমে গাজার বড় একটি অংশ থেকে ধাপে ধাপে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার শুরু হওয়ার কথা ছিল।

তবে পরে ম্লাদেনভ তাঁর অবস্থান কিছুটা পরিবর্তন করে বলেন, হামাস পুরোপুরি নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত ইসরাইলকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে না।

নেতানিয়াহু আগেই সেনা প্রত্যাহার না করার কথা জানিয়েছিলেন। হামাস সত্যিই অস্ত্র ত্যাগ করবে কি না, তা নিয়েও তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, হামাসকে এমনভাবে অস্ত্র ধ্বংস করতে হবে, যাতে বিষয়টি যাচাই করা যায়।

অন্যদিকে, হামাস বলেছে তারা চুক্তির শর্ত মেনে চলছে।

হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য বাসেম নাঈম এএফপিকে বলেন, ‘নেতানিয়াহু ও তাঁর সরকারকে রোডম্যাপ মেনে চলতে বাধ্য করতে মধ্যস্থতাকারী ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চাপের অপেক্ষায় রয়েছি।’