শিরোনাম

ঢাকা, ১৪ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : ইউক্রেনের হামলা তীব্র হওয়ায় আজভ সাগরে বিকল্প নৌপথের পরিকল্পনা করছে রাশিয়া। একই সঙ্গে ওই সাগরে জাহাজ চলাচলও সীমিত করা হতে পারে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছে মস্কো।
এদিকে কিয়েভ দাবি করেছে, গত নয় দিনে তারা সেখানে শতাধিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে।
আজভ সাগর রাশিয়ার মূল ভূখণ্ড, মস্কোর দখলে থাকা ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চল ও রাশিয়া অধিভুক্ত ক্রিমিয়ার মাঝখানে অবস্থিত।
এটি কৃষিপণ্য রপ্তানির একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ।
এর মধ্যে দিয়ে দখলকৃত ইউক্রেন থেকে নেওয়া শস্য রপ্তানি করা হয় এবং এই শস্যগুলোকে কিয়েভ ‘চুরি করা’ শস্য বলে অভিহিত করেছে।
এছাড়া ক্রিমিয়ায় সরবরাহ পাঠানোর ক্ষেত্রেও এ পথ গুরুত্বপূর্ণ।
সমুদ্রপথে এসব হামলার পাশাপাশি ইউক্রেন রাশিয়ার গভীরে দূরপাল্লার ড্রোন হামলাও ব্যাপকভাবে জোরদার করেছে। এতে দেশজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।
রাশিয়ার কৃষি মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গে সমন্বয় করে বর্তমানে ‘বিকল্প নৌপথ নির্ধারণের কাজ চলছে।’
তবে তারা জোর দিয়ে বলেছে, রপ্তানি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘আজভ সাগরের পরিস্থিতি দেশের অভ্যন্তরীণ খাদ্য সরবরাহ বা রপ্তানি সক্ষমতার ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না।’
প্রয়োজন হলে সরবরাহ ব্যবস্থার পথ পরিবর্তন করা হবে বলেও জানানো হয়।
রাশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় জানায়, আজভ সাগরে বেসামরিক জাহাজে শত্রুপক্ষের হামলা বেড়ে যাওয়ায় পণ্য পরিবহন নির্বিঘ্ন রাখতে ‘সব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা’ নেওয়া হচ্ছে।
তারা আরও জানিয়েছে, ‘প্রয়োজনে’ কিছু পণ্য অন্য পরিবহন ব্যবস্থায় সরিয়ে নেওয়া হবে।
ইউক্রেনের ড্রোন বাহিনীর কমান্ডার মঙ্গলবার দাবি করেন, গত নয় দিনে ইউক্রেন ‘১১৬টি জাহাজে হামলা’ চালিয়েছে। এর মধ্যে আজভ সাগরে থাকা কয়েকটি তেলবাহী ও পণ্যবাহী জাহাজও রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এর উদ্দেশ্য রাশিয়ার ‘ছায়া নৌবহর’ ক্ষতিগ্রস্ত করা ও মস্কোর নিয়ন্ত্রণাধীন ক্রিমিয়ায় রাশিয়ার জ্বালানি সরবরাহ সীমিত করা।