বাসস
  ১৩ আগস্ট ২০২৬, ১৮:১৭

সুদানের রাজধানী খার্তুমে টানা দ্বিতীয় দিন আধাসামরিক বাহিনীর ড্রোন হামলা

ঢাকা, ১৩ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস): সুদানের রাজধানী খার্তুমে বৃহস্পতিবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো আধাসামরিক বাহিনী ড্রোন হামলা চালিয়েছে।  এএফপির সংবাদদাতা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা এ তথ্য জানান।

২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানে যুদ্ধ চলছে। দেশটির সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহানের নেতৃত্বাধীন সেনাবাহিনী এবং তার সাবেক উপ-প্রধান মোহাম্মদ হামদান দাগলোর নেতৃত্বাধীন আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর মধ্যে এ যুদ্ধ চলছে।

খার্তুম থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

সর্বশেষ হামলার এক দিন আগে আরএসএফ সমন্বিতভাবে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা চালায়। এতে সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা কয়েক শত কিলোমিটার দূরের পাঁচটি শহরকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

বৃহস্পতিবার রাজধানীতে এএফপির সংবাদদাতা জানান, খার্তুমের যমজ শহর ওমদুরমান থেকে বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। এরপর বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, ‘সামরিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মিলিশিয়াদের ড্রোন মোকাবিলা করে সেগুলো ভূপাতিত করেছে।’

খার্তুমের কেন্দ্রীয় অংশ এবং নীল নদের ওপারে খার্তুম নর্থের প্রত্যক্ষদর্শীরাও আকাশে ড্রোন দেখতে পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তারা বিস্ফোরণের শব্দও শুনেছেন।

দেশজুড়ে ত্রাণকর্মীদের হিসাবে ২ লক্ষাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘ এই সংঘাতকে ‘নৃশংসতার যুদ্ধ’ বলে অভিহিত করেছে। সংঘাতের কারণে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্ষুধা ও বাস্তুচ্যুতি সংকটও তৈরি হয়েছে।

একসময় মিত্র ছিলেন বুরহান ও দাগলো। ক্ষমতার তীব্র দ্বন্দ্বে তাদের মধ্যে সম্পর্ক ভেঙে যায়। যুদ্ধের বেশিরভাগ সময় তারা অনেকটা অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছেন।

সিদ্ধান্তমূলক সামরিক সুবিধা অর্জনের চেষ্টা করতে গিয়ে তারা আলোচনা করতে রাজি হননি।

গত বছর আরএসএফ বিশাল পশ্চিমাঞ্চলীয় দারফুর অঞ্চলের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ সুসংহত করে। এরপর তারা দক্ষিণাঞ্চলীয় কোরদোফান অঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ইথিওপিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকার দখল নেওয়ার চেষ্টা চালায়।

সেনাবাহিনী সুদানের মধ্যাঞ্চল, উত্তর ও পূর্বাঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে। গত মাসে তারা কোরদোফানে বড় ধরণের জয় পায়। রাজধানীর দিকে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ একটি মহাসড়ক থেকে আরএসএফকে হটিয়ে দেয় তারা।

এর পর দাগলো বলেন, তিনি তার যোদ্ধাদের ‘মুক্ত করে দেবেন।’ এসব যোদ্ধার বিরুদ্ধে গণহত্যাসহ যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ রয়েছে। এরপর থেকে তার বাহিনী বারবার বড় ধরণের পাল্টা হামলার হুমকি দিয়ে আসছে।