শিরোনাম

ঢাকা, ১৯ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : আধুনিক দাসত্ব ঠেকাতে বড় কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে ফৌজদারি দায়বদ্ধতা আরোপ করতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। এ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য শুল্ক আরোপের হুমকির কয়েক সপ্তাহ পর, বৃহস্পতিবার দেশটির প্রধান আইন কর্মকর্তা এ ঘোষণা দেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল মিশেল রোল্যান্ড বলেন, নতুন আইনের আওতায় ১০ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলারের (প্রায় ৭ কোটি মার্কিন ডলার) বেশি বার্ষিক আয়ের কোম্পানিগুলো তাদের অস্ট্রেলিয়ার বাইরের সরবরাহ শৃঙ্খলে আধুনিক দাসত্ব, জোরপূর্বক শ্রম ও ঋণদাসত্ব প্রতিরোধে ব্যর্থ হলে, তা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
সিডনি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার মানুষ যথার্থভাবেই আশা করেন যে তারা যে পণ্য কিনছেন, তা যেন আধুনিক দাসত্বের ওপর নির্ভর করে তৈরি না হয়।’
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর (ইউএসটিআর) জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থতার অভিযোগে অস্ট্রেলিয়াসহ ৬০টি দেশকে অতিরিক্ত শুল্কের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।
তবে অস্ট্রেলিয়া সরকার এই পদক্ষেপকে ‘সম্পূর্ণ অযৌক্তিক’ আখ্যা দিয়ে জানায়, তাদের নিজস্ব আধুনিক দাসত্ববিরোধী কঠোর আইন রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার দূতাবাস এর প্রতিবাদ জানায়।
গত বছর অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ আধুনিক দাসত্ব ও মানবপাচার-সংক্রান্ত ২৮০টি অভিযোগ তদন্ত করেছে।
অস্ট্রেলিয়া সরকার তাদের আট বছর আগের 'মডার্ন স্লেভারি অ্যাক্ট' (আধুনিক দাসত্ব আইন) সংশোধন করে কোম্পানিগুলোর জন্য সরবরাহ শৃঙ্খলে দাসত্ব প্রতিরোধে আইনি বাধ্যবাধকতা চালু করেছে. নতুন সংস্কারের ফলে, ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি বার্ষিক আয় করা কোম্পানিগুলো যদি তাদের কার্যক্রমে আধুনিক দাসত্ব প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের ফৌজদারি অপরাধের মুখোমুখি হতে হবে।
প্রস্তাবিত নতুন আইনের অধীনে, কোনো কোম্পানি যদি প্রমাণ করতে পারে যে তারা দাসত্ব প্রতিরোধে যুক্তিসংগত পদক্ষেপ নিয়েছে, তাহলে সেটি তাদের পক্ষে আইনি প্রতিরক্ষা হিসেবে বিবেচিত হবে।
এ ছাড়া আধুনিক দাসত্ব আইনের আওতায় বিদ্যমান বাধ্যবাধকতা পূরণে ব্যর্থ কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে দেওয়ানি জরিমানার ব্যবস্থাও চালু করবে অস্ট্রেলিয়া।